Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মিলে ধান ঢুকছে তো? গেটে ক্যামেরা চায় নবান্ন

মিলে ধান ঢুকছে তো? গেটে ক্যামেরা চায় নবান্ন
  • ২৯ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ধান কেনায় দালালরাজ বন্ধ করতে কড়া নির্দেশ দিল নবান্ন। কৃষক ছাড়া কোনও দালালদের কাছ থেকে ধান কেনা যাবে না বলে সব জেলার খাদ্যদপ্তরকে জানানো হয়েছে। তারজন্য সমস্ত রকম প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। চাষিদের দাবি, অনেক রাইসমিল বাস্তবে ধান কেনে না। অথচ তারা খাতা কলমে ধান কিনেছে বলে দেখায়। একশ্রেণির প্রভাবশালীর মদতে তারা মোটা টাকা ফায়দা তোলে। অতীতে এরকম একাধিক অভিযোগ উঠেছে। সেই কারণে এবার প্রতিটি রাইসমিলের সামনে ভিডিও ক্যামেরা করার দাবি তুলেছেন কৃষকরা। কোন রাইস মিলে কত ট্রাক্টর ধান ঢুকল তা ক্যামেরার মাধ্যমে স্পষ্ট বোঝা যাবে। কয়েকদিন আগে পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের খাদ্যদপ্তরের স্থায়ী সমিতির বৈঠকেও এমন প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে। 
Advertisement
পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার বলেন, ওই ধরনের অভিযোগ চাষিরা আমাদের আগে অনেকবার জানিয়েছে। ধান বোঝাই ট্রাক্টর ঢোকার সময় রাইসমিলগুলির সামনে ভিডিও ক্যামেরা করা হলে এই অভিযোগ থাকবে না। পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক আয়েশা রানি এ বলেন, ধান কেনায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একমাত্র চাষিরাই ধান বিক্রি করতে পারবেন।
খাদ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিটি ক্রয় কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। আঙুলের ছাপ নেওয়ার পর ধান কেনা হচ্ছে। রেজিস্ট্রেশনের সময় সমস্ত নথি দেখা হয়। চাষিদের দাবি, এরপরও দালালরা ঘুর পথে ফায়দা তোলে। বহু কৃষকেরই অল্প পরিমাণ জমি রয়েছে। সেই সমস্ত কৃষকদের তারা টার্গেট করে। তাদের মাধ্যমেই ক্রয় কেন্দ্রে তারা ধান বিক্রি করে। কৃষকদের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়ে। দালালরা তাদের অল্প কিছু টাকা কমিশন দেয়। এই পদ্ধতিতে ফায়দা তোলায় তাদের চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে ওঠে। এক আধিকারিক বলেন, এভাবে দালালদের চিহ্নিত করা অত্যন্ত কঠিন কাজ। কৃষকদের সহযোগিতা করতে হবে। তবেই সম্পূর্ণ দালালরাজ বন্ধ করা সম্ভব হবে। গলসির কৃষক রাজু পাত্র বলেন, ধান কেনার ক্ষেত্রে আরও সরলীকরণ করা দরকার। তবে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হবে। দালালরা সরকারের ফাঁকফোকরগুলিকে কাজে লাগায়। তারা সরাসরি চাষিদের বাড়িতে গিয়ে ধান কিনছে। তাতে কৃষকদের ঝক্কি অনেকটাই কমে যাচ্ছে। সরকারের উচিত মোবাইল ভ্যানের সংখ্যা বাড়ানো। এই সময় চাষিরা রবি মরশুমের জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ে। দূরে ক্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার মতো সময় তাদের থাকে না। খাদ্যদপ্তর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, গতবছরের থেকে পূর্ব বর্ধমানে সিপিসির সংখ্যা এবার বাড়ানো হয়েছে। মোবাইল ভ্যান বেড়েছে। নবান্নের নির্দেশে ধান কেনার ক্ষেত্রে  আরও কড়াকড়ি করা হচ্ছে। প্রতিটি ব্লকে কমিটি রয়েছে। দালাল রাজ বন্ধ করতে এসে কমিটিগুলিকেও সক্রিয় করা হচ্ছে।
সম্পর্কিত সংবাদ