Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মেলার আগে আজই গঙ্গাসাগরে মুখ্যমন্ত্রী

মেলার আগে আজই গঙ্গাসাগরে মুখ্যমন্ত্রী
  • ৬ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
কৌশিক ঘোষ, গঙ্গাসাগর: আজ, সোমবার গঙ্গাসাগরে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গঙ্গাসাগর মেলা শুরু হওয়ার কয়েকদিন আগে তাঁর এখানকার অন্যতম কর্মসূচি হল কপিল মুনির মন্দিরে গিয়ে পুজো দেওয়া ও এখানকার মোহন্ত জ্ঞানদাস মহারাজকে শ্রদ্ধা নিবেদন। তাঁর সফরের ঠিক আগে গঙ্গাসাগরকে অবহেলা করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি ক্ষোভ উগরে দিলেন মোহন্ত জ্ঞানদাস মহারাজের উত্তরাধিকারী সঞ্জয় দাস মহারাজ। রবিবার সন্ধ্যায় মন্দির চত্বরে দাঁড়িয়ে তাঁর প্রশ্ন, কেন্দ্রীয় সরকার তো দেশজুড়ে কত রাস্তা, সেতু তৈরি করছে কিন্তু সাগরদ্বীপকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযুক্ত করতে একটি সেতু তৈরি করছে না কেন? পি ভি নরসিমহা রাও প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় থেকে গঙ্গাসাগরে একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ শুরু হয়। কিন্তু সেটি তারপর কিছুই এগয়নি। তাঁর সাফ কথা, গঙ্গাসাগরে যাবতীয় উন্নয়ন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যেপাধ্যায়ই করেছেন, কেন্দ্র কিছুই করেনি। তাঁর আশা, আগামী দিনেও মুখ্যমন্ত্রী এই জায়গার জন্য আরও অনেক কিছু করবেন। 
Advertisement
সঞ্জয় মহারাজের কথায়, সারা দেশ থেকে পুণ্যার্থীরা গঙ্গাসাগরে আসেন। তাই কেন্দ্রীয় সরকার তার দায় এড়াতে পারে না। কপিল মুনি মন্দির পরিচালনা করে অযোধ্যার হনুমানগড়ি আশ্রম। কপিল মুনির সঙ্গে অযোধ্যার সম্পর্ক ছিল বলে জানালেন সঞ্জয় মহারাজ। অযোধ্যার বিষয়ে মোদি সরকার ব্যাপক তৎপর, সেখানে গঙ্গাসাগর নিয়ে চুপ থেকে তারা কেন ‘সৎ মায়ের’ মতোই আচরণ করছে? এই গুরুতর প্রশ্নও তুলে দিয়েছেন তিনি। 
গঙ্গাসাগরে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার প্রসঙ্গ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অতীতে একাধিকবার তুলেছেন। এই মেলার জন্য ‘জাতীয় মেলা’ স্বীকৃতি চান তিনি। গঙ্গাসাগর মেলাকে বিশেষ আর্থিক অনুদান দেওয়া উচিত বলেও তিনি জানান।  এবারও প্রয়াগে পূর্ণকুম্ভ মেলার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করেছে। সেখানে বঞ্চিত কিন্তু গঙ্গাসাগর। কেন্দ্র রাজি না-হওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন মুড়িগঙ্গা নদীর উপর সাগরদ্বীপের সংযোগকারী সেতু তৈরির কাজ রাজ্য সরকারই করবে।
কয়েকদিন পর প্রয়াগে কুম্ভমেলার শুরু। তার জন্য এবার গঙ্গাসাগর মেলায় কম ভিড় হবে বলে মনে করছেন কেউ কেউ। তবে মেলা শুরু হওয়ার আগে থেকে গঙ্গাসাগরে ভিন রাজ্যের পুণ্যার্থীদের ভিড় শুরু হয়ে গিয়েছে। কাকদ্বীপের ৮ নম্বর লটে জেটিঘাটে লঞ্চে উঠতে লম্বা লাইনে পড়ছে। সাগর সৈকতে ধর্মীয় আচার পর্ব সম্পন্ন করে পুণ্যার্থীরা স্নান সেরে কপিল মুনির মন্দিরে পুজো দিচ্ছেন। মেলা চত্বর আলোকমালায় সেজে উঠেছে। চারিদিকে উৎসবের আবহ এখন থেকেই। কুম্ভমেলা হলেও গঙ্গাসাগরে ভিড় কম হবে না বলেই মনে করেন সঞ্জয় মহারাজ।
এরই মধ্যে মেলার জন্য সরকারি উদ্যোগে কাজ চলছে যুদ্ধকালীন তৎপরতার মধ্যে দিয়ে। মন্দিরের সামনে ২ নম্বর রাস্তা যেখানে সমুদ্রে দিকে গিয়েছে, সেখানে ভাঙনের জন্য স্নান করা সম্ভব নয়। তাই ৪ ও ৫ নম্বর রাস্তার দিকের সমুদ্র সৈকতে পুণ্যার্থীদের যাতায়াতের জন্য দ্রুত রাস্তা তৈরির কাজ হচ্ছে। ছাউনি তৈরি হচ্ছে সাগর আরতির জন্য মঞ্চ থেকে শুরু করে মানুষের থাকার জন্য। পাশাপাশি চলছে আরও বাঁশের খুঁটি বসিয়ে সমুদ্র ভাঙনকে আটকানোর কাজ। 
মুখ্যমন্ত্রী এদিন দুপুর নাগাদ গঙ্গাসাগরে পৌঁছনোর পর হেলিপ্যাড মাঠে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। বাংলাদেশের জেলে কয়েকমাস যাবৎ বন্দি রাজ্যের ৯৫ জন মৎস্যজীবী। তাঁরা ছাড়া পেয়ে এখানেই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবেন। পরিবারের সদস্যদের কাছে তাঁরা ফিরবেন এখান থেকেই। কপিল মুনির মন্দির ছাড়া আজ ভারত সেবাশ্রমে সঙ্ঘেও যাবেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী কাল, মঙ্গলবার দুপুরে কলকাতা ফেরার আগে তিনি প্রশাসনিক সভা করবেন। সেখানে আলোচনায় প্রাধান্য পাবে মূলত গঙ্গাসাগর মেলা। এই সফরে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গার জন্য কয়েকটি প্রকল্পেরও সূচনা করবেন মুখ্যমন্ত্রী।
সম্পর্কিত সংবাদ