Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মুমূর্ষুকে উদ্ধার করেও বাঁচাতে না পারায় আক্ষেপ দোকানকর্মীর

মুমূর্ষুকে উদ্ধার করেও বাঁচাতে না পারায় আক্ষেপ দোকানকর্মীর
  • ২০ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: শীতের রাতে মুমূর্ষুকে রাস্তা থেকে উদ্ধার করেও বাঁচাতে না পারায় আক্ষেপ দোকানকর্মী মৃন্ময় মালাকারের। জলপাইগুড়ি শহরের উত্তর রায়কতপাড়ার বাসিন্দা মৃন্ময় দিনবাজারে একটি দোকানে কাজ করেন। গত মঙ্গলবার রাত আটটা নাগাদ তিনি দোকানের কাছে রাস্তার ধারে এক যুবককে পড়ে থাকতে দেখেন। প্রথমে গুরুত্ব না দিলেও দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার সময় মৃন্ময়ের নজরে পড়ে, ওই যুবক পরনের জামাকাপড় খুলে ফেলেছেন। তার মুখ দিয়ে রক্ত বেরচ্ছে। থর থর করে কাঁপছেন তিনি। ওই দৃশ্য দেখে রাস্তায় পড়ে কাতরানো যুবককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তির জন্য সচেষ্ট হন মৃন্ময়।
Advertisement
দোকানকর্মীর কথায়, প্রথমে ফোন করি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে। কিন্তু সাড়া না পেয়ে বিষয়টি জানাই পুলিসকে। বেশ কিছুক্ষণ পর থানা থেকে পুলিস আসে। পুলিসের নিয়ে আসা অ্যাম্বুলেন্সে ওই মুমূর্ষুকে তুলে রাত বারোটা নাগাদ জলপাইগুড়ি মেডিক্যালে নিয়ে যাই। নিজের নাম-ঠিকানা দিয়ে ভর্তি করি রাস্তা থেকে উদ্ধার হওয়া ওই যুবককে।
বুধবার বিকেলে মেডিক্যাল থেকে মৃন্ময়ের কাছে ফোন আসে। জানানো হয়, তিনি যে যুবককে ভর্তি করেছিলেন, মৃত্যু হয়েছে তাঁর। দেহ নিয়ে আসতে বলা হয়। পুলিসও ফোন করে মৃন্ময়কে হাসপাতাল থেকে দেহ নিয়ে আসতে বলে। এতেই বিপাকে পড়েন ওই দোকানকর্মী। তাঁর বক্তব্য, একে তো শীতের রাতে রাস্তা থেকে এক যুবককে উদ্ধার করে মাঝরাতে হাসপাতালে ভর্তির পরও তাঁকে বাঁচাতে না পারায় আক্ষেপ রয়ে গেল। তার উপর হাসপাতাল ও থানা থেকে তাঁকে ফোন করে দেহ নিয়ে যাওয়ার জন্য ক্রমাগত চাপ দিতে থাকায় বিপাকে পড়ে যাই। পরে যদিও মৃত ওই যুবকের পরিচয় জানতে পেরেছে পুলিস।
কোতোয়ালি থানা সূত্রে খবর, মৃতের নাম অর্কদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। বাড়ি জলপাইগুড়ি শহরের মহামায়াপাড়ায়। জলপাইগুড়ি মেডিক্যালের সুপার ডাঃ কল্যাণ খাঁ বলেন, ওই রোগীকে খুবই খারাপ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। একজন ভর্তি করে দিয়ে চলে যান। পরে রোগীর পরিবারের কেউ যোগাযোগ করেননি। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ওই রোগীর।
এদিকে, মেডিক্যালে ভর্তির পরও ওই রোগী বেডের নীচে পড়েছিলেন, এমন একটি ভিডিও সামনে আসার পর থেকে শুরু হয় বিতর্ক। মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ ওঠে। যদিও সুপারের সাফাই, ওই রোগীর জন্য বেড বরাদ্দ করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি বারবার বেড থেকে নেমে যাচ্ছিলেন।
সম্পর্কিত সংবাদ