Bartaman Logo
৩১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ভূমিধসের আগাম সতর্কতায় বাজবে মোবাইল অ্যালার্ম, নেপাল থেকে শিক্ষা, তৎপর নবান্ন

নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানে এখনও পর্যন্ত প্রাণ গিয়েছে সাতশোর বেশি মানুষের। এই দুর্যোগ থেকে শিক্ষা নিয়ে রাজ্যের পার্বত্য এলাকার মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তৎপরতা বাড়াল নবান্ন।

ভূমিধসের আগাম সতর্কতায় বাজবে মোবাইল অ্যালার্ম, নেপাল থেকে শিক্ষা, তৎপর নবান্ন
  • ৩১ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

প্রীতেশ বসু, কলকাতা: নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানে এখনও পর্যন্ত প্রাণ গিয়েছে সাতশোর বেশি মানুষের। এই দুর্যোগ থেকে শিক্ষা নিয়ে রাজ্যের পার্বত্য এলাকার মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তৎপরতা বাড়াল নবান্ন। নেপালের দুর্যোগের সঙ্গে দার্জিলিং, কালিম্পং, কার্শিয়াংয়ের কোনো যোগ না থাকলেও রাজ্যের এসব এলাকায় ভূমিধসের সতর্কবার্তা দেওয়ার ব্যবস্থাপনা চালু করছে রাজ্য। এই ব্যবস্থাপনা চালু হলে পাহাড়ের যে এলাকায় ভূমিধসের সম্ভাবনা থাকবে, তার কয়েক কিলোমিটার ব্যাসযুক্ত এলাকার প্রত্যেকের মোবাইল ফোনে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতেই বেজে উঠবে এলার্ম। একইসঙ্গে মোবাইলের স্ক্রিনে তাঁরা দেখতে পাবেন এলার্ম বাজার কারণ। তাতে লেখা থাকবে, পরবর্তী আধ ঘণ্টা থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে কোন এলাকায় ভূমিধসের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই মুহূর্তে তাঁদের কী করা উচিত, তাও বলা থাকবে সেই বার্তায়।

Advertisement

সূত্রের খবর, এই প্রকল্পের জন্য ইতিমধ্যে জিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার (জিএসআই) সঙ্গে ‘মউ’ স্বাক্ষর হয়েছে রাজ্য সরকারের। কীভাবে কাজ করবে এই সিস্টেম? প্রশাসনিক মহলের ব্যাখ্যা, একটি এলাকার বৃষ্টিপাতের পরিমাপ, মাটির আর্দ্রতাসহ নির্দিষ্ট এলাকার আবহাওয়া যাচাই করে ‘রিয়েল টাইম’ ভূমিধসের পূর্বাভাস দেওয়া হবে। একই সঙ্গে অতীত তথ্য ঘেঁটে ধসপ্রবণ এলাকাগুলি আগে থেকে চিহ্নিত করে রাখা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, এই প্রকল্পের জন্য পাহাড়ে বাড়ানো হবে ‘ওয়েদার স্টেশন’-এর সংখ্যা।
নবান্ন সূত্রে খবর, চলতি বছরেই ক্যাপ শ্যাচেট প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সেল ব্রডকাস্টিং ব্যবস্থাপনা চালু হয়েছে। এর মাধ্যমে বিপর্যয়ের পূর্বাভাস থাকলে নির্দিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের মোবাইল ফোন এলার্ম বাজানো এবং সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। 
আরও একটি পদক্ষেপ করছে রাজ্য। ভূমিধসের কারণে কোনো ব্যক্তি আটকে পড়লে তাঁদের উদ্ধার করতে বিপর্যয় মোকাবিলা ভলান্টিয়ারের সংখ্যা বৃদ্ধির পদক্ষেপ করা হচ্ছে। রাজ্য প্রশাসনের বক্তব্য, পাহাড়ি এলাকায় বাড়ি, হোটেল এবং অন্যান্য নির্মাণের সংখ্যা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে পর্যটকের সংখ্যাও। সেক্ষেত্রে ভূমিধসে প্রাণহানি থেকে শুরু করে সম্পত্তি নষ্টের আশঙ্কাও বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অবস্থায় সাধারণ মানুষকে আগেভাগে সতর্ক করে তাঁদের প্রাণরক্ষা করতে এই উদ্যোগ। এই প্রকল্প পর্যটকদের জন্যও প্রয়োজনীয় কার্যকরী হবে। তাঁরা যে এলাকায় যাবেন, সেখানকার ভূমিধসের ইতিহাস আগেভাগেই জেনে নিতে পারবেন। আবার ভূমিধসের কারণে কোনো পাহাড়ি রাস্তা আটকে যাবে কি না, যাত্রা শুরুর আগে তাও জেনে নিতে পারবেন পর্যটক।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ