সংবাদদাতা, কাটোয়া: মঙ্গলকোটে দুর্ঘটনায় তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুর রহস্যভেদে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পুলিস। এসডিপিও-র নেতৃত্বে চলছে ঘটনার তদন্ত। ওই ঘটনায় শুক্রবার আবার এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করল পুলিস। ধৃতের ফোনের ‘লিঙ্ক’ পাওয়া গিয়েছে। পুলিস জানিয়েছে ধৃতের নাম বাসার শেখ। তার বাড়ি মঙ্গলকোটের কল্যাণপুর গ্রামে। শুক্রবার তাকে কাটোয়া মহকুমা এসিজেএম আদালতে তোলা হলে ধৃতের ৭ দিনের পুলিস হেফাজত মঞ্জুর হয়। এনিয়ে এই মামলায় মোট পাঁচজন গ্রেপ্তার হল। পূর্ব বর্ধমান জেলার অতিরিক্ত পুলিস সুপার (গ্রামীণ) রাহুল পান্ডে বলেন, এসডিপিও-র নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পুরো ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। উল্ল্যেখ্য, ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেলে কাটোয়া আদালত থেকে কাজ সেরে বাড়ি ফিরছিলেন মঙ্গলকোটের লাখুরিয়া অঞ্চলের তৃণমূলের সভাপতি মফিজুল শেখ ও লালু শেখ। নতুনহাট-গুসকরা রোড ধরে তাঁরা আটঘরা যেতেই একটা চারচাকা গাড়ির সঙ্গে বাইকের ধাক্কা লাগে। দু’ জনকে উদ্ধার করে মঙ্গলকোটের নতুনহাট গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক লালু শেখকে মৃত ঘোষণা করেন। মফিজুলের কলকাতায় চিকিৎসা চলছে। মৃতের ছেলে সাহিন শেখ মঙ্গলকোট থানায় দলেরই নেতাকর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ জানান। জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক, আইএনটিটিইউসির নেতা, যুব নেতা, পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধক্ষ্য সহ ২৩ জনের নামে খুনের অভিযোগ করা হয়।
Advertisement
পরিকল্পিত খুন নাকি নিছক দুর্ঘটনায় মৃত্যু তা এখনও পুলিস জানাতে পারেনি। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সময়কার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। যা রহস্যের জট খুলতে পারে বলে অনুমান তাঁদের। নিহত তৃণমূল কর্মীর ময়নাতদন্তের রিপোর্ট জেনে মঙ্গলকোট থানার এক অফিসার জানান, মৃতদেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সেসব চিহ্ন দুর্ঘটনার জন্য, নাকি পিটিয়ে মারার ফলে হয়েছে তা রিপোর্টে উল্লেখ নেই। তাই আবার চিকিৎসকের দ্বারস্থ হতে পারে পুলিস।



