Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মণ্ডল সভাপতির নাম  ঠিক করতে জাল সই!

মণ্ডল সভাপতির নাম  ঠিক করতে জাল সই!
  • ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: মণ্ডল সভাপতিদের রদবদল নিয়ে বিজেপির বিক্ষোভ অব্যাহত। শুধুমাত্র ফেসবুক পোস্টই নয়, এবার নেতারাও প্রকাশ্যেই মুখ খুলতে শুরু করেছেন। বিজেপির তরফে বাঘমুণ্ডি ৫-নম্বর মণ্ডল তথা ঝালদা শহরের সভাপতি যাঁকে করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হয়েছে বলে অভিযোগ তুলছে দলেরই একাংশ। এনিয়ে বিজেপির জেলার নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিলেশ্বর সিংহ, জেলা সভাপতি বিবেক রাঙ্গা ও দলীয় সাংসদকে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন ওই মণ্ডলের মহিলা মোর্চার সভানেত্রী, যুব মোর্চার সভাপতি, একাধিক বুথের সভাপতি ও সক্রিয় সদস্যরা। এই কলকাঠি নাড়ার পিছনে সবাই বিজেপির জগাই-মাধাইকেই দায়ী করছেন। তাঁদের যাঁরা তৈলমর্দন করতে পেরেছেন, তাঁরাই দায়িত্ব পেয়েছেন বলে অভিযোগ!
Advertisement
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, এতদিন ধরে ঝালদা শহরের সভাপতি ছিলেন বিজয় ভগৎ। গেরুয়া শিবিরের স্থানীয় নেতাদের দাবি, বিজয়বাবুর নেতৃত্বেই ঝালদায় শক্তিশালী হয়েছে বিজেপি। সকলেই জানত, বিজয়বাবুকেই ফের মণ্ডলের সভাপতি করা হবে। কিন্তু সম্প্রতি প্রকাশিত তালিকায় দেখা যায়, তাঁর পরিবর্তে মণ্ডল সভাপতি করা হয়েছে মৌসুমি বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাতে চরম ক্ষুব্ধ স্থানীয় নেতারা। 
ঝালদার বিজেপি নেতা তথা দলের জেলা কমিটির সদস্য ভোলানাথ মিশ্র বলেন, কয়েকমাস আগে বিজেপির সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়। তখন শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে আমাদের বলা হয়, বুথপ্রতি যাঁরা ৫০ জনের বেশি সদস্য সংগ্রহ করতে পারবেন, তাঁদের সক্রিয় সদস্য করা হবে। সক্রিয় সদস্যদের মধ্য থেকেই মণ্ডল সভাপতি নির্বাচন করা হবে। তবে তা অবশ্যই দলের সবাইয়ের সম্মতিক্রমে অথবা নির্বাচনের মাধ্যমে। কিন্তু, এক্ষেত্রে কোনও নিয়মই মানা হয়নি। 
সূত্রের খবর, গত সপ্তাহেই ঝলদার দলীয় কার্যালয়ে একটা বিশেষ বৈঠক হয় মণ্ডল সভাপতি নির্বাচনের জন্য। জেলা থেকে এক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা একটি মুখবন্ধ খাম নিয়ে আসেন। তিনি জানান, রাজ্য থেকে মণ্ডল সভাপতির নাম পাঠানো হয়েছে। এতেই অন্যান্যরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা জানান, মণ্ডল সভাপতি তো নির্বাচনের মাধ্যমে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার বদলে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয়, মৌসুমি বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামের প্রস্তাবক হিসেবে যে দু’জনের নাম রয়েছে, তাঁদের সই জাল করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এ সমস্ত অভিযোগ তুলে ধরে ফের বিজয়বাবুকে সভাপতি করার দাবি তুলে তাঁরা চিঠি পাঠিয়েছেন। 
এনিয়ে ঝালদা মণ্ডলের বিজেপির যুব মোর্চার সভাপতি প্রবিত মাহাত বলেন, সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সভাপতি ঠিক করা হয়েছে। আমরা মানছি না। 
তবে, শুধু ঝালদাতেই নয়, পুরুলিয়া, রঘুনাথপুর থেকে শুরু করে জেলার বিভিন্ন প্রান্তেই বিজেপির মণ্ডল সভাপতি নির্বাচন নিয়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। জেলার যে ১৩টি মণ্ডলে নতুন সভাপতিদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, কোনও ক্ষেত্রেই নিয়ম মানা হয়নি বলে অভিযোগ উঠছে। সেইসঙ্গে রঘুনাথপুর বিধানসভায় যেখানে বাউরি সমাজের আধিক্য বেশি, সেখানে ছ’টি মণ্ডলের মধ্যে একটিতেও বাউরি সমাজের প্রতিনিধি নেই। বিজেপির জেলা সভাপতি বিবেক রাঙা বলেন, দল বড় হলে ক্ষোভ বিক্ষোভ থাকবে। তবে এসব মিটে যাবে। কোনও ক্ষোভই থাকবে না। তৃণমূলের জেলা সভাপতি সৌমেন বেলথরিয়া বলেন, আগামী বিধানসভায় বিজেপি দলটা নিজেদের কোন্দলেই শেষ হয়ে যাবে। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ