Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মানবাজার হাসপাতালের কোয়ার্টার দখল করে বাস

মানবাজার হাসপাতালের কোয়ার্টার দখল করে বাস
  • ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, মানবাজার: অবৈধভাবে হাসপাতালের কোয়ার্টার ও জেনারেটর রুম দখল করে রাখার অভিযোগ উঠল দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। পুরুলিয়ার মানবাজার গ্রামীণ হাসপাতালের ঘটনা। সেখানকার এক মাতৃযান চালক ও জেনারেটর অপারেটরের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে। এর জেরে হাসপাতালে পরিষেবাও ব্যহত হচ্ছে বলে দাবি। জানা গিয়েছে আরও অনেকেই আছে যারা হাসপাতালের সরকারি আবাসন জবরদখল করে রয়েছে।
Advertisement
মানবাজার গ্রামীণ হাসপাতাল সূত্রে খবর, হাসপাতালের ডিজি জেনারেটরের চালানো ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য চুক্তি ছিল মানবাজারের মাঝপাড়ার বাসিন্দা আনন্দমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। কিন্তু গত ৩০ জুন চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। তারপরেও ওই ব্যক্তি হাসপাতালের ডিজি রুম দখল করে রেখেছে বলে অভিযোগ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তরফে একাধিকবার রুম খালি করতে বললেও তিনি তা করেননি। গত ২৫ অক্টোবর জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের অফিস থেকে চিঠি দিয়ে আনন্দবাবুকে রুম খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তাতেও কাজ হয়নি। গত ৪ ডিসেম্বর মানবাজারের বিএমওএইচ চিঠি করে পুনরায় রুম খালি করার জন্য নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশেও কর্ণপাত করেননি বলে অভিযোগ। আনন্দমোহন বলেন, যেহেতু নতুন টেন্ডার হয়ে নতুন অফার এখনও হয়নি তাই রয়েছি। নতুন অপারেটর এলে ছেড়ে দেব। মানবাজারের বিএমওএইচ জিৎ সরকার বলেন, যেহেতু তার চুক্তিপত্র গত ৩০ জুন শেষ হয়ে গিয়েছে। তাই নিয়ম অনুযায়ী সেখানে তার থাকার অধিকার নেই। তবুও তিনি জেনারেটর রুম ছাড়েননি। কীভাবে তিনি সেখানে রয়েছেন তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।
অন্যদিকে, মাতৃযান চালক পিন্টু চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও অবৈধভাবে হাসপাতালের স্টাফ কোয়ার্টার দখলের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ ১৮ বছর ধরে তিনি সেখানকার একটি সরকারি কোয়ার্টার দখল করে রেখেছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একাধিকবার তাকে কোয়ার্টার খালি করতে বললেও তিনি সরকারি আবাস ছাড়েনি। তার বিরুদ্ধে হুকিং করে বিদ্যুৎ ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। তবে ফোন বন্ধ রাখায় এদিন পিন্টুর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।
সূত্রের খবর শুধু ওই দুজনেই নয়, আরও অনেকে আছেন যাঁরা কেউ ১৬ বছর, কেউ ১৮ বছর ধরে হাসপাতালের কোয়ার্টার দখল করে রয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে কোয়ার্টারে রয়েছেন তিনজন ডাক্তারবাবু, একজন ফুড সেফটি অফিসার এবং জনা দশেক নার্স। হাসপাতালে কুড়ি থেকে ২৫টি আবাসনের মধ্যে বাকিগুলো জবরদখল হয়ে রয়েছে। মানবাজার বিএমওএইচ জিৎ সরকার বলেন, অনেকবার মৌখিকভাবে চিঠি দিয়ে তাদের আবাসন ছাড়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু কেউ ছাড়েনি। বিষয়টি জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে লিখিত ভাবে জানিয়েছি।সিএমওএইচ অশোক বিশ্বাস বলেন, একটা চিঠি হাসপাতাল থেকে পেয়েছি। কে কে জবরদখল করে রয়েছেন তালিকা তৈরি করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ