Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মলানদিঘিতে শিবমন্দির সংলগ্ন মজা পুকুরটি সংস্কারের দাবি বাসিন্দাদের

মলানদিঘিতে শিবমন্দির সংলগ্ন মজা পুকুরটি সংস্কারের দাবি বাসিন্দাদের
  • ১২ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, মানকর: কাঁকসার মলানদিঘি পঞ্চায়েতের আড়া রাঢ়েশ্বর শিবমন্দির সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী পুরনো পুকুর সংস্কারের অভাবে মজে যেতে বসেছে। পুকুরের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এলাকার মানুষের ধর্মীয় ভাবাবেগ। অবিলম্বে পুকুর সংস্কারের দাবি করছেন স্থানীয়রা। মলানদিঘি পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, পুকুরের পাড় যাতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে, সেদিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। কাঁকসা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ভবানী ভট্টাচার্য বলেন, পুকুরটির সংস্কারের দিকে আমাদের নজর রয়েছে। সংস্কারের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কথা চলছে। পুকুর সংস্কার হলে এলাকায় ইকো-ট্যুরিজম বৃদ্ধি পাবে।  
Advertisement
কথিত আছে, সেন বংশের রাজা বল্লাল সেন আড়া এলাকায় শিবমন্দির তৈরির আগে স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন। এই পুকুর থেকেই শিবলিঙ্গ তুলে এনে আড়া শিবমন্দির প্রতিষ্ঠা করা হয়। ফলে এলাকার মানুষ ধর্মীয় অনুষ্ঠান হলে এই পুকুরের জল ব্যবহার করেন। বাইরে থেকে আসা দর্শনার্থীরাও পুকুরটি দেখতে আসেন। অনেকেই পুকুরের জল বাড়িতে নিয়ে যান। এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, বেশ কয়েক বছর ধরে পুকুরটি অযত্নে পড়ে রয়েছে। অথচ এলাকার ধর্মরাজের পুজোর জন্য এই পুকুরের জল ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন পুজোর প্রতিমা বিসর্জনও এই পুকুরে হয়। এলাকার বাসিন্দা নারায়ণ লাহা বলেন, প্রায় পাঁচ বিঘা আয়তনের এই পুকুর আর পুকুর নেই। সংস্কারের অভাবে এখন জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। বাইরে থেকে আসা দর্শনার্থীরা পুকুর দেখে হতাশ হয়ে ফিরে যান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, পুকুরের চারপাশে এখনও বহু মানুষ শৌচকর্ম করেন। দিনে দুপুরে পুকুর পাড়ে মদ্যপান করেন অনেকে। রাতে আলোর জন্য সৌরবাতি লাগানো হয়েছিল। সেটিও ভেঙে ফেলেছে দুষ্কৃতীরা। তাছাড়া কয়েক মাস আগে এই পুকুরটি ঘিরে ফেলার তোড়জোড় শুরু হয়েছিল। তবে প্রশাসন সে কাজ বন্ধ করেছে। অভিযোগ, মন্দির সংলগ্ন বহুতল আবাসনের অনেক বাসিন্দাই পুকুরের পাড়ে আবর্জনা ফেলে যাচ্ছেন। 
স্থানীয় বাসিন্দা বরুণ ঘোষাল বলেন, পুকুরটি আমাদের এলাকার একটা ঐতিহ্যবাহী স্থান। পুকুরের একটি পাকাঘাটও নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু ঘাটের আশপাশে পড়ে রয়েছে আবর্জনা। পুকুরটি অযত্নে নষ্ট হয়ে যাক এটা আমরা চাই না। মলানদিঘি পঞ্চায়েতের উপপ্রধান বিশ্বরূপ চট্টোপাধ্যায় বলেন, পুকুরটির সংস্কারের বিষয়ে পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পঞ্চায়েতের বিভিন্ন জায়গায় নোংরা ফেলার জন্য লোহার খাঁচার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মানুষের সাড়া পেলে মন্দির সংলগ্ন এলাকাতেও ওই খাঁচা বসানো হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ