নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: বৃদ্ধা মাকে দেখভাল না করে মারধরের অভিযোগে গুণধর ছেলেকে গ্রেপ্তার করল পুলিস। ধৃতের নাম হরিপদ খাটুয়া। বাড়ি ময়না থানার রামচন্দ্রপুর গ্রামে। ৬২ বছরের বৃদ্ধা মা সরস্বতী খাটুয়া ছেলের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে বাপের বাড়ির লোকজন নিয়ে সোজা ময়না থানায় হাজির হন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিস মঙ্গলবার হরিপদকে গ্রেপ্তার করে। তাকে তমলুক সিজেএম কোর্টে তোলা হলে বিচারক তিন দিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দেন। জানা গিয়েছে, তিন বছর আগে সরস্বতীদেবীর স্বামী মারা যান। তারপর তাঁর সম্পত্তি সরস্বতীদেবী ও দুই ছেলের মধ্যে ভাগ হয়। ছোট ছেলে হরিপদর কাছে থাকেন ওই বৃদ্ধা। মায়ের নামে থাকা সম্পত্তি তাঁকে দেওয়ার জন্য হরিপদ চাপ দিত বলে অভিযোগ। কয়েক মাস আগে সরস্বতীদেবী তাঁর নামে থাকা সম্পত্তি ছোট ছেলেকে লিখে দেন। এরপরই বদলে যায় ছোট ছেলে হরিপদ। সে স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে থাকতে শুরু করে।
Advertisement
ছেলে দেখাশোনা না করায় সরস্বতীদেবী গ্রামের মোড়লদের কাছে নালিশ জানান। এনিয়ে গ্রামে বেশ কয়েকবার সালিশি সভাও হয়। তবে সভার সিদ্ধান্ত হরিপদ মেনে না নেওয়ায় থানায় আলোচনা হয়। হরিপদকে প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা মায়ের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু, সেই নির্দেশও অমান্য করে হরিপদ। টানা ১৫ দিন শ্বশুরবাড়িতে কাটিয়ে সোমবার হরিপদ বাড়িতে ফেরে। এনিয়ে মা ও ছেলের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। তখন হরিপদ মাকে মারধর করে বলে অভিযোগ।
সরস্বতীদেবী বলেন, বার্ধক্য অবস্থায় আমাকে দেখভাল করার শর্তেই ছোট ছেলেকে সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করে দিয়েছি। কিন্তু, তারপরই ছোট ছেলে দ্রুত পালটে যায়। আমাকে ফেলে রেখে শ্বশুরবাড়িতে থাকতে শুরু করে। দু’বেলা খাবার জোগাতে আমার হিমশিম অবস্থা। এনিয়ে কথা বলতেই আমাকে মারধর করে। আমি ছেলের সঙ্গে একসঙ্গে থাকতে চেয়েছি। কিন্তু, ছেলে-বউমা সেই অধিকার থেকে আমাকে বঞ্চিত করছে। আমাকে চূড়ান্ত অবহেলা করছে। এজন্যই আমি থানায় অভিযোগ করেছি। পুলিস ছোট ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে।
সরস্বতীদেবী বলেন, বার্ধক্য অবস্থায় আমাকে দেখভাল করার শর্তেই ছোট ছেলেকে সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করে দিয়েছি। কিন্তু, তারপরই ছোট ছেলে দ্রুত পালটে যায়। আমাকে ফেলে রেখে শ্বশুরবাড়িতে থাকতে শুরু করে। দু’বেলা খাবার জোগাতে আমার হিমশিম অবস্থা। এনিয়ে কথা বলতেই আমাকে মারধর করে। আমি ছেলের সঙ্গে একসঙ্গে থাকতে চেয়েছি। কিন্তু, ছেলে-বউমা সেই অধিকার থেকে আমাকে বঞ্চিত করছে। আমাকে চূড়ান্ত অবহেলা করছে। এজন্যই আমি থানায় অভিযোগ করেছি। পুলিস ছোট ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে।



