সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: তেষ্টা মেটানোর জলটুকুও মিলছে না। কোথাও বছরের পর বছর কল দিয়ে জল পড়ে না, আবার কোথাও বৃষ্টি হলে ট্যাপ খুলে বেরোচ্ছে ঘোলাটে নোংরা জল। রঘুনাথগঞ্জ ১ ব্লকের দফরপুর পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দারা বর্তমানে পানীয় জলের অভাবে দিশেহারা। এই পরিস্থিতিতেবৃহস্পতিবার জঙ্গিপুর শহর এলাকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে কড়া মেজাজে ধরা দিলেন স্থানীয় বিধায়ক চিত্ত মুখোপাধ্যায়। অম্রুত প্রকল্পের ধীরগতি নিয়ে ঠিকাদার সংস্থাকে এক হাত নেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত কাজ শেষের নির্দেশ দিলেন বিধায়ক। যেভাবেই হোক দফরপুর এলাকায় পানীয়জল পরিষেবা অতি দ্রুত দিতে হবে বলে তিনি জানান।জঙ্গিপুরের বিধায়ক চিত্ত মুখোপাধ্যায় বলেন,কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে। পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে আমি এক মিনিটও বিলম্ব বরদাস্ত করব না। ঠিকাদার সংস্থার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তাঁরা দ্রুত কাজ শুরু করবে বলে জানিয়েছেন।
রঘুনাথগঞ্জ ১ নম্বর ব্লকের দফরপুর পঞ্চায়েতের প্রতাপপুর-সহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলির ছবি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এলাকায় পানীয় জলের সরবরাহ অনিয়মিত। সবচেয়ে বড় বিপত্তি ঘটে বৃষ্টি হলে। বাসিন্দাদের দাবি, বৃষ্টি নামলেই জলের ট্যাপ দিয়ে বেরোতে শুরু করে হলুদ রঙের ঘোলাটে নোংরা জল! যা পানের অযোগ্য।এমনকীওই জল ধোয়া-মোছার কাজেও ব্যবহার করা যাচ্ছে না। বাধ্য হয়েই দূরদূরান্ত থেকে জল বয়ে আনতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।
অন্যদিকে, জঙ্গিপুর পুরসভা এলাকার ছবিও খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। অধিকাংশ ওয়ার্ডে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরেই নলবাহিত পানীয় জল যায় না। অমৃত প্রকল্পের কাজ এক বছরের বেশি সময় ধরে চললেও এবংবাড়ি বাড়ি সংযোগ দেওয়া সত্ত্বেও মেলেনি জল। এই অচলাবস্থা কাটাতে এবার সরাসরি ময়দানে নামলেন বিধায়ক চিত্তবাবু। এদিন তিনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সংস্থাকে ডেকে পাঠান ও কাজের দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে রীতিমতো কৈফিয়ত তলব করেন।
তবে রঘুনাথগঞ্জের গ্রামীণ এলাকার মানুষ কবে নাগাদ পরিশ্রুত পানীয় জল পাবেন, তা নিয়ে পিএইচই দপ্তরের সুপারভাইজার সায়ন রায় বলেন, কোথাও পাইপ ফেটে নোংরা জল ঢুকতে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।