Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মঙ্গলকোটের হাইস্কুলে পিঠে, পাটিসাপ্টা তৈরির পাঠ শিক্ষিকাদের

মঙ্গলকোটের হাইস্কুলে পিঠে, পাটিসাপ্টা তৈরির পাঠ শিক্ষিকাদের
  • ৮ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, কাটোয়া: ছাত্রীদের পিঠেপুলি তৈরি শেখাল মঙ্গলকোটের কৈচর ষোড়শীবালা বালিকা বিদ্যালয়। মঙ্গলবার স্কুলের শিক্ষিকারা ছাত্রীদের নানা স্বাদের পিঠে, পাটিসাপটা তৈরি করা শেখান। শেষে সবাই একসঙ্গে পিঠে খেলেন। 
Advertisement
‘তিথি ভোজন’ প্রকল্পে স্কুলে পড়ুয়াদের হাতেকলমে পিঠে তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া হল। আগে থেকেই চাল গুঁড়িয়ে রেডি করে রাখা ছিল। বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে পড়ুয়ারা কেউ দুধপিঠে, কেউ সিদ্ধপিঠে, কেউ বা পাটিসাপটা তৈরি করল। কীভাবে বানাতে হয় তাও তারা শিখল। অনেকেই বলছে, আমরা মাকে তৈরি করতে দেখি, কিন্তু নিজেরা তৈরি করতে শিখে খুব আনন্দ হচ্ছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা গার্গী সামন্ত বলেন, এখন পিঠের কথা অনেকেই প্রায় ভুলতে বসেছেন। তাই আমরা ছাত্রীদের পিঠে তৈরি করা শেখাই। ওরা নিজেরাই পুর দিয়ে পিঠে তৈরি করে। এতে খুবই আনন্দ পেয়েছে ওরা। আমাদেরও ভালো লাগল। কৈচর ষোড়শীবালা বালিকা বিদ্যালয়ে পঞ্চম থেকে দশম পর্যন্ত প্রায় ৪০০ ছাত্রী রয়েছে। আর ৯ জন স্থায়ী ও দু’ জন আংশিক সময়ের শিক্ষক রয়েছেন। একজন কম্পিউটার প্রশিক্ষকও রয়েছেন। ‘তিথি ভোজন’ প্রকল্পে সমস্ত স্কুলকেই পছন্দমতো আয়োজন করতে বলা হয়েছে। কারণ নতুন শিক্ষাবর্ষে পড়ুয়ারা আনন্দ পাবে। এদিন কৈচর স্কুলে সপ্তম, অষ্টম ও দশম শ্রেণির ছাত্রীরা পিঠে তৈরিতে অংশগ্রহণ করে। শিক্ষিকারাও স্টাফ রুমে পাটিসাপটা তৈরি করেন। তাঁরা বলছেন, নতুন প্রজন্ম পিঠে তৈরি প্রায় ভুলেই গিয়েছে। পৌষ সংক্রান্তির দিনে বাঙালি পৌষ পার্বণ পালন করে। গ্রামাঞ্চলের মহিলারা নানা স্বাদের পিঠেপুলি তৈরি করেন নলেন গুড় দিয়ে। ঢেঁকিছাঁটা চালের গুঁড়ি দিয়ে তৈরি পিঠের স্বাদ আলাদা হয়। জিভে জল আনা পুরনো দিনের সেইসব পিঠের রেসিপি হারিয়ে যাচ্ছে। আগেকার দিনে বাড়িতে ঠাকুরমারা জিভে জল নানা ধরনের পিঠে তৈরি করতেন। এদিন ছাত্রীদের সেসব তৈরি শেখানো হল। দশম শ্রেণির অর্পিতা মণ্ডল, মেঘা হাজরা, সৌমিলি গড়াই বলে, বাড়িতে মাকে দেখেছি পিঠে করতে। স্কুলে প্রথম পিঠে তৈরি করে খেলাম। এবার বাড়িতে মাকে সাহায্য করতে পারব। শিক্ষিকা মানসী মণ্ডল, জয়তী ভট্টাচার্য, মল্লিকা মণ্ডল, নবনীতা বল্লভ বলেন, এখন ধৈর্য ধরে দুধপিঠে, সরপুলি, পাটিসাপটা তৈরি করার সময় কারও নেই। তাই আমরা ছাত্রীদের পিঠে তৈরি শেখালাম। এতে পরম্পরা বজায় রইল।
সম্পর্কিত সংবাদ