নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: রানাঘাট শহরে গড়ে উঠতে চলেছে ফিসক্যাল স্লাজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট বা এফএসটিপি। শহরের জনস্বাস্থ্যের মান উন্নয়নে এই সিদ্ধান্ত রানাঘাট পুরসভার। বাড়ি বাড়ি মল সংগ্রহ করে আর কেবল মাটিতে পুঁতে ফেলে দায় মুক্ত হওয়া নয়, বিশেষ প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে তা পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই কাজে সামগ্রিক পরিকাঠামো সহ নিজস্ব ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টও তৈরি হবে শহরের উপকণ্ঠে। আনুমানিক খরচ হতে পারে ২ কোটি টাকা! ভারত সরকারের ‘স্বচ্ছ ভারত মিশন’ এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘নির্মল বাংলা’ প্রকল্পের বরাদ্দ অর্থে এই বিশেষ পরিকাঠামো তৈরি হবে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, রানাঘাট শহরে বাড়ি বাড়ি সেপটিক ট্যাঙ্ক পরিষ্কার এবং মল সংগ্রহের নিজস্ব পরিকাঠামো রয়েছে তাদের। নির্দিষ্ট কিছু অর্থের বিনিময়ে এই বিশেষ পরিষেবা পান শহরবাসী। কিন্তু সংগৃহীত মল পুনর্ব্যবহারযোগ্য করার পরিকাঠামো এখনও নেই। ফলে শহরের কিছুটা দূরে ডাম্পিং গ্রাউন্ডের কাছে বড় বড় গর্ত করে সেই সংগৃহীত মল পুঁতে দেওয়া ছাড়া কোনও বিকল্প পথ নেই। কিন্তু এই পদ্ধতি যে দূরদর্শী নয় তা অনুধাবন করেই বিকল্প পথে হাঁটতে চলেছে পুর কর্তৃপক্ষ। কারণ একদিকে যেমন বাড়ি বাড়ি সংগৃহীত মল পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তোলার প্রয়োজন রয়েছে, তেমনই সময়ের সঙ্গে বাড়ছে জনসংখ্যা। ফলে ভবিষ্যতে এই পদ্ধতি চালু থাকলে জনস্বাস্থ্যের মান ধরে রাখা মুশকিল। দেখা গিয়েছে, বর্তমানে ২০ ওয়ার্ডের রানাঘাট শহরের জনসংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার! তাই নাইট সয়েল বা মল প্রক্রিয়াকরণের জন্য এফএসটিপি তৈরি করতে চেয়ে আবেদন করেছিল পুরসভা। সম্প্রতি তাতে অনুমোদন দিয়েছে সরকার। ইতিমধ্যেই এই বিশেষ প্ল্যান্ট তৈরির জন্য জায়গাও চিহ্নিত করা গিয়েছে।। পুরসভা সূত্রের খবর, আনুলিয়া পঞ্চায়েতের অন্তর্গত পুরসভার নিজস্ব ডাম্পিং গ্রাউন্ডেই তৈরি হবে এই প্ল্যান্ট। ৮ কেএলডি(কিলোলিটার প্রতিদিন) ক্ষমতাসম্পন্ন প্রযুক্তি বসানো হবে। রানাঘাট শহর ছাড়াও আনুলিয়া পঞ্চায়েত এবং আশেপাশের বেশ কিছু এলাকা উপকৃত হবে এই পদক্ষেপে। কিন্তু পুনর্ব্যবহারযোগ্য কী তৈরি হবে? বিষয়টি নিয়ে রানাঘাট পুরসভার ইঞ্জিনিয়ার সুদীপ্ত মুখোপাধ্যায় বলেন, সংগৃহীত মল থেকে সার তৈরির একটি সম্ভাবনা তো রয়েছেই। তবে এক্ষেত্রে আমরা উর্বর মাটি তৈরি করব। বিশেষ পদ্ধতির মাধ্যমে সেই মল মাটিতে রূপান্তর করা হবে। অর্গানিক যৌগের কারণে সেই মাটি হবে খুব উর্বর। যেহেতু আশেপাশের ব্লকগুলিতে হেক্টর হেক্টর চাষের জমি আছে, তাই অল্প মূল্যে সেই উর্বর মাটি বিক্রি হতে পারে। এছাড়াও পুরসভার বিভিন্ন উদ্যানেও ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রসঙ্গত, ভবিষ্যতে উৎপাদিত উর্বর মাটি বিক্রি করে পুরসভার তহবিল অনেকটাই ভরবে বলে মনে করছেন কর্তারা। যদিও একইভাবে রানাঘাট পুরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সার তৈরির পরিকল্পনা একসময়ে থাকলেও, বর্তমানে তা স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। ভবিষ্যতে এই প্রকল্পের যেন সেই পরিণতি না হয়, সেটাইশহরবাসীর প্রার্থনা।



