Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মকরসংক্রান্তিতে বুড়োবুড়ির পুজোয় মেতে উঠলেন রায়গঞ্জের শিল্পীনগরের বাসিন্দারা

মকরসংক্রান্তিতে বুড়োবুড়ির পুজোয় মেতে উঠলেন রায়গঞ্জের শিল্পীনগরের বাসিন্দারা
  • ১৫ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: মকরসংক্রান্তি উপলক্ষ্যে বুড়োবুড়ির পুজোয় মাতলেন রায়গঞ্জ শহরের শিল্পীনগরের বাসিন্দারা। ৭০ বছর ধরে চলা এই পুজোয় শিব পার্বতীই বুড়ো ও বুড়ি রূপে পূজিত হন। পুজোর উপাচার থেকে শুরু করে সবকিছুই একটু ভিন্ন। ভক্তরা মনস্কামনা পূরণের আশায় উৎসর্গ করেন হাঁসের ডিম। আর ভিন্ন এই পুজোকে কেন্দ্র বসে মেলা, বাউল গানের আসর। এমনকী পুজো উপলক্ষ্যে পালিত হয় ঘুড়ি উৎসবও। 
Advertisement
পুজোর আয়োজক সুশান্ত মণ্ডল বলেন, আমার ঠাকুমা শিবদুর্গা দেবী দীর্ঘ বছর আগে এই পুজোর সূচনা করেছিলেন। পরে আমার বাবাও এই পুজো চালিয়ে যান। ধীরে ধীরে পারিবারিক এই পুজো জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এলাকাবাসীর কাছেও। বর্তমানে পুজোটি সর্বজনীন আকার নিয়েছে। প্রতিবেশীরাও আমাদের এই পুজোয় সহযোগিতা করেন। পুজোর বিশেষত্ব হল ভক্তরা মনস্কামনা পূরণের আশায় উৎসর্গ করেন হাঁসের ডিম সহ নানা ব্যঞ্জন। মকর সংক্রান্তির এই পুজোকে ঘিরে ঘুড়ি উৎসব, মেলা ও বাউল গানের আসরও বসতে শুরু করেছে। 
এই লৌকিক পুজো প্রসঙ্গে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দীপক কুমার রায় বলেন, লৌকিক দেবদেবীর মধ্যে অন্যতম বুড়োবুড়ির পুজো এখনও অনেক জায়গায় প্রচলন আছে। বিহারের উত্তরাংশ, দার্জিলিং সহ দেশের বহু জায়গায় এই পুজো হয়ে আসছে। লোকশ্রুতি আছে, কোনও কোনও পরিবারে পূর্বপুরুষকেই উত্তরসূরীরা বুড়োবুড়ি রূপে পুজো করে আসছেন। যার উপাচার হিসেবে লোকজন বাড়িতে যা খাওয়া দাওয়া করেন তাই পুজোর প্রসাদ হিসেবে বুড়োবুড়ির সামনে অর্পণ করেন। এধরনের পুজোয় তেমন কোনও মন্ত্র হয় না। আমার অনুমান সময়ের ফেরে ওই বুড়োবুড়িকেই অনেকে শিবপার্বতী রূপে পুজো করেন। 
এদিকে বিক্ষিপ্তভাবে হলেও বছর দশেক আগে লাটাই হাতে দামাল ছেলেদের অনেকের দেখা মিলত এখানকার ঘুড়ি উৎসবে। কিন্তু ব্যস্ত ছাত্রজীবন, টিউশনি, মোবাইল ফোনে আসক্তি সহ নানা কারণে, খোলা আকাশে ভিড় কমছে পেটকাটি, চাদিয়াল, চৌরঙ্গীর। তবে এখানকার ছেলেমেয়েদের মধ্যে ঘুড়ি ওড়ানোর প্রবণতা আছে। রায়গঞ্জ পুরসভার কো-অর্ডিনেটর অর্ণব মণ্ডল, পেশায় ব্যবসায়ী বিপ্লব সরকারদের মতো ঘুড়ি প্রেমীদের বক্তব্য, ঘুড়ি ওড়ে সীমাহীন আকাশে। যা নিরন্তর সাহস জোগায়। আবার প্রতিপক্ষের সঙ্গে রেষারেষিতে মাঝ আকাশে ঘুড়ি কেটেও যায়। কিন্তু আবারও নতুন ঘুড়ি ভেসে ওঠে। নতুন উদ্যমে ওড়ে মাথা উঁচু করে। যা বাস্তব জীবনেও আমাদের এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর তাই দীর্ঘ বছরের পুজো উপলক্ষ্যে এই ঘুড়ি উৎসব আজও স্থানীয় মানুষের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে রয়েছে।  বুড়োবুড়ির পুজো।-নিজস্ব চিত্র
 
সম্পর্কিত সংবাদ