Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মমতা ১ কোটি টাকা বরাদ্দ করলেও গুপ্তমণি মন্দিরের সংস্কার নিয়ে অসন্তোষ বাসিন্দাদের

মমতা ১ কোটি টাকা বরাদ্দ করলেও গুপ্তমণি মন্দিরের সংস্কার নিয়ে অসন্তোষ বাসিন্দাদের
  • ২ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, ঝাড়গ্রাম: ইংরেজি নতুন বছরের প্রথম দিনেই ঝাড়গ্রামের সীমান্তবর্তী গুপ্তমণির মন্দিরে উপচে পড়ল ভক্তদের ভিড়। ১ জানুয়ারি ভক্তদের ভিড় নিয়ন্ত্রণ করার জন্য যথেষ্ট পুলিসি মোতায়েনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল মন্দির চত্বরে। লোকশ্রুতি মতে মা গুপ্তমণির মন্দির খুবই জাগ্রত। সেই কারণেই ইংরেজি নতুন বছরের প্রথম দিন ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ভক্ত বাদে ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড রাজ্যে থেকে আগত ভক্তদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সেই সঙ্গে যে সমস্ত পর্যটক ঝাড়গ্রাম এলাকায় ছুটি কাটাতে এসেছেন, এদিন তাঁদের ভিড়ও মন্দির চত্বরে লক্ষ্য করা গিয়েছে। 
Advertisement
কয়েকশো বছরের পুরনো এই গুপ্তমণির মন্দির। শত বছর আগে একটি গাছের গোড়ায় হাতি, ঘোড়ার পোড়া মূর্তি রেখে এখানে পুজো হতো। কয়েক বছর আগে ঝাড়গ্রামের এক প্রশাসনিক সভা থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্দিরটি সংস্কারের জন্য রাজ্য প্রায় ১ কোটি টাকা অর্থ বরাদ্দের কথা ঘোষণা করেন। পরবর্তীকালে ঝাড়গ্রাম জেলা পরিষদ অনুমোদন পেতেই মন্দির সংস্কারের কাজ শুরু করে। যদিও সেই কাজ ঠিকমতো হচ্ছে না বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ। নয়াগ্ৰামে রামেশ্বর মন্দির, চিল্কিগড়ের কনক দুর্গা মন্দির সংস্কারের কাজের অগ্রগতি হলেও গুপ্তমণি মন্দিরের কাজে এত গড়িমসি কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
গুপ্তমণি প্রাচীন লোকদেবী। সারা বছর লোধা-শবররা এখানকার পূজারী। ২০২০ সালে  মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গুপ্তমণি মন্দির সংস্কারের জন্য ১ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা ঘোষণা করেছিলেন। পশ্চিমবঙ্গ উন্নয়ন পরিষদের উদ্যোগে ও জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে মন্দির সংস্কারের কাজ শুরু করা হয়েছিল। মন্দির চত্বরে দর্শনার্থীদের জন্য থাকার জায়গা, ভোগ ঘর, মন্দিরের জল নিকাশি ব্যবস্থা ভালো করার জন্য প্রায় ৯০ মিটার ড্রেন তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে মন্দির চত্বরে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা খরচ করে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে । এই নিয়ে এলাকার স্বপন মাহাত বলেন, মন্দিরকে নতুন করে সাজিয়ে তোলার জন্য সরকার টাকা বরাদ্দ করেছিল। মন্দিরের কোনও কাজ না হয়ে আশপাশের ড্রেনের সমস্ত কাজ হচ্ছে। এগুলো  নিয়ে অন্যভাবে পরিকল্পনা করা যেত। বহু পুরনো এই মন্দির সংস্কারের প্রয়োজন ছিল। সেই কাজ হয়নি। সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান লবঙ্গলতা মাহাত বলেন, গুপ্তমণি মন্দিরের সংস্কারের কাজ নিয়ে আমাকে কেউ কিছু জানাননি। এলাকার বাসিন্দারা এই নিয়ে কোনও অভিযোগও আমাকে করেননি। অভিযোগ করলে আমি ব্লক তথা জেলা প্রশাসনকে বিষয়টি জানাব। ঝাড়গ্ৰাম জেলা পরিষদের সভাধিপতি চিন্ময়ী মারাণ্ডি বলেন, মন্দির সংস্কারের কাজ নিয়ে কিছু জটিলতা রয়েছে। এর আগে জেলাশাসকের সঙ্গে এলাকার বাসিন্দাদের নিয়ে একটি আলোচনা হয়েছিল। সামনেই জাতীয় সড়ক থাকায় কম্পনের সমস্যা রয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে ড্রেন ও পানীয় জলের কাজ সেখানে চলছে। এলাকার বাসিন্দারা আগ্রহ প্রকাশ করলে আমি নিজে এই নিয়ে তাঁদের সাথে আলোচনায় বসব। কেননা, এই অবস্থা চলতে থাকলে একদিন এমনিতেই মন্দির ভেঙে পড়বে।
সম্পর্কিত সংবাদ