নয়াদিল্লি: চলছে পূর্ণকুম্ভ। পুণ্যের সন্ধানে প্রতিদিন প্রয়াগরাজের সঙ্গমে প্রতিদিন স্নান করছেন কোটি কোটি মানুষ। কুম্ভস্নান নিয়ে প্রচারের কোনও খামতি রাখছে না কেন্দ্র ও উত্তরপ্রদেশের যোগী সরকার। অথচ পুণ্যের খোঁজে যেখানে ডুব দিচ্ছেন এত মানুষ, সেই জলেই কিলবিল করছে ক্ষতিকারক জীবাণু। প্রয়াগরাজে গঙ্গার জল নিয়ে এমনই উদ্বেগজনক রিপোর্ট দিল কেন্দ্রেরই সংস্থা। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ (সিপিসিবি) জানিয়েছে, কুম্ভমেলার জন্য গঙ্গার জলে কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়ার মাত্রা বিপজ্জনক মাত্রায় বেড়ে গিয়েছে। মূলত জলের সঙ্গে মানুষ ও পশুর মলমূত্র মিশে যাওয়ার ফলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সিপিসিবির রিপোর্ট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল (এনজিটি)। নদীর জলের দূষণ কমাতে কী কী পদক্ষেপ করা হচ্ছে, তা জানতে চেয়ে উত্তরপ্রদেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের জবাব তলব করেছে ট্রাইব্যুনাল। বুধবার উত্তরপ্রদেশের সরকারি আধিকারিকদের ভার্চুয়াল শুনানিতে উপস্থিত থাকতে হবে।
Advertisement
তবে শুধু কুম্ভের ব্যবস্থাপনা নয়, দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের রিপোর্টে প্রশ্ন উঠেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘোষিত ‘নমামি গঙ্গে’ প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়েও। এক আরটিআইয়ের জবাবে খোদ কেন্দ্রই জানিয়েছিল, ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নমামি গঙ্গের জন্য প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারপরেও গঙ্গার জলে দূষণ কেন কমল না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছেই।
কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের রিপোর্টে কী বলা হয়েছে? ১২ ও ১৩ জানুয়ারি সঙ্গমের জলের বায়োকেমিক্যাল অক্সিজেন ডিমান্ড (বিওডি) মাপা হয়েছিল। বিওডি বেশি থাকার অর্থ জলে ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি। সেই পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, প্রয়াগরাজের বিভিন্ন ঘাটে এই বিওডির মাত্রা অত্যধিক বেশি। ওই রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, শাহিস্নান ও অন্য শুভ দিনগুলিতে সঙ্গমে পুণ্যার্থীর ভিড় অনেক বেড়েছে। আর ওই দিনগুলিতে গঙ্গার জলে মলমূত্র মেশার পরিমাণও বেড়ে গিয়েছে। সিপিসিবির হিসেব অনুযায়ী, প্রতি ১০০ মিলিলিটার জলে ২৫০০ ইউনিট কলিফর্ম ব্যাক্টেরিয়াকে নিরাপদ ধরা হয়। তবে সঙ্গমের জলে এই পরিমাণ কত তা জানা যায়নি। প্রয়াগরাজের বর্তমান পয়ঃনিষ্কাশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে গত বছরের ডিসেম্বরেই প্রশ্ন তুলেছিল ট্রাইব্যুনাল। ধর্মীয় অনুষ্ঠান চলাকালীন নদীর জলের গুণগত মান যাতে বজায় থাকে, তার জন্য আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়। এছাড়া উত্তরপ্রদেশে দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডকে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতেও নির্দেশ দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। কিন্তু সেই সময় যোগীরাজ্যের আধিকারিকরা শুধু জল পরীক্ষার রিপোর্টই জমা দিয়ে দায় সারে। ছবি: পিটিআই
কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের রিপোর্টে কী বলা হয়েছে? ১২ ও ১৩ জানুয়ারি সঙ্গমের জলের বায়োকেমিক্যাল অক্সিজেন ডিমান্ড (বিওডি) মাপা হয়েছিল। বিওডি বেশি থাকার অর্থ জলে ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি। সেই পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, প্রয়াগরাজের বিভিন্ন ঘাটে এই বিওডির মাত্রা অত্যধিক বেশি। ওই রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, শাহিস্নান ও অন্য শুভ দিনগুলিতে সঙ্গমে পুণ্যার্থীর ভিড় অনেক বেড়েছে। আর ওই দিনগুলিতে গঙ্গার জলে মলমূত্র মেশার পরিমাণও বেড়ে গিয়েছে। সিপিসিবির হিসেব অনুযায়ী, প্রতি ১০০ মিলিলিটার জলে ২৫০০ ইউনিট কলিফর্ম ব্যাক্টেরিয়াকে নিরাপদ ধরা হয়। তবে সঙ্গমের জলে এই পরিমাণ কত তা জানা যায়নি। প্রয়াগরাজের বর্তমান পয়ঃনিষ্কাশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে গত বছরের ডিসেম্বরেই প্রশ্ন তুলেছিল ট্রাইব্যুনাল। ধর্মীয় অনুষ্ঠান চলাকালীন নদীর জলের গুণগত মান যাতে বজায় থাকে, তার জন্য আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়। এছাড়া উত্তরপ্রদেশে দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডকে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতেও নির্দেশ দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। কিন্তু সেই সময় যোগীরাজ্যের আধিকারিকরা শুধু জল পরীক্ষার রিপোর্টই জমা দিয়ে দায় সারে। ছবি: পিটিআই



