Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মঙ্গলকোট-কেতুগ্রামে শাসকদলের দ্বন্দ্বে চড়ছে পারদ, নজরদারি বাড়াচ্ছে পুলিসও

মঙ্গলকোট-কেতুগ্রামে শাসকদলের দ্বন্দ্বে চড়ছে পারদ, নজরদারি বাড়াচ্ছে পুলিসও
  • ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, কাটোয়া: রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর আরও দু’টি বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে। সেখানে কেতুগ্রাম ও মঙ্গলকোটে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া বড় ধরনের কিছুই হয়নি। বিরোধী শূন্য মঙ্গলকোট ও কেতুগ্রামে এবার চড়ছে উত্তেজনার পারদ। কেতুগ্রামে বিস্ফোরণে উড়েছে শৌচালয়। মঙ্গলকোটে তৃণমূল নেতার রহস্যময় দুর্ঘটনায় আঙুল উঠেছে দলের নেতা-কর্মীদের দিকেই। সব মিলিয়ে শাসকদলের শিবিরে কোন্দল বাড়ছে। তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নজরদারি বাড়াচ্ছে পুলিসও। দুই এলাকাতেই সিসি ক্যামেরা বসানোতে জোর দিয়েছে পুলিস। 
Advertisement
কাটোয়া মহকুমার এক পুলিস আধিকারিক জানান, মঙ্গলকোট জুড়ে প্রায় ৩৫০টি সিসি ক্যামেরা বসানো রয়েছে। আর কেতুগ্রামে সিসি ক্যামেরা অল্প রয়েছে। সেখানে আরও ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ফুটিসাঁকোতে সব সময় পুলিস ভ্যান টহলদারি চালাচ্ছে। 
তৃণমূল ক্ষমতায় আসার আগেই মঙ্গলকোট ও কেতুগ্রামে বহু মানুষ খুন হয়েছেন। বোমাবাজি, বাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা ঘটেছে।  পালাবদলের পরেও খুনের রাজনীতি থামছে না। ২০১১ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত কেতুগ্রাম এলাকায় মোট ২৮ জন তৃণমূল কর্মী নৃশংসভাবে খুন হন। ২০২৩ সালের ভোটের আগের দিন রাতে কেতুগ্রামের চেঁচুড়ি গ্রামে খুন হন তৃণমূলের বুথ সভাপতি মিন্টু শেখ। পাশাপাশি ২০১৯ সালে শিমুলিয়া গ্রামে তৃণমূল নেতা ডালিম শেখকে গুলি করে খুন করা হয়।  ২০২১ সালে লাখুরিয়ার অঞ্চল সভাপতি অসীম দাসকে গুলি করে খুন করা হয়। প্রতিটি ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে, শাসকদলের নেতা-কর্মীদের নামেই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ডালিম খুনে মঙ্গলকোটের এক সময় দোর্দণ্ডপ্রতাপ প্রাক্তন জেলা পরিষদ সদস্য বিকাশ চৌধুরী পাঁচ বছরের বেশি সময় জেল খেটেছেন। মঙ্গলকোটের বিধায়ক অপূর্ব চৌধুরী বলেন, দুষ্কৃতীদের আনাগোনা এখন বেড়েছে। 
 রাজ্যজুড়ে শাসকদলের সাংগঠনিক রদবদলের আবহ তৈরি হতেই মঙ্গলকোট ও কেতুগ্রামে ফের দলীয় দ্বন্দ্ব বাড়ছে। কেতুগ্রামের সিপিএম নেতা মিজানুল কবীর ধীরাজ বলেন, কেতুগ্রামে কার হাতে ক্ষমতার রাশ থাকবে, তা নিয়ে বরাবরই তৃণমূল গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে মেতে থাকে। 
কেতুগ্রামের ফুটিসাঁকো এলাকাটি বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও পূর্ব বর্ধমান জেলার মধ্যস্থল। স্বভাবতই দুষ্কৃতীরা দুষ্কর্ম করে দ্রুত ভিন জেলায় চলে যায়। তাই ওই এলাকাটিতে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে বলে পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি মঙ্গলকোটের লোচনদাস সেতু পার হলেই বীরভূম জেলায় যাওয়া যায়। সেখানেও কড়া নজরদারি চালাচ্ছে পুলিস। বিভিন্ন গ্রামে লোকের আসা যাওয়ার ক্ষেত্রে নজরদারি চালাচ্ছেন সিভিক ভলান্টিয়াররা। দুই এলাকাতেই অশান্তি রুখতে মরিয়া পুলিস। এক অফিসার এদিন জানান, রাজনৈতিকভাবে বড়সড় কিছু ঘটে গেলে, তার জন্য আমাদেরই কৈফিয়ত দিতে হবে। তাই পুলিসের পক্ষ থেকে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হয়েছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ