Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মানুষ-বন্যপ্রাণী সংঘাত রোধে বনবস্তিতে শিবির শুরু বনদপ্তরের

মানুষ-বন্যপ্রাণী সংঘাত রোধে বনবস্তিতে শিবির শুরু বনদপ্তরের
  • ২৮ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: ফসলের লোভে জলদাপাড়া লাগোয়া বনবস্তি ও চা বাগানগুলিতে হাতির আনাগোনা বেড়েছে। শীত পড়তেই শাবক নিয়ে চা বাগানে আশ্রয় নিচ্ছে চিতাবাঘও। তাতে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যে সংঘাত বাড়ছে। বাড়ছে জীবনহানি, বাড়িঘর ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা। এই  সংঘাতে রাশ টানতে জলদাপাড়া বন বিভাগ কর্তৃপক্ষ এবার অভিনব উদ্যোগ নিল। জাতীয় উদ্যান লাগোয়া প্রায় ৫০টি সরকারি বেসরকারি স্কুলের পড়ুয়া, নয়টি বনবস্তি ও ১৪টি চা বাগানের বাসিন্দাদের নিয়ে সচেতনতা শিবির করছে তারা। প্রতিদিন কোনও না কোন স্কুল, বাগান বা বনবস্তিতে এই শিবির হবে। আজ ফের শিবির বসার কথা। এই ব্যাপারে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের সহকারী বন্যপ্রাণী সংরক্ষক নভজিৎ দে বলেন, মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যে সংঘাত কমাতেই এই সচেতনতা শিবির করার উদ্যোগ নিয়েছি আমরা। টানা এক বছর ধরে এই সচেতনতা শিবির চলবে।
Advertisement
এই সচেতনতা শিবিরে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান কর্তৃপক্ষ সবচেয়ে বেশী গুরুত্ব দিচ্ছে জঙ্গলের ধারে বসে মোবাইল ফোনে বুঁদ হয়ে না থাকার উপর। শিবিরে সতর্ক করা হচ্ছে জঙ্গলের ধারে বসে যাতে কেউ মোবাইল ফোনে বুঁদ হয়ে না থাকেন। কারণ এতে হাতি বা চিতাবাঘ চলে এলেও কেউ টের পান না। শিবিরে বারণ করা হচ্ছে জঙ্গলের ধারে একা কেউ যেন না ঘোরেন।  জঙ্গলের ধারে দলবদ্ধ হয়ে ঘুরতে হবে। শিবিরে পড়ুয়া ও বাসিন্দাদের বলা হচ্ছে, সন্ধ্যার সময় বাড়ির বাইরে শিশুদের কোনভাবেই ছাড়া চলবে না। কারণ, চিতাবাঘের সব সময় টার্গেট থাকে শিশুদের দিকে। বয়স্করা যাতে কেউ জঙ্গলের পাশে শৌচকর্ম না করে তা নিয়েও সতর্ক করা হচ্ছে। প্রতিটি শিবিরে বাসিন্দাদের এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। বাসিন্দাদের এলাকায় থাকা ঝোঁপঝার সম্পূর্ণভাবে কেটে ফেলার কথাও বলা হচ্ছে। ঘরের বারান্দায় কোনভাবেই যেন হাঁস, মুরগী বা ছাগল রাখা না হয়। কারণ ছাগল বা হাঁস মুরগীর লোভে চিতাবাঘ হানা দিলে এখানেই মানুষের সঙ্গে বন্যপ্রাণীর বেশী করে সংঘাত ঘটে যায়। শিবিরে বাসিন্দাদের বাড়িতে হাঁড়িয়া ও চোলাই না রাখার কথাও বলা হয়েছে। কারণ, হাঁড়িয়ার লোভেও হাতিরা লোকালয়ে হানা দেয়।
সম্পর্কিত সংবাদ