Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে গ্রামে গ্রামে সরকারি প্রকল্পের অবস্থা যাচাই আধিকারিকদের

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে গ্রামে গ্রামে সরকারি প্রকল্পের অবস্থা যাচাই আধিকারিকদের
  • ৯ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মেনে গ্রামে গ্রামে সরকারি প্রকল্পের কাজ খতিয়ে দেখা শুরু করলেন জেলা ও মহকুমার অফিসাররা। প্রত্যেক সপ্তাহে দু’দিন করে পঞ্চায়েতস্তরে গিয়ে সরকারি কাজ দেখতে হবে অফিসারদের। এজন্য জেলা প্রশাসনের তরফে ক্যালেন্ডার বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার থেকেই আরামবাগ মহকুমায় পরিদর্শন শুরু করেছেন আধিকারিকরা। আজ, বৃহস্পতিবারও মহকুমার প্রত্যেক ব্লকের একটি করে পঞ্চায়েত এলাকায় যাবেন আধিকারিকরা। সরকারি প্রকল্পগুলির অবস্থা খতিয়ে দেখে তার রিপোর্ট একটি পোর্টালে ছবি সহ আপলোড করার নির্দেশও রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এলাকায় নানা বিষয়ের সমস্যা রয়েছে। প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা তা সরেজমিনে দেখলে অনেক সমস্যারই সমাধান হবে। 
Advertisement
আরামবাগের মহকুমা শাসক রবি কুমার বলেন, সরকারি সব ধরনের কাজ খতিয়ে দেখছেন আধিকারিকরা। সম্প্রতি পরিদর্শনের কাজ শুরু হয়েছে। আমি তিরোল এলাকায় গিয়েছিলাম। সেখানে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, মিড ডে মিল, রাস্তা, পথ বাতি প্রভৃতি দেখা হচ্ছে। পরিদর্শনের রিপোর্ট পোর্টালে আপলোড করা হয়েছে। দু’-একটি সমস্যা নজরে এসেছে। সেগুলি সংশ্লিষ্ট দপ্তর খতিয়ে দেখছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি প্রশাসনিক বৈঠক করেন। সেই বৈঠক থেকেই এমন কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরই হুগলি জেলায় অফিসারদের নিয়ে একটি ক্যালেন্ডার করা হয়েছে। সপ্তাহে দু’দিন এই পরিদর্শন হবে। কোন কোন অফিসার কোন পঞ্চায়েতে যাবেন, তা ঠিক করা হয়েছে। 
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আজ, বৃহস্পতিবার আরামবাগের বাতানল, পুরশুড়ার চিলাডাঙি, গোঘাট-১ ব্লকের ভাদুর, গোঘাট-২ এর শ্যামবাজার, খানাকুল-১ এর ঠাকুরানিচক ও খানাকুল-২ ব্লকের নতিবপুর-১ পঞ্চায়েত এলাকায় পরিদর্শন হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে জেলা ও মহকুমা স্তরের কোন কোন অফিসার যাবেন, তার তালিকাও করে দিয়েছে প্রশাসন। 
প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বর্তমানে বাংলার বাড়ি, জল প্রকল্পের কাজে বিশেষ জোর দিয়েছে রাজ্য। ফলে চলতি সেইসব প্রকল্পগুলির কাজ খতিয়ে দেখবেন অফিসাররা। এছাড়াও সরকারি অন্যান্য কাজের মানও তাঁরা দেখবেন। 
জানা গিয়েছে, তিরোল পঞ্চায়েত এলাকায় আধিকারিকরা গেলে বাসিন্দারা অতিরিক্ত একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের দাবি জানান। এছাড়া একটি সোলার বাতি স্তম্ভের যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে। তা মেরামতির নির্দেশ দেন অফিসাররা। 
যদিও প্রশাসনের এমন পদক্ষেপকে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি বিমান ঘোষ বলেন, এসব করে কোনও লাভ হবে না। চোখে ধুলো দিতেই এমন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দলের নেতাদের কুকর্ম চাপা দিতে প্রশাসনকে পাঠানো হচ্ছে। 
যদিও পাল্টা আরামবাগ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তৃণমূলের শিশির সরকার বলেন,  মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে প্রশাসনের আধিকারিকরা সব সরকারি কাজ দেখছেন। এতে কাজে গতি ও স্বচ্ছতা থাকবে। বিজেপি রাজ্যের বা দেশের জন্য কী করেছে? বাংলাকে বঞ্চনা করেছে। তাই ওদের কথার কোনও ভিত্তি নেই।
সম্পর্কিত সংবাদ