Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মালদহের ৩২ কিমি উন্মুক্ত সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রশাসনের

মালদহের ৩২ কিমি উন্মুক্ত সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রশাসনের
  • ২১ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে প্রায় ৩২ কিলোমিটার উন্মুক্ত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিতে তৎপর বিএসএফ ও প্রশাসন। ছাড়পত্র মিলতেই কেনা হচ্ছে প্রায় আড়াইশো একরের বেশি জমি। সিপিডব্লিউডির সঙ্গে যৌথ সমীক্ষা চালিয়ে জমি চিহ্নিতকরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যার মধ্যে অধিকাংশ মৌজাই হবিবপুর ব্লকে। বাকিটা কালিয়াচকে। প্রশাসন সূত্রে খবর, চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হবে জমি চিহ্নিত করা। 
Advertisement
জেলাশাসক নীতিন সিঙ্ঘানিয়া বলেন, রাজ্য সরকার অনুমোদন দিয়ে দিয়েছে। আমরা জমি অনেকটাই কিনে ফেলেছি। খুব শীঘ্রই বিএসএফকে জমি হস্তান্তর করা হবে। 
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সীমান্তে কাঁটাতার পাতার জন্য এখনও জমি কেনার কাজ চলছে। মালদহ জেলায় ১৫৮.৫ কিলোমিটার অংশে বাংলাদেশের সীমান্ত আছে। যার মধ্যে ৩১.৫৫ কিলোমিটারে কোনও কাঁটাতারের বেড়া নেই। উন্মুক্ত সীমান্তের অধিকাংশই জেলার হবিবপুর ব্লকের অধীনে। সামান্য কিছু উন্মুক্ত সীমান্ত কালিয়াচক-৩ নম্বর ব্লকে। 
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, হবিবপুর ব্লকের ২৩ টি এবং কালিয়াচক-৩ ব্লকের একটি মৌজায় কাঁটাতারের বেড়া বসানো হবে। এর জন্য ২৫২. ১০ একর জমির প্রয়োজন। ভারত-বাংলাদেশ বর্ডার ফেন্সিং প্রজেক্ট- এর জন্য  জানুয়ারি মাসেই অনুমোদন দিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা। তারপর সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া পাতার জন্য গত ফেব্রুয়ারিতে ডাইরেক্ট ল্যান্ড পার্চেজ কমিটির বৈঠকও হয়ে গিয়েছে। জেলা প্রশাসন এবং সিপিডব্লিউডি যৌথভাবে সীমানা নির্ধারণের কাজ করেছে। উন্মুক্ত সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর জন্য কালিয়াচক-৩ নম্বর ব্লকের ২.২৫ কিলোমিটার জমি চিহ্নিতকরণ সম্পন্ন হয়েছে। হবিবপুর ব্লকের ২৯.৩০ কিলোমিটার জমি চিহ্নিতকরণের প্রক্রিয়া ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে বলে আশাবাদী জেলা প্রশাসন।
সীমান্তের নিরিখে রাজ্যে অন্যতম স্পর্শকাতর জেলাগুলির মধ্যে মালদহ অন্যতম। এই জেলার দু’দিকে রয়েছে উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা। আরেকদিকে গঙ্গা এবং বিহার ও ঝাড়খণ্ডের সীমানা। জেলার পশ্চিম দিকে দেড়শো কিলোমিটার লম্বা বাংলাদেশ সীমান্ত। ফলে জালনোট থেকে গরু পাচার চক্রে বারবারই মালদহ উঠে এসেছে খবরের শিরোনামে। কালিয়াচক, বৈষ্ণবনগরও অতি স্পর্শকাতর এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। এখানে সীমান্তের বেশকিছুটা অংশ এখনও উন্মুক্ত। ফলে বিএসএফের কাছে পাহারা দেওয়া বেশ কঠিন ছিল। বিশেষ করে শীতের মরশুমে ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার সুযোগ ষোলো আনা কাজে লাগানোর চেষ্টা করে পাচারকারীরা।  মালদহ জেলার হবিবপুর ব্লকের প্রায় ৩০ কিলোমিটার উন্মুক্ত সীমান্তের কিছুটা অংশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে পুনর্ভবা নদী। স্বাভাবিকভাবে এই অঞ্চলে বিশেষভাবে সজাগ থাকতে হয় বিএসএফকে। দিনকয়েক আগেই  পাসপোর্ট ছাড়াই হবিবপুর দিয়ে ভারতে ঢুকতে গিয়ে বিএসএফের হাতে ধরা পড়েন এক বাংলাদেশি নাগরিক।
সম্পর্কিত সংবাদ