সংবাদদাতা, কাটোয়া: মঙ্গলকোটে রহস্যজনকভাবে বাইক-চারচাকা সংঘর্ষে তৃণমূল নেতার মৃত্যুতে খুনের অভিযোগ আগেই দায়ের করা হয়েছে। এবার ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার হল সন্দেহভাজন আরও দু’জন। তারা ঘটনার সঙ্গে কীভাবে জড়িত, তা খুঁজে বের করবে পুলিস। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মঙ্গলকোটের রাজনীতিতে। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতদের নাম টুয়েল মল্লিক ও মেহের আলি। দু’জনের বাড়ি মঙ্গলকোটের চাকদা ও কোটাল ঘোষ এলাকায়। সোমবার তাদের কাটোয়া মহকুমা এসিজেএম আদালতে তোলা হলে বিচারক দু’জনকেই ন’দিন পুলিস হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।
Advertisement
উল্লেখ্য, ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেলে কাটোয়া আদালত থেকে কাজ সেরে বাড়ি ফিরছিলেন মঙ্গলকোটের লাখুরিয়া অঞ্চলের তৃণমূলের সভাপতি মফিজুল শেখ ও লালু শেখ। নতুনহাট-গুসকরা রোড ধরে তাঁরা আটঘরা যেতেই একটা চারচাকা গাড়ির সঙ্গে বাইকের ধাক্কা লাগে। তারপরেই দু’জনে ছিটকে পড়েন। তাঁদের মঙ্গলকোটের নতুনহাট গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক লালু শেখকে মৃত ঘোষণা করেন। মফিজুলের এখন কলকাতায় চিকিৎসা চলছে। মৃতের ছেলে সাহিন শেখ পরদিনই মঙ্গলকোট থানায় দলের নেতা-কর্মীদের নামে লিখিতভাবে খুনের অভিযোগ জানান। জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক, আইএনটিটিইউসির নেতা, যুব নেতা, পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ সহ ২৩ জনের নামে খুনের অভিযোগ করা হয়। পাশাপাশি কোটালঘোষ গ্রামের বাসিন্দা মেহের শেখ ও তার ছেলে সোহেল শেখের নামেও অভিযোগ রয়েছে। এরপর তদন্তে নেমে মঙ্গলকোট থানার পুলিস রবিবার চানক থেকে সঞ্জয় হাঁসদা নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে। সে মেহেরের ছেলে সোহেলের গাড়ির চালক ছিল। সঞ্জয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করেই এদিন দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সাদা গাড়িটি নাকি মেহের আলির। এমনটাই স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন। মেহেরের ছেলে সোহেল ওই গাড়িটি চালাত। যদিও পুলিস এখনও গাড়ির প্রকৃত মালিকের নাম জানাতে পারেনি। সাদা গাড়িটির ফরেন্সিক পরীক্ষাও হবে। মৃতের ছেলের দাবি, তাঁর বাবাকে কেন এভাবে মরতে হল, সেটা পুলিস তদন্ত করে জানাক। সত্য অনুসন্ধানে মঙ্গলকোট থানার পুলিস তদন্ত শুরু করেছে।



