Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মকর সংক্রান্তিতে পুণ্যস্নান সারতে ভক্তদের ভিড় বালুরঘাটের গঙ্গাসাগরে

মকর সংক্রান্তিতে পুণ্যস্নান সারতে ভক্তদের ভিড় বালুরঘাটের গঙ্গাসাগরে
  • ১৫ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, পতিরাম: উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে কুম্ভমেলা এবং এই রাজ্যের গঙ্গাসাগরের মেলায় পুণ্যার্থীদের ভিড়। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট থেকেও দলে দলে মানুষ যাচ্ছে। কিন্তু অনেকেই দুইয়ের এক জায়গাতেও যেতে পারছেন না। তাই বিকল্প হিসেবে দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গাসাগরে ভিড় জমাচ্ছেন বালুরঘাটের পুণ্যার্থীরা। বালুরঘাটের আত্রেয়ী নদীর তীরে অবস্থিত একটি গ্রাম গঙ্গাসাগর। সেই গঙ্গাসাগরেই গড়ে উঠেছে কপিলমুনির আশ্রম। শুধুমাত্র নামের মাহাত্ম্যেই বালুরঘাটের গঙ্গাসাগর গ্রামে মকরসংক্রান্তিতে প্রতি বছর মেলা বসে। তাই দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতেই বালুরঘাটের গঙ্গাসাগরে ভিড় বাড়ছে পুণ্যার্থীদের। মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে মেলা। ছোট করেই এবার মেলার আয়োজন হয়েছে। তাই বালুরঘাটের ওই গ্রামে সকাল থেকেই  নদীতে পুণ্যস্নান করতে দেখা গেল পুণ্যার্থীদের।
Advertisement
এবিষয়ে গঙ্গাসাগর মেলার আয়োজক যুধিষ্ঠির প্রামাণিক বলেন,  আমাদের এই গ্রামের নাম গঙ্গাসাগর। দীর্ঘবছর আগে আমাদের গ্রামের একজন এখানে পুজো করার স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন। সেই থেকেই আমরা এখানে প্রতি বছর নাম যজ্ঞের আয়োজন করি। সেইসঙ্গে তিন দিন চলবে নামকীর্তন। প্রচুর মানুষ আমাদের নদীর ঘাটে স্নান করতে আসে। এছাড়াও এখানে মেলা বসে। এবারও মেলা বসেছে। 
বালুরঘাট শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের এক পুণ্যার্থী পারমিতা দাস বলেন, দক্ষিণ ২৪ পরগনার গঙ্গাসাগর অনেক দূরের রাস্তা। এমনকী কুম্ভমেলা আরও দূরে। তাই যেতে পারি না। শুনেছি বালুরঘাটের গঙ্গাসাগরে স্নান করেই সমান পুণ্য অর্জন করা যায়। আমাদের আত্রেয়ীও গঙ্গার সমান। তাই  এবার এসেছি। স্নান করে পুজো দিয়ে বাড়ি ফিরছি। 
বালুরঘাট শহর থেকে ৬ কিমি দূরে আত্রেয়ী নদীর পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত গঙ্গাসাগর গ্রাম। নামের মাহাত্ম্য অনুসারে আজ থেকে ৪২ বছর আগে গ্রামের বয়স্করা দক্ষিণবঙ্গের গঙ্গাসাগরের মতো কপিলমুনির মন্দির গড়ে তোলেন। সেই থেকে শুরু হয় মন্দিরের পাশে নদীতে স্নান করে মন্দিরে পুজো দেওয়ার রীতি। ধীরে ধীরে গঙ্গাসাগর গ্রামের এই পুণ্য স্নানের কথা ছড়িয়ে পড়ে জেলা থেকে জেলার বাইরে। প্রতি বছর বালুরঘাট সহ দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা এবং জেলা বাইরের বহু মানুষ এখানে মকরসংক্রান্তির পুণ্যস্নান করতে আসেন। এবারও তিন দিন ব্যাপী মন্দির চত্বরে সংকীর্তন হবে। সেই সঙ্গে ছোট করে মেলা বসেছে। তিন দিন ধরে গ্রামে চলবে এই মিলন মেলা। এই মেলাতে শহর এবং জেলার বিভিন্ন স্থান থেকেই মানুষজন আসে।  নিজস্ব চিত্র।
সম্পর্কিত সংবাদ