নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিবাহ বিতর্ক থেকে সন্তান জন্মের সময় হাসপাতালের বিল বাবদ ৬ লাখ টাকা! বিতর্ক পিছু ছাড়ে না তৃণমূল বিধায়ক কাঞ্চন মল্লিকের। আর প্রতিবারই তাঁকে নিয়ে চরম অস্বস্তিতে পড়ে শাসকদল। এবার নতুন বিতর্ক! বুধবার স্কুল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিনের (এসটিএম) মেডিসিনের প্রধান ডাঃ মেহবুবার রহমানকে ‘দেখে নেওয়ার’ অভিযোগ উঠল উত্তরপাড়ার বিধায়কের বিরুদ্ধে। ঘটনায় চটে লাল ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টর্স ফোরাম সহ একাধিক চিকিৎসক সংগঠন। অবিলম্বে কাঞ্চনবাবুর বিরুদ্ধে এফআইআর করার আর্জি জানিয়ে ট্রপিক্যালের অধিকর্তাকে চিঠি পাঠিয়েছে তারা। ওই সময়ের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বের করা, অভিযুক্ত বিধায়ককে ভবিষ্যতে ট্রপিক্যালে না ঢুকতে দেওয়া এবং বিস্তারিত রিপোর্ট সরকারের শীর্ষ মহলে পাঠানোরও আরজিও জানানো হয়েছে।
সূত্রের খবর, এদিন বেলায় এক আত্মীয়াকে ডাক্তার দেখাতে ট্রপিক্যালে গিয়েছিলেন বিধায়ক। ত্বক বিভাগে দেখানোর পর রোগিণীকে রেফার করা হয় মেডিসিনে। সেখানকার বিভাগীয় প্রধান ডাঃ রহমানের অভিযোগ, একটি ছোট বাচ্চাকে দেখছিলাম। তারপরই ওঁর আত্মীয়কে দেখতাম। এমনকী যাতে দেরি না হয়, ওই বৃদ্ধার চিকিৎসার রিপোর্টগুলিও আমি দেখে রাখছিলাম। কিন্তু কাঞ্চন ও তাঁর স্ত্রী ওই বৃদ্ধাকে দেখার আগেই তাঁর প্রেশার মাপতে বলেন। ওষুধ সংক্রান্ত নানা কথা ও পরামর্শ দিতে শুরু করেন। আপত্তি জানালে ‘দেখে নেব’, ‘নাম কী’ ইত্যাদি কথা বলেন। ট্রপিক্যাল অধিকর্তা ডাঃ এস কে গুহ বলেন, ‘অনভিপ্রেত ঘটনা। এড়ানো যেত। ডাঃ রহমান লিখিতভাবে ও কাঞ্চনবাবু মৌখিকভাবে অভিযোগ জানিয়েছেন। স্বাস্থ্যদপ্তরে বিষয়টি জানিয়েছি।’
যদিও নিজের সাফাইয়ে কাঞ্চন বলেন, ৮৬ বছরের বৃদ্ধা দিদা শাশুড়িকে চেকআপের জন্য ট্রপিক্যালে নিয়ে গিয়েছিলাম। আউটডোরে টিকিট কেটে ডাক্তার দেখাই। তাঁর পরামর্শমতো মেডিসিনের চিকিৎসককে দেখাতে যাই। প্রথমে তিনজনের লাইন ছিল। অপেক্ষা করি। তারপর সেই চিকিৎসকের কাছে গেলে তিনি বলেন, আমার কাছে কেন এসেছেন? বলি, আমাকে পাশের ঘর থেকেই পাঠিয়েছে। বৃদ্ধ মানুষ আছেন। ওঁর প্রেশারটা একটু চেক করে দিন। স্ত্রী বলেন, প্রেসক্রিপশনের কোন ওষুধটা ওঁকে খাওয়াব আর কোনটা বন্ধ করব? কাঞ্চনবাবুর অভিযোগ, কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের দু’জনের সঙ্গেই দুর্ব্যবহার করেন। চিকিৎসক সংগঠনগুলির ক্ষোভ প্রসঙ্গে বলেন, আমি ডাক্তারদের কলার ধরিনি। গালিগালাজ করিনি। শুধু তৃণমূল বিধায়ক বলেই কি অভিযোগ জানাতে গেলেন ওরা?
কাঞ্চনের ঘটনার খবর পাওয়ার পর প্রগ্রেসিভ হেলথ অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের ঘটনাস্থলে পাঠান মন্ত্রী ডাঃ শশী পাঁজা। নিজেও অধিকর্তা ডাঃ গুহের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁর বক্তব্য, চিকিৎসকদের সঙ্গে এই আচরণ কোনওভাবেই কাম্য নয়।