নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: দ্বন্দ্ব ভুলে বিজয়া সম্মিলনির মঞ্চে একসঙ্গে রায়গঞ্জের বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী এবং রায়গঞ্জের পুরপ্রশাসক সন্দীপ বিশ্বাস ও উপ পুরপ্রশাসক অরিন্দম সরকার। কিছুদিন আগেও বিধায়ক এবং সন্দীপ-অরিন্দমরা একে অপরের বিরুদ্ধে সুর চড়ান। দুর্গাপুজোর পরপরই কার্নিভালের আগে তাঁদের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছিল, তা কার্যত মিটে গেল বিজয়া সম্মিলনির মঞ্চে। দলের স্বার্থে সন্দীপ, অরিন্দম, কৃষ্ণরা যে আসন্ন বিধানসভায় জোটবদ্ধ লড়াইয়ে বিশ্বাসী, তা শুক্রবার আরও একবার প্রকাশ পেল। একযোগে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের বার্তা দিলেন তাঁরা। তাঁদের সামনে রেখে বিধানসভায় রায়গঞ্জ শহর থেকে কমপক্ষে ১০ হাজার ভোটের লিড পাওয়ার আশা ব্যক্ত করলেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল। সবমিলিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে এককাট্টা হয়ে লড়ার বার্তা তৃণমূল নেতৃত্বের। তবে এসবের মাঝেও নব নিযুক্ত টাউন সভাপতি শিবশংকর রায়চৌধুরীকে সর্বসমক্ষেই সহবৎ শেখালেন রায়গঞ্জের উপ পুরপ্রশাসক তথা জেলা সহ সভাপতি অরিন্দম সরকার। তিনি বলেন, যে কোনও সাংগঠনিক সভায় প্রোটোকল অনুযায়ী জেলা বা রাজ্য নেতৃত্ব কেউ থাকলে, তাঁদের নাম আগে বলাটাই শোভনীয়। তারপর শাখা সংগঠন সহ অন্যান্য যাঁরা আছেন, তাঁদের নাম বলা উচিত। যদিও খুব ছোট বিষয়। কিন্তু এই ছোট ছোট বিষয়েই নেতৃত্বের কেউ কেউ অসম্মানিত বোধ করতে পারেন। ছোট ছোট বিষয়েই আমরা আনন্দিত হই, দুঃখিত হই। ব্লক সভাপতিকে উদ্দেশ্য করে অরিন্দম বলেন, আপনার কাঁধে দল দায়িত্ব দিয়েছে। তাই আপনার থেকে দল এটুকু আশা রাখতেই পারে। এদিন শহর লাগোয়া পুরসভার পার্ক মোহরকুঞ্জে শহর ব্লক তৃণমূলের বিজয়া সম্মিলনির আয়োজন হয়। যেখানে শহরের নেতা কর্মী থেকে কো-অর্ডিনেটর- সকলেই উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন না শুধু জেলার মহিলা তৃণমূল সভানেত্রী তথা রায়গঞ্জ পুরসভার কো-অর্ডিনেটর চৈতালী ঘোষ সাহা। তিনিও কিছুদিন আগে নাম করে বিধায়কের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন সামাজিক মাধ্যমে। এদিন বিজেপির বিরুদ্ধে একজোট হয়ে লড়ার বার্তা দিয়ে জেলা সভাপতি বলেন, বিধানসভা ভোটে রায়গঞ্জ শহর থেকে দল কমপক্ষে ১০ হাজার ভোটের লিড আশা রাখে। তারজন্য ওয়ার্ড কো-অর্ডিনেটর থেকে শুরু করে শহরের নেতৃত্বকে সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপাতে হবে। বিজয়া সম্মিলনির মঞ্চ থেকে বিধায়ক কৃষ্ণ বলেন, তৃণমূল নেতৃত্ব এবং বিভিন্ন নেতারা সর্বক্ষণ মানুষের পাশে থাকেন। কিন্তু মানুষের কাজ করেন না বিজেপি সাংসদ কার্তিক পাল। তাঁর কাছেও মানুষের জবাব নিতে হবে। এখনও পর্যন্ত এই বিজেপি সাংসদ রায়গঞ্জ লোকসভায় তেমন কোনও কাজ করতে পারেননি। নিজস্ব চিত্র



