সংবাদদাতা, মালদহ: জমিয়ে পড়েছে ঠান্ডা। রসনা তৃপ্তিতে শীতকালীন বিশেষ সব খাবারে মেতেছে মালদহ। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাজার মাতাচ্ছে কলাইয়ের রুটি এবং ভাক্কা পিঠে। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে মূলত মহিলারা কলাইয়ের রুটি বানাচ্ছেন। কেনার জন্য লাইনও পড়ছে অনেক লম্বা। বিকেলের পর থেকে ময়দান দখল করছে ভাক্কা পিঠে। মালদহ শহরের আনাচেকানাচে নজর রাখলেই দেখা যাবে ভাক্কা বিক্রেতাদের। প্রতিটি দোকানের ভিড়ই বলে দিচ্ছে শীতের এই বিশেষ মিঠেপদ খেতে উৎসুক বাসিন্দারা। কলাইয়ের রুটি তৈরিতে মূলত ব্যবহার করা হয় কলাই ডাল এবং কিছুটা চালের গুঁড়ো। দু’টি মিশিয়ে মণ্ড বানিয়ে হাতের তালুতে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে রুটির আকার দেওয়া হয়। তারপর উনুনের ওপর মাটির হাঁড়ি বা কড়াই রেখে সেঁকে নেওয়া হয় ওই রুটি। তেলের ব্যবহার কার্যত নেই এক্ষেত্রে। কলাইয়ের রুটি গ্রাহকের হাতে তুলে দেওয়া হয় রসুন ও ধনেপাতার চাটনি সহ। একেকটি কলাইয়ের রুটি বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকা করে।
Advertisement
মালদহ শহরের গৌড়রোড মোড়ের কাছে এক কলাইয়ের রুটি বিক্রেতা মহিলা জানালেন, সকাল ৯টার মধ্যে তিনি বসে পড়েন অস্থায়ী দোকান নিয়ে। ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে থাকায় এখন দু’টি টুলেরও ব্যবস্থা করেছেন তিনি। কলাইয়ের রুটি হাতে পেতে ১০ থেকে ১৫ মিনিট অপেক্ষাও করছেন ক্রেতারা। অন্যদিকে ভাক্কা পিঠে রয়েছে দু’রকমের। একটি নারকেলের মিষ্টি পুর ভরা, অপরটিতে ব্যবহার করা হচ্ছে ক্ষীর। কেউ কেউ আবার পুর হিসাবে ব্যবহার করছেন খেজুর গুড়ও। দাম ১০ ও ২০ টাকা। চালের গুঁড়ো মূলত এই পিঠে তৈরির মূল উপাদান। অনেকেই কাজের শেষে বাড়ি ফেরার পথে নিয়ে যাচ্ছেন ভাক্কা পিঠে। কেউ আবার দোকানের সামনে দাঁড়িয়েই উপভোগ করছেন গরম ভাক্কার স্বাদ। সন্ধ্যাতেও অনেকেই বেরোচ্ছেন ভাক্কার সন্ধানে। বিক্রেতারা জানান, ঠান্ডা যত বাড়বে, পিঠের চাহিদাও তুঙ্গে উঠবে।



