Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মিনারুল-বিপ্লবের জোটবন্ধনে এবিটির জাল বিস্তার নদীয়াতেও!

মিনারুল-বিপ্লবের জোটবন্ধনে এবিটির জাল বিস্তার নদীয়াতেও!
  • ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: নিজের জমিতে জলের পাম্প সেট লাগানোর জন্য এবিটির সক্রিয় সদস্য মিনারুলের সঙ্গে পরিচয় হয় থানারপাড়ার বিপ্লবের। বছর চারেক আগে চাষের সুবিধার জন্য বিপ্লব মিনারুলের কাছ থেকে একটি পাম্প কেনে। বহরমপুরে এসে পাম্প কিনে থানারপাড়ায় বিপ্লবের জমিতে বসিয়ে দিয়ে আসে মিনারুল। বছরখানেক আগে বিপ্লবের পাম্প খারাপ হয়ে যায়। সেটি সারাই করতে মিনারুলকেই ডেকে পাঠানো হয়েছিল। হরিহরপাড়া থেকে বাইক নিয়ে থানারপাড়ায় পৌঁছয় সে। পাম্প সারাই করে দেওয়ার পরও একাধিকবার মিনারুলের সঙ্গে ফোনে কথোপকথন হয়েছে বিপ্লবের। সেই কথোপকথনের সূত্র ধরেই তদন্তকারীরা আনসারুল্লা বাংলা টিমের জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগসূত্র পেয়েছে বিপ্লবের। থানারপাড়ার বাসিন্দা বিপ্লবকে অবশ্য এবিটি সংগঠনের সদস্যরা আব্দুল্লা নামেই চেনে। এই আব্দুল্লার সূত্র ধরেই নদীয়াতে বারবার যাতায়াত করেছিল হরিহরপাড়ার মিনারুল। কোথায় কোথায় গিয়েছিল সে এবং সেখানে এই সংগঠনের কতটা বিস্তার হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী আধিকারিকরা। 
Advertisement
বৃহস্পতিবারই বহরমপুর আদালতে তুলে হরিহরপাড়ার মিনারুল শেখ, আব্বাস আলি ও শাদ রবির ভয়েস স্যাম্পেল পরীক্ষা করার জন্য অনুমতি চাওয়া হয়। এসটিএফের সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে আদালত। ফোনের কথোপকথনের সেই ভয়েস স্যাম্পেল এর সঙ্গে ধৃত জঙ্গিদের গলার ভয়েসের ফরেন্সিক পরীক্ষা হবে। তারপর থানারপাড়ার বিপ্লবেরও ভয়েস টেস্ট করা হতে পারে। 
গোয়েন্দা দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বিপ্লবের সঙ্গে মিনারুলের ফোনের এক একটি কথোপকথনের ডিউরেশান ৮ থেকে ১০ মিনিট। সেই কথোপকথনের ভয়েস স্যাম্পেল খতিয়ে দেখছে এসটিএফ আধিকারিকেরা। এমনকী মিনারুলের সঙ্গে যে বিপ্লবের দীর্ঘক্ষণ কথা হয়েছে, তা স্বীকার করে নিয়েছে বিপ্লবের পরিবারের লোকেরাও। 
বিপ্লবের এক আত্মীয় থাকেন মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়ায়। তার সূত্র ধরেই মিনারুলের সঙ্গে বিপ্লবের পরিচয় হয়। ওই আত্মীয় বলেন, মাত্র ১০ মিনিটের একটা ফোন কলের জন্য আজ এই ভোগান্তি। বিপ্লব সাদামাটা ছেলে। ও চাষাবাদ করে। জমিতে সেচের জন্য পাম্প কেনার জন্যই মিনারুলের সঙ্গে ওর পরিচয় হয়। তারপর সেই পাম্প সারাই করতে হরিহরপাড়া থেকে থানারপাড়াতেও গিয়েছিল মিনারুল। এরপর ও কোথায় গিয়ে কী করেছে, সেটা তো বিপ্লব জানে না। তাহলে ওকে কেন ফাঁসানো হচ্ছে। পাম্প সারাইয়ের পর হয়তো এক দুবার মিনারুলের সঙ্গে ফোনে বিপ্লব কথা বলেছে। সেই ফোনের জন্যই ওকে ধরা হয়েছে।
তবে গোয়েন্দারা নিশ্চিত, বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠন আনসারউল্লা বাংলা টিমের জাল ছড়িয়েছে নদীয়াতে। কারণ, মুর্শিদাবাদ থেকে জঙ্গি যোগে গ্রেপ্তার হওয়া মিনারুল শেখ ও আব্বাস আলিরা জেহাদি প্রশিক্ষণের জন্য যে নিষিদ্ধ সংগঠনের বই ব্যবহার করত, সেই বই তারা বিপ্লবের কাছ থেকে পেয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বৃহস্পতিবার কলকাতার এসটিএফ অফিসে বিপ্লবকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠানো হয়। তারপর সেখান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই নিষিদ্ধ বই কোথা থেকে বিপ্লব পেয়েছিল, তা জানতে উঠেপড়ে লেগেছেন গোয়েন্দারা। ওই বইয়ের সূত্র ধরেই হয়তো এবিটি সংগঠনের আরও চাঁইদের কাছে পৌঁছানো যাবে বলেই আশা করছে এসটিএফের সন্ত্রাস দমন শাখার গোয়েন্দারা। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ