Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মিলল ‘খননের’ অনুমতি, ছটের পরেই রাজ্যে পাইপ পাতার কাজ

মিলল ‘খননের’ অনুমতি, ছটের পরেই রাজ্যে পাইপ পাতার কাজ
  • ৮ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: দীর্ঘ চার মাস পর ফের রাস্তা ‘খননের’ অনুমতি পেল জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর(পিএইচই)। বর্ষা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ওই দপ্তরের শীর্ষ কর্তারা জেলার আধিকারিকদের পাইপ পাতা সহ অন্যান্য প্রয়োজনে রাস্তায় খোঁড়াখুঁড়ি করতে মৌখিকভাবে ‘নিষেধ’ করেছিলেন। সম্প্রতি ফের সেই অনুমতি মিলেছে। ফলে ছটপুজোর পর থেকে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর রাজ্যজুড়ে থমকে থাকা পাইপ লাইনের কাজ শুরু করবে বলে আধিকারিকরা জানিয়েছেন। এরফলে পানীয় জলের জন্য হাপিত্যেস করে বসে থাকা বাসিন্দারা সুরাহা পাবেন বলে মনে করা হচ্ছে। 
Advertisement
জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের বাঁকুড়া ডিভিশনের নির্বাহী বাস্তুকার আশিস গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, কয়েকমাস আগে পর্যন্ত এজেলায় শতকরা ৭৮ শতাংশ মানুষ পানীয় জল পেতেন। কিন্তু, গ্যাসের পাইপ বসানো সহ নানা কারণে বেশ কিছু বাড়ির পানীয় জলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে বর্তমানে মোট দেওয়া সংযোগের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ জল পাচ্ছে না। বাকি ৬০ শতাংশ পরিবার অবশ্য নিয়মিত পরিস্রুত পানীয় জল পাচ্ছে। পাইপ লাইনের কাজ শুরুর জন্য রাস্তা খননের প্রয়োজন। গত চারমাস সেই অনুমতি ছিল না। এবার সেই অনুমতি মিলেছে। ছট পুজোর পর থেকেই আমরা পুরো দমে কাজ শুরু করব। তখন চিত্রটা অনেকটাই বদলে যাবে। 
জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী রাজ্যের গ্রামীণ এলাকায় মোট প্রায় ৬ কোটি ২১ লক্ষ মানুষ বাস করে। তারমধ্যে ২০০০ সালে মাত্র ১ কোটি ২৭ লক্ষ মানুষ পরিস্রুত পানীয় জল পেত। ২০১০ সালে তা বেড়ে হয় ২ কোটি ১৪ লক্ষ। বর্তমানে রাজ্যের ৪ কোটি ৫৯ লক্ষ বাসিন্দা নলবাহিত পানীয় জল পেয়ে থাকে। রাজ্যজুড়ে প্রায় ২৩ হাজার গ্রামে আড়াই হাজারের কিছু বেশি প্রকল্পের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহ করে। ফলে বিপুল এলাকায় জল সরবরাহ করতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মী-আধিকারিকদের নানা সমস্যায় পড়তে হয়। তারমধ্যে মাকড়সার জালের মতো রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা পাইপ লাইনই আধিকারিকদের মাথাব্যথার কারণ। 
পিএইচই’র আধিকারিকদের অভিযোগ, বর্তমানে রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন সংস্থার তরফে বাড়িতে নলবাহিত রান্নার গ্যাসের সংযোগ দেওয়ার কাজ চলছে। ওই পাইপ পাতার জন্য রাস্তা ও সংলগ্ন এলাকায় যথেচ্ছ খোঁড়াখুঁড়ি করা হচ্ছে। তারফলে তাদের পাইপ ফেটে যাচ্ছে। পূর্ত সহ অন্যান্য দপ্তর রাস্তার কাজ করার সময়েও তাদের পাইপের সেভাবে ‘যত্ন’ নেয় না বলে আধিকারিকদের অনুযোগ। পাইপ ফেটে গেলে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা পানীয় জল থেকে বঞ্চিত হন। আবার পাইপ বসানোর জন্য পিএইচই কর্তৃপক্ষ অনেক জায়গায় রাস্তা কেটে ফেলে বলে পূর্ত সহ অন্যান্য দপ্তর অভিযোগ তোলে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সরকারি বৈঠকে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হস্তক্ষেপ করতেও দেখা গিয়েছে।   
জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, মাটির রাস্তা কাটলে আমরাই তা মেরামত করে দিই। পাকা রাস্তা হলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে (পূর্ত, জেলা পরিষদ ইত্যাদি) দাবি মতো ক্ষতিপূরণের টাকা মিটিয়ে দেওয়া হয়। আমরা রাজ্যবাসীর জন্যই রাস্তায় খোঁড়াখুঁড়ির কাজ করি। ফলে অন্যান্য দপ্তরগুলির আমাদের দোষারোপ করা উচিত নয়।
সম্পর্কিত সংবাদ