সুখেন্দু পাল, বোলপুর: রবি ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত বোলপুরে জমি কিনে রাখাটা বহু মানুষের কাছেই ফ্যাশন। বিশেষ করে কলকাতার লোকজনের। কেউ ‘উইক এন্ডে’ এসে ছুটি কাটাতে চান, আবার কেউ বসন্ত উৎসব, পৌষমেলার মতো বিশেষ সময়ে শান্তিনিকেতনে আসার জন্য বাংলো বা বাগানবাড়ি বানিয়ে রাখছেন। অনেকের কাছে আবার এটা ‘ইনভেস্টমেন্ট’। ফলে বোলপুরে জমির চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী। দামের নিরিখে কলকাতাকে টক্কর দিচ্ছে কবিগুরুর এক সময়ের পল্লিগ্রাম। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে বোলপুরে জমি মাফিয়াদের বাড়বাড়ন্ত। জমির মালিকানা কার থাকবে সেটা এখন তাদেরই হাতে। পূর্বপুরুষদের কেনা জমির অধিকার হারাচ্ছেন অনেকেই। কারণ কখন যে জমির রেকর্ড বদলে যাচ্ছে তা মালিকরা টের পাচ্ছেন না। আবার কারও জমি তাঁর অজান্তেই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। মাফিয়াদের মাথার উপর প্রভাবশালীদের হাত থাকায় জমির আসল মালিকদের কপাল চাপড়ানো ছাড়া কিছুই করার থাকছে না।
Advertisement
মাফিয়াদের কারসাজিতে নকল রেকর্ড কাটানোর জন্য জমির মালিকরা ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরে যেতে যেতে হন্যে হয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের জুতো ক্ষয়ে যাচ্ছে, কিন্তু সুরাহা পাচ্ছেন না। এক ভুক্তভোগীর কথায়, ১৯৬২ সালে আমাদের পূর্বপুরুষরা বাইপাস এলাকায় ৩০বিঘার বেশি জমি কিনেছিলেন। আমরা খাজনাও দিয়েছি। আচমকা দেখি, আমাদের জমি প্লট করে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিবাদ করে লাভ হয়নি। খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, শহরে কয়েকজন রাঘববোয়াল নিজেদের লোকজনের নামে জমির রেকর্ড বদল করে নিয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জমি থাকার পরও আমরা এখন নিঃস্ব। রাঘববোয়ালদের লোকজন তা দখল করে কোটিপতি হয়ে উঠেছে।
তিনি আরও বলেন, বৈধ নথি নিয়ে কয়েক বছর ধরে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরে ছোটাছুটি করছি। কিন্তু কোনও সুরাহা মিলছে না। উল্টে আমাদের বিভিন্ন সময় হুমকি দেওয়া হচ্ছে। খুব আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। আমাদের উপর হামলা হলে ওই রাঘববোয়ালরাই জড়িত থাকবে। চিত্রার কাছেও আমাদের জমি বেদখল হয়ে রয়েছে। প্রভাবশালীরা এই কারবারে যুক্ত থাকলে আমরা যাব কোথায়?
শহরের বাসিন্দারা বলছেন, এরকম জোরজুলুমের শিকার হয়েছেন অনেকেই। মাফিয়াদের বিরুদ্ধে জমি মালিকরা বেশ কয়েকবার বিক্ষোভও দেখিয়েছেন। এর আগে সুরুল, শ্রীনিকেতন এলাকাতেও জমির রেকর্ড বদলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল মাফিয়াদের বিরুদ্ধে। সুরুল এলাকার বাসিন্দারা বিক্ষোভও দেখান। বোলপুরে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরে এসেছিলেন এক বৃদ্ধ। তাঁর জমিরও রেকর্ড বদলে গিয়েছে। তিনি বলেন, সরকারি অফিসে আসতেও ভয় লাগে। ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরে এলেই মাফিয়াদের কাছে খবর চলে যাচ্ছে। তাদের লোকজন ফোন করে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। খুব ভয়ে রয়েছি। বোলপুরে জমি মাফিয়াদের মাথার উপর কাদের হাত রয়েছে, তা সবাই জানে। ওরাই এখানকার বিধাতা। তাই নিজের জমি চোখের সামনে প্লট করে বিক্রি হয়ে গেলেও কিছু করার থাকে না। আসলে এখানে রাজনীতি আর মাফিয়ারাজ মিলেমিশে গিয়েছে।
বোলপুরের কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে মাফিয়াদের দৌরাত্ম্যের কথা। নিজেদের অজান্তে কখন জমি বিক্রি হয়ে যাবে সেই চিন্তায় অনেকের রাতের ঘুম চলে গিয়েছে। অনেকে মাঝেমধ্যে জমির রেকর্ড দেখছেন। তা কখন পাল্টে যাবে, তা কেউ জানে না। যদিও বিএলএলআরও সব্যসাচী ঘটক বলেন, কেউ কোনও অভিযোগ নিয়ে সরাসরি এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি নতুন এসেছি। সবকিছু আমার জানা নেই। (চলবে)
তিনি আরও বলেন, বৈধ নথি নিয়ে কয়েক বছর ধরে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরে ছোটাছুটি করছি। কিন্তু কোনও সুরাহা মিলছে না। উল্টে আমাদের বিভিন্ন সময় হুমকি দেওয়া হচ্ছে। খুব আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। আমাদের উপর হামলা হলে ওই রাঘববোয়ালরাই জড়িত থাকবে। চিত্রার কাছেও আমাদের জমি বেদখল হয়ে রয়েছে। প্রভাবশালীরা এই কারবারে যুক্ত থাকলে আমরা যাব কোথায়?
শহরের বাসিন্দারা বলছেন, এরকম জোরজুলুমের শিকার হয়েছেন অনেকেই। মাফিয়াদের বিরুদ্ধে জমি মালিকরা বেশ কয়েকবার বিক্ষোভও দেখিয়েছেন। এর আগে সুরুল, শ্রীনিকেতন এলাকাতেও জমির রেকর্ড বদলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল মাফিয়াদের বিরুদ্ধে। সুরুল এলাকার বাসিন্দারা বিক্ষোভও দেখান। বোলপুরে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরে এসেছিলেন এক বৃদ্ধ। তাঁর জমিরও রেকর্ড বদলে গিয়েছে। তিনি বলেন, সরকারি অফিসে আসতেও ভয় লাগে। ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরে এলেই মাফিয়াদের কাছে খবর চলে যাচ্ছে। তাদের লোকজন ফোন করে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। খুব ভয়ে রয়েছি। বোলপুরে জমি মাফিয়াদের মাথার উপর কাদের হাত রয়েছে, তা সবাই জানে। ওরাই এখানকার বিধাতা। তাই নিজের জমি চোখের সামনে প্লট করে বিক্রি হয়ে গেলেও কিছু করার থাকে না। আসলে এখানে রাজনীতি আর মাফিয়ারাজ মিলেমিশে গিয়েছে।
বোলপুরের কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে মাফিয়াদের দৌরাত্ম্যের কথা। নিজেদের অজান্তে কখন জমি বিক্রি হয়ে যাবে সেই চিন্তায় অনেকের রাতের ঘুম চলে গিয়েছে। অনেকে মাঝেমধ্যে জমির রেকর্ড দেখছেন। তা কখন পাল্টে যাবে, তা কেউ জানে না। যদিও বিএলএলআরও সব্যসাচী ঘটক বলেন, কেউ কোনও অভিযোগ নিয়ে সরাসরি এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি নতুন এসেছি। সবকিছু আমার জানা নেই। (চলবে)



