নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: সম্পর্কের গভীর বন্ধন আলগা হয়ে যাচ্ছে। উচ্চাশা, অবসাদ, পারিবারিক কলহ, প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা মানসিক সমস্যা বাড়িয়ে দিচ্ছে। শহরের ছোঁয়া এসে লাগছে গ্ৰামীণ স্তরেও। গ্ৰামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মানসিক রোগীর ভিড় বাড়ছে। দাম্পত্য কলহে শিশুরা নানা ধরনের মানসিক রোগের শিকার হচ্ছে। ঝাড়গ্রামের স্বাস্থ্যদপ্তরের আধিকারিকরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
Advertisement
ঝাড়গ্রামের অধিকাংশ মানুষ গ্ৰামীণ এলাকায় বসবাস করেন। অরণ্য এলাকার মানুষের জীবন যাপন ছিল সহজ সরল। আধুনিক সময়ের হাত ধরে যার বদল ঘটছে। জেলার প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের পুষ্টিগত অভাবের সমস্যা ছিল। সরকারি উদ্যোগে সেই সমস্যার সমাধান অনেকটাই করা সম্ভব হয়েছে। গ্ৰামীণ এলাকার মানুষের গোষ্ঠীবদ্ধ জীবনে এতদিন মানসিক সমস্যার প্রভাব বেশি দেখা যায়নি। আধুনিক জীবন যাপনের অভ্যাস বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই সমস্যা বাড়ছে। জেলাজুড়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তর মানসিক স্বাস্থ্য কর্মসূচির কার্যক্রম চালাচ্ছে। ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সঙ্গে গ্ৰামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতেও এখন মানসিক চিকিৎসার পরিষেবা পাওয়া যাচ্ছে। বিনপুর-১ ব্লকের বিনপুর গ্ৰামীণ হাসপাতাল, বিনপুর-২ ব্লকের বেলপাহাড়ী গ্ৰামীণ হাসপাতাল, জামবনি ব্লকের চিল্কিগড় গ্ৰামীণ হাসপাতাল, গোপী বল্লভপুর-১ ব্লকের গোপীবল্লভপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, গোপীবল্লভপুর-২ ব্লকের তপসিয়া রুরাল হাসপাতাল, সাঁকরাইল ব্লকের ভাঙাগড় গ্ৰামীণ হাসপাতাল, নয়াগ্ৰাম ব্লকের নয়াগ্ৰাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, ঝাড়গ্রাম সদর এলাকার মোহনপুর গ্ৰামীণ হাসপাতালে মানসিক সমস্যায় আক্রান্তদের ভিড় বাড়ছে। প্রত্যেক মাসের নির্দিষ্ট দিন গ্ৰামীণ হাসপাতালগুলোতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের টিম পৌঁছে যাচ্ছে। টিমে একজন মনোবিদ, সাইকিয়াট্রিক সোশ্যাল ওয়ার্কার্স, সাইকিয়াট্রিক নার্স, কমিউনিটি নার্স ও মেডিক্যাল রেকর্ড সংরক্ষক থাকছেন। স্থানীয় আশাকর্মীদেরও সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালে আসতে না চাওয়া ব্যক্তিরা ১৪৪১৬ টোল ফ্রি নাম্বারে ফোন করে নিজেদের সমস্যার কথা এখন বলতে পারছেন। কাউন্সেলিংয়ের সঙ্গে ওষুধেরও ব্যবস্থা করা হচ্ছে। জেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের মেডিক্যাল রেকর্ড সংগ্ৰহক সুদীপ পাল এদিন বলেন, এই ধরনের রোগ আর শুধু শহরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। গ্ৰামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতেও মানসিক রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গ্ৰামীণ এলাকার মানুষ নানা ধরনের মানসিক রোগের সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে আসছেন। সিজোফ্রেনিয়া, টেনশন, আত্মহত্যা প্রবণতার সমস্যা বেশি মাত্রায় দেখা দিচ্ছে। শিশুদের বাইপোলার সমস্যাও বাড়ছে। গত কয়েক বছরে সংখ্যাটা উত্তোরত্তর বেড়েছে। ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ নন্দলাল মাল বলেন, ঝাড়গ্রামের মানুষ দীর্ঘকাল ধরে যৌথ ও গোষ্ঠীবদ্ধ জীবনযাত্রায় অভ্যস্থ ছিলেন। সেই জীবনযাত্রার বদল ঘটছে। আধুনিক গতিময় ও প্রযুক্তি নির্ভর সময়ের প্রভাব গ্ৰাস করছে। গ্ৰামীণ এলাকার মানুষও এখন নানা ধরনের মানসিক রোগের শিকার হচ্ছেন। আমাদের কাছে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের শিশুদের বাইপোলার ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা। যার পিছনে বড় কারণ দাম্পত্য কলহ। বাবা মায়েদের কাউন্সেলিং করা হচ্ছে। শিশুদের মেডিসিনের আওতায় আনতে হচ্ছে। জেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের তরফে নানা কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। শরীরের মতো মনের রোগেরও চিকিৎসা হয়। সেটা প্রচার করা হচ্ছে।



