Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মালদহে অপহৃত শিশুকন্যাকে ৬ ঘণ্টায় উদ্ধার, ধৃত দুই দুষ্কৃতী

মালদহে অপহৃত শিশুকন্যাকে ৬ ঘণ্টায় উদ্ধার, ধৃত দুই দুষ্কৃতী
  • ২২ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, হরিশ্চন্দ্রপুর: অপহরণ করেও শেষরক্ষা হল না। ৬ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিসের জালে পড়ল দুই অপহরণকারী। উদ্ধার করা হয়েছে অপহৃত শিশুকন্যাকেও। পুলিস সূত্রে খবর, ধৃত দুই অপহরণকারীর নাম মনসুর আলম ওরফে রাজু (৩০) ও এজাজ আহমেদ (৩২)। তাদের বাড়ি হরিশ্চন্দ্রপুরের গাঙনদীয়া গ্রামে। রাজু পেশায় হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লকের ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিকের অফিসের মুহুরি। এজাজ ফার্মাসিস্ট। তুলসীহাটা এলাকায় তার ওষুধের দোকান রয়েছে। উত্তর দিনাজপুর জেলার করণদিঘি থানার টুঙ্গিদিঘি ট্রাফিকের নাকা চেকিং পয়েন্টে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিস। খবর পেয়ে সেখান থেকে শিশুটিকে উদ্ধার ও দুই অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিস।
Advertisement
মালদহের পুলিস সুপার প্রদীপকুমার যাদব শনিবার সন্ধ্যায় সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন, শিশু অপহরণের পর প্রথমে বিহারে গা ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করে দুষ্কৃতীরা। কিন্তু, আন্তঃরাজ্য সীমানা সিল করে দেওয়ায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। 
পুলিস সূত্রে খবর, শনিবার সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ হরিশ্চন্দ্রপুরের সালালপুর গ্রামে বাড়ির সামনে রাস্তায় বছর‌ ছয়েকের আফরোজা খাতুন পাড়ার শিশুদের সঙ্গে সাইকেল নিয়ে খেলা করছিল। এমন সময় হেলমেট পরিহিত দুই বাইক আরোহী ওই এলাকায় এসে আফরোজাকে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে দ্রুতবেগে চলে যায়। ঘটনার আকস্মিকতায় চমকে যান সকলে। চিৎকার শুরু করেন স্থানীয়রা। দৌড়ে বাইকটি ধরার চেষ্টা করেন স্থানীয় বাসিন্দা এবং মেয়েটির মাসি। তবে বাইকের গতির সঙ্গে তাঁরা পেরে ওঠেননি। অপহরণকারীদের ছবি এলাকার বিভিন্ন সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। ওই বাইকের কোনও নম্বর প্লেট ছিল না। খবর পেয়ে এলাকা জুড়ে তল্লাশিতে নামে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিস। বাংলা-বিহার সীমানায় সমস্ত নাকা চেকিং পয়েন্ট সহ পার্শ্ববর্তী সব থানাকে সতর্ক করা হয়। ছয় ঘণ্টার মধ্যে টুঙ্গিদিঘি ট্রাফিক পুলিসের জালে ধরা পড়ে অপহরণকারীরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই দুই যুবক কয়েকদিন ধরে গ্রামে বাইক নিয়ে ঘোরাঘুরি করছিল। এদিন বাড়িতে ছিল শিশু ও তার মা। বাবা মালদহ মেডিক্যালে চিকিত্সার জন্য গিয়েছিলেন। সেই সুযোগে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে অপহরণকারীরা।
শিশুর মা মালা খাতুন বলেন, ছোট মেয়েকে নিয়ে বাড়িতে ছিলাম। হটাৎ চিৎকার শুনতে পাই। ছুটে গিয়ে দেখি মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে যাচ্ছে। কেন তারা এমন করেছে বলতে পারছি না।
বাবা সেখ রাজুর কথায়, ওই দুই যুবকের সঙ্গে কয়েক বছর আমার পরিচয় রয়েছে। কয়েকবার আমার বাড়িতে তারা ঘুরতে এসেছে। কেন যে এমন কাজ করল, বলতে পারছি না। হরিশ্চন্দ্রপুর থানার আইসি মনোজিৎ সরকার বলেন, দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কেন অপহরণ করা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদ করার পর জানা যাবে।
এদিকে, পুলিসি তৎপরতা দেখে অপহৃত শিশুর বাবাকে টেলিফোন করে এবং মেসেজ পাঠিয়ে হুমকি দেয় অপহরণকারীরা। কেন পুলিসকে অপহরণের বিষয়টি জানানো হল তারজন্য হুমকিও দেওয়া হয়। এদিন দুপুর তিনটে নাগাদ ফের টেলিফোন করে বাবার সঙ্গে অপহৃত মেয়েকে সঙ্গে কথা বলিয়ে অপহরণের বিষয় জানায় অপহরণকারীরা। পুলিসের সিসিটিভি ম্যাপিং এবং ফোন ট্রাকিং এর ফলে ধরা পড়ে যায় দুষ্কৃতীদের গতিবিধি। উত্তর দিনাজপুর পুলিস, বিহার পুলিস এবং সুন্দরবন পুলিসের সঙ্গেও তথ্য আদান প্রদান করা হয় বলেও জানান পুলিস সুপার। 
অপহৃত শিশুটিকে নিয়ে পালানোর সময় উত্তর দিনাজপুরের করণদিঘি থানার টুঙ্গিদিঘিতে এক ট্রাফিক পুলিসের নজরে পড়ে যার অপহরণকারীরা। পুলিসি তৎপরতা দেখে শিশুটিকে রাস্তায় ফেলে পালানোর চেষ্টা করলে তাদের পিছু নিয়ে গ্রেপ্তার করে পুলিস। রবিবার ধৃতদের মালদহ সিজেএম কোর্টে পেশ করা হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ