নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: তৃণমূলের জমানায় বালির ঘাটগুলিতে সিন্ডিকেটের কথা দামোদর বা অজয়ের পাড়ের বাসিন্দাদের অজানা নয়। অবৈধ বালির ঘাট চালিয়ে মোটা টাকা ফায়দা তুলেছে তারা। ওভারলোডেড ট্রাক বা ডাম্পার চালিয়ে পকেট ভরত। রাজ্যে পালাবদলের পর সেই তোলাবাজরা পগারপার হয়ে গিয়েছে। কিন্তু ভোটের ফল বেরনোর পর গেরুয়া তিলক কেটে একশ্রেণির তোলাবাজের আর্বিভাব হয়েছে বলে দলের নেতারা অভিযোগ করছেন। গলসির বিধায়ক রাজু পাত্র বলেন, এরা আমাদের দলের কেউ নয়। ভোটের ফল বেরনোর পর থেকে তারা বিজেপি সাজার চেষ্টা করছে। তারা বালির ঘাটে গিয়ে তিন-চার শতাংশ মালিকানা চাইছে। আবার কেউ রাইসমিলের শেয়ার পর্যন্ত দাবি করে বসছে। এরকম বেশ কয়েকজন তোলাবাজের নাম আমার কাছে এসেছে। তাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হবে। যারা প্রকৃত বিজেপি করে তারা কখনোই তোলাবাজির সঙ্গে যুক্ত থাকবে না। যারা দলের বদনাম করার চেষ্টা করছে তাদের কাউকে ছাড়া হবে না।
বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, সরকার পরিবর্তনের পর অনেকেই তৃণমূল নেতাদের ভূমিকা নিতে চাইছে। তারা বালির ঘাটগুলিতে ভিড় জমাচ্ছে। বালির ঘাটের মালিকদের বিভিন্নভাবে ভয় দেখানো হচ্ছে। জেলায় এখন অবৈধ ঘাট চলছে না। তারপরও নদ বা নদীর পাড়ে গিয়ে তারা দাপাদাপি করছে। গলসির বিধায়ক বলেন, বিজেপির নাম করে কেউ ঘাটে গিয়ে মাতব্বরি করতে পারবে না। কেউ তোলা চাইলে বালির ঘাটের মালিক বা অন্য যে কেউ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কোথাও অবৈধ বালির ঘাট চললে প্রশাসন দেখবে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বালির অবৈধ কারবার বন্ধ করার জন্য কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যে চার কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কয়েকজন বালির ঘাটের মালিককে শোকজ করা হয়েছে। এক আধিকারিক বলেন, বালি মজুতের ক্ষেত্রেও সরকারি নিয়ম মানতে হবে। যেখানে মজুত করার অনুমতি দেওয়া হবে সেখানেই বালি রাখতে হবে। অতিরিক্ত বালি মজুত করা যাবে না। এছাড়া লিজ দেওয়া অংশের বাইরে গিয়ে নদ বা নদী থেকে বালি তোলা যাবে না। কেউ নিয়ম না মানলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বিজেপির একাংশের অভিযোগ, অনেকই অবৈধ বালি ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। তাতে কোনো লাভ হবে না। যাদের বিরুদ্ধে অবৈধ কারবার চালানোর অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। গলসির বিধায়ক বলেন, মানুষ আমাদের উপর ভরসা রেখেছে। তৃণমূলের অবৈধ কাজের প্রতিবাদ জানিয়ে আমাদের ভোট দিয়েছে। এই বিশ্বাস আমরা ভাঙব না। কোথাও তোলাবাজি বা দাদাগিরি করা যাবে না। রাজু পাত্র। ফাইল চিত্র