নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: জনপ্রতিনিধিদের অন্ধকারে রেখে পঞ্চায়েতের কাজকর্ম হচ্ছে বলে স্বয়ং পঞ্চায়েত মন্ত্রীর কাছে নালিশ ঠুকলেন বিধায়করা। এই অভিযোগ ঘিরে মঙ্গলবার সরগরম হয়ে ওঠল কোলাঘাটের বলাকা মঞ্চ। পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার ও দপ্তরের প্রধান সচিব পি উলগানাথনের উপস্থিতিতে জেলায় পঞ্চায়েতের কাজকর্ম নিয়ে রিভিউ মিটিং ডাকা হয়েছিল। পঞ্চায়েত দপ্তরের দুই প্রতিমন্ত্রী বেচারাম মান্না ও শিউলি সাহাও উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তম বারিক, জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজী সহ প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বিধায়ক, জেলা পরিষদের সদস্য, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও পঞ্চায়েত প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন এগরা, নন্দকুমার ও রামনগরের শাসকদলের বিধায়করা।এগরার বিধায়ক তরুণকুমার মাইতি বলেন, আমার বিধানসভা এলাকায় কোথায় কী কাজ হচ্ছে, তা বিডিওরা জানানোর প্রয়োজন মনে করেন না। আমরা জনপ্রতিনিধি হয়েও এলাকার কাজকর্ম নিয়ে অন্ধকারে থাকি। নন্দকুমারের বিধায়ক সুকুমার দে বলেন, আমার বিধানসভা এলাকায় রাস্তা থেকে ড্রেন কোনও কাজেরই খবর আমি পাই না। কোন রাস্তা, কত টাকা খরচ হবে, কবে সেই কাজ শুরু ও শেষ হবে, তার কোনও তথ্য এলাকার জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমাকে জানানো হয় না। এই জেলায় অফিসাররা ব্লক, জেলা চালাচ্ছেন।
পঞ্চায়েত মন্ত্রীকে পাশে পেয়ে এদিন বিধায়করা বেশ সুর চড়িয়ে অফিসারদের বিরুদ্ধে নালিশ জানান। জেলার এক প্রাক্তন মন্ত্রী সাফ জানান, এই জেলায় অফিসারদের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয় নেই। পঞ্চায়েত মন্ত্রী ও দপ্তরের প্রধান সচিবের সামনে অফিসারদের বিরুদ্ধে বিধায়করা এভাবে সরব হতেই হইচই শুরু হয়। জেলা পরিষদের বিরোধী দলনেতা বামদেব মণ্ডল এদিনের মিটিংয়ের এজেন্ডা নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তুমুল ক্ষোভের মুখে পড়েন।



