Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পরই বেআইনি কার্যকলাপ রুখতে তৎপর পুলিস, অবৈধ পাথর কারবারে রাশ টানতে নলহাটিতে অভিযান

মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পরই বেআইনি কার্যকলাপ রুখতে তৎপর পুলিস, অবৈধ পাথর কারবারে রাশ টানতে নলহাটিতে অভিযান
  • ২৩ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, রামপুরহাট : নলহাটিতে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে পাথর পাচারের নতুন পন্থা নিয়েছিল অসাধু কারবারিরা। ক্র্যাশার থেকে ট্রাক্টরে ওভারলোড পাথর এনে জাতীয় সড়কের কাছাকাছি জায়গায় গোলার আকারে মজুত করা হতো। পরে ডাম্পার, লরিতে চাপিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় দেদার চলত পাচার। এমন অবৈধ কারবার রমরম করে চলতে শুরু করেছিল। সোমবার ‘বর্তমান’ কাগজে সেই খবর প্রকাশিত হয়। তা দেখেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। অবশেষে শুক্রবার সকালে মহকুমা শাসক, এসডিপিও, এসডিএলএলআরও এবং পুলিস যৌথভাবে অভিযানে নামে। বা঩জেয়াপ্ত করা হয় একাধিক পাথর বোঝাই ট্রাক্টর। বন্ধ করে দেওয়া হয় গোলা। সিল করা হয় ট্রাক্টরের ডালা তৈরির একাধিক গ্যারেজ। 
Advertisement
প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাথর শিল্পাঞ্চলের রাস্তায় বসানো হয়েছে রয়্যালটি আদায়ের গেট। তবে, নলহাটিতে এই র‌য়্যালটি আদায়ের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে স্থানীয় ট্রাক্টরগুলিকে। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অনেকে ক্র্যাশার থেকে ট্রাক্টরে পাথর বোঝাই করে রয়্যালটি গেট পেরিয়ে এসে জাতীয় সড়কের কাছাকাছি এলাকায় গোলা তৈরি করে সেখানে জমা করছে। তারপর পাচার। অভিযোগ, পুলিস মাঝেমধ্যে আইওয়াশ করতে একটি-দু’টি ট্রাক্টর আটক করে। কিন্তু লাভের লাভ কিছু হয় না। প্রতিবাদে এদিন পাথর শিল্পাঞ্চল যাওয়ার রাস্তা অবরোধ করেন ট্রাক্টর মালিকরা। তাঁদের অভিযোগ, যারা পুলিসকে মান্থলি দিয়ে গোলা চালাচ্ছে, তাদের ট্রাক্টর ধরা হচ্ছে। অথচ যারা কারও বাড়ি বা অন্য কাজের জন্য চিপস সরবরাহ করছে, সেই ট্রাক্টরগুলিকে ধরে জরিমানা অথবা কেস দেওয়া হচ্ছে। যদিও টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিস।
এদিকে বৃহস্পতিবারই নবান্নে প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, স্থানীয়স্তরে কিছু অফিসার ও পুলিস টাকা খেয়ে অবৈধ কারবারে মদত দিচ্ছেন। দুর্নীতি, তোলাবাজি, বেআইনি পথে ইনকাম কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন তিনি।  
মনে করা হচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রীর এমন হুঁশিয়ারির পর সোমবার প্রশাসনের কর্তারা এলাকায় অভিযানে নামেন। গোলাগুলি ছোটখাটো পাথর শিল্পাঞ্চলের চেহারা নিয়েছে। যদিও গোলা কারবারিরা তাঁদের দেখে গা ঢাকা দেয়। প্রশাসন সূত্রে খবর, গোলাগুলি কার জায়গায় করা হয়েছে, সেগুলি দেখে মালিকদের নোটিস দেওয়ার পাশাপাশি মজুত পাথর বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এছাড়া গোলার আনলোড করার আগেই ন’টি ওভারলোড পাথর বোঝাই ট্রাক্টর আটক করা হয়। এদিকে ওভারলোড বহনের জন্য ট্রাক্টরগুলির ডালা লরির আকারে রূপ দেওয়ার জন্য ওই এলাকায় চারটি গ্যারেজ গজিয়ে উঠেছিল। এদিন প্রতিটি গ্যারেজ সিল করে দেওয়া হয়। 
রামপুরহাট মহকুমাশাসক সৌরভ পাণ্ডে বলেন, ‘গোলাগুলি বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে দশটি ট্রাক্টর আটক করা হয়েছে। চারটি গ্যারেজ সিল করা হয়েছে। সেই সঙ্গে স্থানীয় পুলিস প্রশাসনকে নজরদারি চালানোর জন্য বলা হয়েছে। কোনও অবৈধ কারবার চলতে দেওয়া হবে না।’ প্রশাসনের এই পদক্ষেপে খুশি এলাকার মানুষ। তাঁরা বলেন, যত্রতত্র গোলা হওয়ার জন্য এলাকায় ধুলো-দূষণ হচ্ছিল যথেচ্ছ হারে। বাড়ির দরজা, জানালা খোলা দায় হয়ে পড়েছিল। প্রশাসনের এই পদক্ষেপ কিছুটা হলেও স্বস্তি মিলবে।
সম্পর্কিত সংবাদ