সংবাদদাতা, কাটোয়া: মঙ্গলকোটে ‘রহস্যজনক’ পথ দুর্ঘটনায় তৃণমূল নেতার মৃত্যুতে গ্রেপ্তার হল এক যুবক। ধৃত বাইকের সঙ্গে ধাক্কা লাগা গাড়িটিতে ছিল। পুলিসের হাতে ৮টি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ এসেছে। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতের নাম সঞ্জয় হাঁসদা। তার বাড়ি মঙ্গলকোটের চানকে। পুলিস দুর্ঘটনাগ্রস্ত সাদা গাড়িটিও উদ্ধার করেছিল চানক থেকেই। রবিবার ধৃতকে কাটোয়া মহকুমা এসিজেএম আদালতে তোলা হলে বিচারক তার ১০ দিনের পুলিস হেফাজত মঞ্জুর করেছেন। প্রসঙ্গত, ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেলে কাটোয়া আদালত থেকে কাজ সেরে বাইকে চেপে বাড়ি ফিরছিলেন মঙ্গলকোটের লাখুরিয়া অঞ্চলের তৃণমূল সভাপতি মফিজুল শেখ ও তৃণমূল কর্মী লালু শেখ। নতুনহাট-গুসকরা রোড ধরে তাঁরা আটঘরা যেতেই একটা চারচাকা গাড়ির সঙ্গে তাঁদের বাইকের ধাক্কা লাগে। দু’ জনেই ছিটকে পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের উদ্ধার করে মঙ্গলকোটের নতুনহাট গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক লালু শেখকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর জখম অবস্থায় মফিজুলকে কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হয়। আপাতত সেখানেই মফিজুল চিকিৎসাধীন। বৃহস্পতিবার মৃতের ছেলে সাহিন শেখ মঙ্গলকোট থানায় তৃণমূলেরই স্থানীয় নেতাকর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে লিখিত ভাবে খুনের অভিযোগ জানান। জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক, আইএনটিটিইউসির নেতা, যুবনেতা, পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধক্ষ্য সহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের হয়। পাশাপাশি কোটালঘোষ গ্রামের বাসিন্দা মেহের শেখ ও তার ছেলে সোহেল শেখের নামেও খুনের অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, যে সাদা রঙের চারচাকা গাড়িটি পুলিস উদ্ধার করেছে তার মালিকের নাম এখনও জানতে পারেনি তদন্তকারীরা। তবে স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ওই গাড়িটি নাকি মেহের শেখের ছেলে সোহেলের। ধৃত সঞ্জয় হাঁসদা সোহেলদের ট্রাক্টর চালাত। ঘটনার সময়ে সঞ্জয় গাড়ির ভিতরেই ছিল। সে প্রত্যক্ষদর্শী। সে পুলিসের কাছে সব স্বীকার করেছে। দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত খুন, সবই সঞ্জয়ের জানা উচিত। কারণ সে গাড়ির মধ্যেই ছিল। তাছাড়া প্রশ্ন উঠছে, গাড়িটি যদি সোহেলের হয়, তাহলে সেটি কোটালঘোষেই থাকা উচিত ছিল। কিন্তু এক্ষেত্রে সোহেলের গাড়ির চালক সঞ্জয় হাঁসদার গ্রাম চানকে কেন গাড়ি রাখা থাকবে। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি কিছু গোপন করার উদ্দ্যেশ্যেই গাড়ি সরিয়ে রাখা হয়েছিল?



