সংবাদদাতা, শান্তিনিকেতন: বোলপুরের নতুনপুকুরের মমতাজ বিবি কাঁথা স্টিচের কাজে ফুটিয়ে তুলছেন রামায়ণ, মহাভারত সহ নানা পৌরাণিক কাহিনি ও দেবদেবীর ছবি। যা সমাদৃত হচ্ছে বোলপুরের হস্তশিল্প মেলায়। শুধুমাত্র পৌরাণিক কাহিনিই নয়, তার সঙ্গে রাজ্য সরকারের কন্যাশ্রী সহ নানা জনমুখী প্রকল্পও স্থান পেয়েছে মমতাজ বিবির তৈরি শাড়ির নকশায়। বাড়ির দেওয়াল সুন্দর রঙে সাজিয়ে তোলেন প্রায় সকলেই। নানা সামগ্রী দিয়ে ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেন। তাঁদের জন্য তাক লাগানো ওয়াল হ্যাঙ্গিং বা দেওয়ালসজ্জা বানিয়েছেন বোলপুরের ৭ নং ওয়ার্ডের নতুনপুকুরের বাসিন্দা মমতাজ বিবি। তাঁর হাতের নিখুঁত কাজে তসরের উপর ফুটে উঠেছে রামায়ণের নানা গল্প—সীতাহরণ, লক্ষণের শক্তিশেল, রাম-রাবণের যুদ্ধ প্রভৃতি। দীর্ঘ দু’ বছর লেগেছে এটি তৈরি করতে। যার দাম প্রায় দেড় লক্ষ টাকা। তার সঙ্গেই তিনি তৈরি করেছেন মহাভারতের বিভিন্ন ঘটনাবলী নিয়ে দেওয়াল সজ্জা ও শাড়ি। তবে তাঁর তৈরি সবথেকে আকর্ষণীয় ও মূল্যবান সামগ্রীটি নবদুর্গার প্রতিকৃতি দিয়ে তৈরি দেওয়াল সজ্জা। মমতাজ বিবি ও আরও তিন মহিলা মিলে প্রায় পাঁচ বছর ধরে তৈরি করেছেন এই অনন্য জিনিসটি। যার দাম তিনি রেখেছেন ৩৩ লক্ষ টাকা। তিনি জানিয়েছেন, মা দুর্গার বিভিন্ন মূর্তির প্রতিকৃতি দিয়ে অলঙ্কৃত শাড়ি সমাদৃত হয়েছে বিশ্বের দরবারে। তাই আরও বেশি করে রামায়ণ, মহাভারত সহ পৌরাণিক বিষয় তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন শাড়ি ও দেওয়াল সজ্জায়। সে কারণেই তিনি জেলা স্তরে ছ’বার পুরস্কৃত হয়েছেন। সরকারি সহযোগিতায় আমেরিকায় গিয়েও ভারতীয় এই নকশি কাঁথার প্রদর্শনী করেছেন। সেখানেও আলোচিত হয়েছে তাঁর কাজ। বোলপুরের শিবপুরের বিশ্ব ক্ষুদ্র বাজারে বসেছে হস্তশিল্প মেলা। সেখানেই তাঁর তৈরি এই সমস্ত হাতের কাজ প্রশংসিত হচ্ছে ব্যাপকভাবে।
Advertisement
মমতাজ বিবি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই কাঁথা স্টিচের কাজ করে আসছি। আমি সরকারি প্রশিক্ষক হিসেবেও বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি। বোলপুরে আমার থেকে কাজ শিখে প্রায় ২২০০ মহিলা আত্মনির্ভর হয়েছেন। ভারতের অত্যন্ত প্রাচীন এবং খুবই আকর্ষণীয় এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।



