সংবাদদাতা, করিমপুর: আগামী মঙ্গলবার ১৭৮ বছরের প্রাচীন ডাকাত কালীর পুজোকে ঘিরে করিমপুরের মানুষের উন্মাদনা শুরু হয়েছে। প্রতি বছর রাসপূর্ণিমার পরের মঙ্গলবার এই ডাকাত কালীপুজোতে কোনও ধর্মীয় ভেদাভেদ থাকে না। হিন্দু মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ এই পুজোর আনন্দে শামিল হন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কথিত আছে প্রায় ১৭৭ বছর আগে করিমপুরের গাবরুডাঙা বিলের ধারে এক ডাকাত এই পুজো শুরু করেছিলেন। আগে ওই জায়গায় একটি নিমগাছের নীচে পুজো শুরু হয়েছিল। এরপর বৃদ্ধ নিমগাছটি ঝড়ে ভেঙে যায়। তখন এক ফালি জমিতে খড়ের ছাউনি দেওয়া একটা ছোট ঘরে এই কালীপুজো হতো। দীর্ঘদিন ছোট ঘরে পুজো দিতে অসুবিধা হওয়ার কারণে স্থানীয় কিছু হিন্দু ও মুসলিম মিলিতভাবে ছয় শতক জমি কিনে দেন মন্দির কমিটির নামে। সেখানেই এখন পাকা মন্দির গড়ে উঠেছে। প্রতি বছর এই বিশেষ দিনে ধুমধাম করে পুজো হয়ে চলেছে। পুজো কমিটির সহ সভাপতি করুণাকান্ত রায় জানান, বাপ-ঠাকুরদার কাছে এই ডাকাত কালীর অনেক গল্প শুনেছি। রাতে তো দূরের কথা, দিনের বেলাতেই ওই জায়গায় যেতে অনেকেই ভয় পেত। স্থায়ী মন্দিরের জন্য আমার বাবা ক্ষুদিরাম রায় জমি দিয়েছিলেন। খুব সামান্য জমিতে পুজো করতে খুব অসুবিধা হচ্ছিল। তাই পরে হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা নিজাম মণ্ডল, আজিজুর রহমান ও আলি হোসেন জমি দান করেন। একদিনের পুজো হলেও এই পুজো উপলক্ষ্যে পাঁচদিন মেলা থাকবে এবং মেলা চত্বরে বসবে বাউল গানের আসর। পুজো কমিটির আরেক উদ্যোক্তা প্রভাত কর্মকার বলেন, প্রত্যেক বছর রাস পূর্ণিমার পরের মঙ্গলবার এই পুজো হয়ে থাকে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে প্রতিমা তৈরি করা হবে এবং তারপর পুজো দিয়ে সূর্য ওঠার আগেই ভোরে প্রতিমা বিসর্জন হবে। মেলাতে যতজন মানুষ আসেন, তাঁদের প্রত্যেককে পেট ভরে খিচুড়ি ও তরকারি প্রসাদ দেওয়া হয়। কাউকে ফেরানো হয় না।
Advertisement
পুজো কমিটির পক্ষে শ্যামল রায় জানান, এই পুজোকে কেন্দ্র করে বহু মানুষের সমাগম হয়। চাঁদা সংগ্রহ করে ধীরে ধীরে পাকা মন্দির নির্মাণ করা হয়েছে। এমনকী চাঁদা তুলে প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ করে ফাঁকা মাঠের মধ্যে মন্দির চত্বরে স্থায়ী বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিজাম, আজিজুর, আলি হোসেনরা জানান, আমরা শুধু জমি দিয়েছি বলে নয়, এলাকার প্রচুর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ ওই পুজোতে অংশগ্রহণ করেন। বিভেদ ভুলে এই পুজোকে ঘিরে এলাকার সকলেই সম্প্রীতির আনন্দে মেতে ওঠেন।



