সংবাদদাতা, কাটোয়া: মঙ্গলকোটে তৃণমূল কর্মীর ‘রহস্যজনক’ দুর্ঘটনায় মৃত্যুতে গ্রেপ্তার হল আরও এক যুবক। ধৃত ট্রাক্টর চালক হিসেবে এলাকায় পরিচিত। তাকে ফোন করে ডাকা হয়েছিল রহস্যজনক দুর্ঘটনার আগেই। ঘটনার সাতদিন কেটে গেলেও পুলিস এখনও খুন না দুর্ঘটনা তা নিয়ে মুখ খুলছে না। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতের নাম তোতন শেখ ওরফে লাদেন। তার বাড়ি মঙ্গলকোটের সীতাহাটিতে। বুধবার কাটোয়া মহকুমা এসিজেএম আদালতে তোলা হলে ধৃতের ৭ দিনের পুলিস হেফাজত মঞ্জুর করেন বিচারক। এনিয়ে এই মামলায় গ্রেপ্তার হল মোট চারজন।
Advertisement
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে কোটালঘোষ এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তোতন শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। ধৃত তোতন ঘটনার সময় বাইক নিয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হয়। তাকে অভিযুক্ত সোহেল ফোনে ডাকে। রহস্যজনক দুর্ঘটনার সময়ে তোতন আটঘড়াতে ছিল। কেন সে বাইক নিয়ে সেখানে গেল, তা নিয়েও রহস্য রয়েছে। পুলিস ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সেই রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করবে। উল্ল্যেখ্য, ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেলে কাটোয়া আদালত থেকে কাজ সেরে বাড়ি ফিরছিলেন মঙ্গলকোটের লাখুরিয়া অঞ্চলের তৃণমূলের সভাপতি মফিজুল শেখ ও তৃণমূল কর্মী লালু শেখ। নতুনহাট-গুসকরা রোড ধরে তাঁরা আটঘরা যেতেই একটা চারচাকা গাড়ির সঙ্গে বাইকের ধাক্কা লাগে। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের মঙ্গলকোটের নতুনহাট গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক লালু শেখকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর জখম মফিজুলের বর্তমানে কলকাতায় চিকিৎসা চলছে। পরের দিন মৃতের ছেলে সাহিন শেখ মঙ্গলকোট থানায় দলেরই নেতাকর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে লিখিত ভাবে খুনের অভিযোগ জানান। জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক, আইএনটিটিইউসির নেতা, যুব নেতা, পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধক্ষ্য সহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ করা হয়। পাশাপাশি কোটালঘোষ গ্রামের বাসিন্দা মেহের শেখ ও তার ছেলে সোহেল শেখের নামেও অভিযোগে করা হয়।



