Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মানিকচক ঘাট থেকে দ্রুত দোকান সরাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা

মানিকচক ঘাট থেকে দ্রুত দোকান সরাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা
  • ২০ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, মানিকচক: কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ওলটপালট হয়ে গেল মানিকচক ঘাটের ব্যবসায়ীদের জীবন। সোমবার রাত ন’টায় দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরেছিলেন দোকানদাররা। গভীর রাতে খবর এল, দোকান সহ সমস্ত সামগ্রী গিলে নিয়েছে গঙ্গা। মানিকচক ঘাটে হঠাৎ এই ভাঙনে সর্বস্বান্ত প্রায় ২৫টি দোকান মালিক। কোথায় যাবেন, কী করবেন, কিছুই বুঝে উঠতে পারছেন না তাঁরা। সাহায্য প্রার্থনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে।
Advertisement
বাংলা ও ঝাড়খণ্ডের সীমানায় মানিকচক ঘাট। গঙ্গা পারাপারের মাধ্যম বলতে নৌকা এবং লঞ্চ। প্রতিদিন ২৫টি নৌকা এবং তিনটি লঞ্চে হাজার হাজার যাত্রী পারাপার করেন। গত দশ বছর ধরে ঘাট সংলগ্ন এলাকায় ভাঙন না হওয়ায় বেড়েছে বসতি ও দোকানের সংখ্যা। গঙ্গায় স্নান করতেও মালদহ এবং পার্শ্ববর্তী জেলার বিভিন্ন প্রান্তের পুণ্যার্থীরা উপস্থিত হন মানিকচক ঘাটে। যার ফলে প্রতিদিন কয়েক লক্ষ টাকার কেনাবেচা হয় এখানে। বেশিরভাগ দোকানই খাবারের। এমন কয়েকটি দোকানের মালিক হলেন নন্দলাল চৌধুরী, পাতাসিয়া চৌধুরী এবং শেখ রিয়াজুলরা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁরা দোকান চালান। সোমবার বিক্রি শেষে পরের দিনের জন্য সামগ্রী তৈরি করে নিশ্চিন্তে বাড়ি ফিরেছিলেন অনেকে। মাঝরাতে প্রায় ২০০ মিটারের বেশি এলাকা জুড়ে ভাঙনে তলিয়ে গিয়েছে তাঁদের দোকান। কিছু ব্যবসায়ী দোকানেই ঘুমিয়ে থাকতেন। ভাঙনের শব্দে ঘুম ভাঙার পর তাঁরা কোনওরকমে প্রাণ বাঁচিয়ে দোকান ছেড়ে পালান। সোমবার রাত বারোটা থেকে শুরু করে মঙ্গলবার সকাল সাতটা পর্যন্ত চলে ভাঙন। নদী তীরবর্তী এলাকায় দেখা যায় বিশাল ফাটল তৈরি হয়েছে। ফলে আরও ভাঙন হতে পারে বলে মনে করছেন বাসিন্দারা।
নন্দলাল বলেন, জলখাবারের দোকান চালাই। রাতে ছোলা, মটর ভিজিয়ে ময়দা মাখিয়ে রেখেছিলাম। খুব সকালে দোকানে আসতে হয় বলে রাতেই সব তৈরি করে রাখি। গভীর রাতে গঙ্গা ভাঙনের খবর পেয়ে মাথায় যেন বজ্রাঘাত হয়। ঘাটে গিয়ে দেখি কিছু আর অবশিষ্ট নেই। একই অবস্থা পাতাসিয়া চৌধুরীর। তাঁর কথায়, নারায়ণপুর চরে ভাঙনের হাত থেকে বাঁচতে এপারে এসেছিলাম। সাত বছর ধরে নদীর ধারে অস্থায়ী চায়ের দোকান করে সংসার চালায়। জানি না এরপর কীভাবে পরিবারের লোকদের জন্য খাবার জোগার করব।হঠাৎ গঙ্গা ভাঙনের ফলে আতঙ্ক ছড়িয়েছে মানিকচক ঘাট এলাকায় অন্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে। তাঁরা মঙ্গলবার সকাল থেকেই দোকান ভেঙে সামগ্রী খুলে নিয়ে যেতে শুরু করেছেন। ২১ বছর ঘাটের ধারে হোটেল চালাচ্ছেন রিয়াজুলরা। তিনি বলেন, বাবার মৃত্যুর পর আমি হোটেল দেখাশোনা শুরু করি। এই দোকানই রোজগারের একমাত্র ভরসা। কিন্তু হোটেল জলের তলায় চলে যাওয়ায় সর্বনাশ হয়েছে। আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য যদি মুখ্যমন্ত্রী সাহায্য করেন, তাহলে খুবই উপকার হবে সবার।
সম্পর্কিত সংবাদ