Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে যৌন নির্যাতনের প্রমাণ মিলল না

ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে যৌন নির্যাতনের প্রমাণ মিলল না
  • ২৮ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: ময়নাতদন্তে স্বেচ্ছায় শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রমাণ মিললেও ভীমপুরের ছাত্রীকে জোরপূর্বক যৌন নির্যাতন কিংবা ধর্ষণের কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বুধবার রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর এমনটাই দাবি করেছেন তদন্তকারীরা। 
Advertisement
গত সপ্তাহে ভীমপুরের নবম শ্রেণির নাবালিকা ছাত্রীকে খুন করে খালপাড়ে পুঁতে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। মূল অভিযুক্ত হিসেবে ধরা পড়ে তার প্রেমিক ফারুক মণ্ডল। ঘটনার প্রথম থেকেই ছাত্রীর পরিবার অভিযোগ তুলে আসছিল, বাড়ি থেকে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে খুন করা হয়েছে। খুনের আগে একাধিকজন যৌন নির্যাতনও চালায় বলে অভিযোগ। পুলিস অপেক্ষা করেছিল ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার। এদিন প্রাথমিক রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর তদন্তকারী অফিসাররা মোটমুটি নিশ্চিত, ছাত্রীর উপর জোরপূর্বক যৌন নির্যাতন করা হয়নি। গণধর্ষণের মতো ঘটনাও ঘটেনি। তবে, ধৃত প্রেমিক ও ছাত্রীটি স্বেচ্ছায় শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছিল। পাশাপাশি একজনের পক্ষে এই খুন করা সম্ভব বলেও ইঙ্গিত মিলেছে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে। কিছুদিনের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট আসবে বলে পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে। তখন বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে বলে মত অফিসারদের। 
কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার এক আধিকারিক বলেন, ‘ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে ধর্ষণের কথা বলা হয়নি। তবে আমরা পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছি। কিছুদিনের সেই রিপোর্ট আসবে। তখন তদন্তের গতি আরও বাড়বে।’ 
ভীমপুরের নারায়নপুর এলাকায় ওই ছাত্রী খুনের ঘটনাটি ঘটে। জেলাজুড়ে ব্যাপক শোরগোল পড়ে।‌ ঘটনায় পুলিস ইতিমধ্যেই ছাত্রীর প্রেমিক ফারুককে গ্রেপ্তার করেছে। তাকে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাতে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে ওই ছাত্রী ফারুকের সঙ্গে পালিয়ে যেতে চেয়েছিল। কারণ, ছাত্রীর পরিবারের তরফে বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়। তাতে মত ছিল না ছাত্রীটির। গত বৃহস্পতিবার রাতে ফারুক একটা হাফপ্যান্ট পরে নারায়নপুর থেকে ডিঙা নিয়ে খাল পার করে আদাপোতায় ওই ছাত্রীর বাড়িতে যায়। তারপর দু’জনে একসঙ্গে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে। ছাত্রী বেরিয়ে আসার সময় কিছু জামা কাপড় ভর্তি ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে এসেছিল। সেই ব্যাগটি পুলিস উদ্ধার করে। রাতেই খাল পার হয় দু’জনে। তারপর শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। ফারুক এভাবে পালিয়ে যাওয়া নিয়ে আপত্তি জানায়। সেইসময় ছাত্রীটি নাকি আত্মহত্যার হুমকি দেয়। তাতেই মেজাজ বিগড়ে গিয়ে প্রেমিকাকে খুন করে বসে ফারুক। পুলিসি জেরায় এমনটাই জানিয়েছে সে। ছাত্রীর গলায় ফাঁস দিয়ে খুন করেছে বলে স্বীকারও করে নিয়েছে ফারুক। 
ছাত্রীর পরিবারের তরফে বারবার গণধর্ষণের অভিযোগ ওঠায় পুলিস কোনও ঝুঁকি নিতে চায়নি। ফলে, শক্তিনগর হাসপাতালে ছাত্রীর দেহের ময়নাতদন্ত না করিয়ে কল্যাণী জেএনএম হাসপাতালে করানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মঙ্গলবার রাতে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট আসে পুলিসের কাছে। তাতেই জোরপূর্বক যৌন নির্যাতন বা ধর্ষণের অভিযোগকে নস্যাৎ করা হয়। কারণ, ছাত্রীর শরীরে ধস্তাধস্তির কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে, দু’জনের মধ্যে স্বেচ্ছায় শারীরিক সম্পর্ক হয়েছিল। 
তবে, ঘটনাস্থলে আর কেউ ছিল কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর মেলেনি এখনও। ছাত্রীকে খুনের ধরণ ও ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট বলছে, একজনের পক্ষে এই খুন করা সম্ভব। তবে পুলিস ঘটনার দিন ফারুক যে সমস্ত বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলেছিল, তাদেরকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হচ্ছে। বন্ধুদের জেরা করে ঘটনাস্থলে আর কেউ উপস্থিত ছিল কি না, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
সম্পর্কিত সংবাদ