নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: বিড়ি শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে অক্টোবর মাসের শুরুতে বিড়ি বাঁধার মজুরি বৃদ্ধি হয়। তবে মুর্শিদাবাদ জেলার বেশ কিছু এলাকায় বর্ধিত এই মজুরি শ্রমিকরা হাতে পাচ্ছেন না বলেই অভিযোগ। নতুন নিয়মে, নভেম্বর মাস থেকে এক হাজার বিড়ি বাঁধলে মিলবে ২০২ টাকা। টানা তিন বছর পর ১৭৮ টাকা থেকে ২৪ টাকা মজুরি বাড়িয়ে ২০২ টাকা করা হয়েছে। মুর্শিদাবাদে বিড়ি শ্রমিক ইউনিয়ন এবং বিড়ি মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের কয়েক দফা আলোচনার পর মালদা, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, পুরুলিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং ঝাড়খণ্ডের পাকুড় জেলার শ্রমিকদের মজুরি বেড়েছে। তবে একমাস কেটে গেলেও বর্ধিত হারে মজুরি না পাওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে বিড়ি মহল্লায়। অনেকে শ্রমিক মুন্সিদের কাছে বর্ধিত হারে মজুরি দেওয়ার জন্য দাবি জানালেও কেউ কর্ণপাত করছে না বলেই অভিযোগ। অনেক মুন্সি অতিরিক্ত টাকা দিয়ে বিড়ি বাঁধাতে পারবে না বলেই শ্রমিকদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে।
Advertisement
জঙ্গিপুর মহকুমার অধিকাংশ বাড়িতেই মহিলারা বিড়ি বেঁধে সংসার চালান। শ্রমিকদের অভিযোগ, গত তিন বছর ধরে এক হাজার বিড়ি তৈরির জন্য ১৭৮ টাকা মজুরি মিলছিল। নতুন চুক্তির ভিত্তিতে নভেম্বর মাসের ১ তারিখ থেকে এক হাজার বিড়ি তৈরির জন্য তাদের ২০২ টাকা মজুরি পাওয়ার কথা ছিল। এখন তাঁরা এক হাজার বিড়ি জমা করলে বেশ কিছু মুন্সি লগবুকে এক হাজারের পরিবর্তে ৯০০ বিড়ি জমা করছেন। তার বিনিময়ে বিড়ি শ্রমিকদেরকে ১৮৬-১৯৮ টাকা পর্যন্ত মজুরি দিচ্ছেন। তাঁদের আরও অভিযোগ, জঙ্গিপুর মহকুমার বেশিরভাগ মুন্সি, বিড়ি শ্রমিকদের কাছ থেকে চার মুঠা (প্রায় ১০০ বিড়ি) অতিরিক্ত হিসেবে কেটে নিচ্ছেন। এর পাশাপাশি ‘ছাঁট’ হিসেবেও মুন্সিরা প্রচুর বিড়ি বাদ দিতে শুরু করেছেন। এরফলে বিপাকে পড়েছেন শ্রমিকেরা।
রঘুনাথগঞ্জের মিঠিপুরের বিড়ি শ্রমিক হামদুল বিবি বলেন, আমরা এক হাজার বিড়ি বেঁধে ২০২ টাকা করে মজুরি পাচ্ছি না। মুন্সিকে বললে তিনি বলছেন, এত টাকা মজুরি দিয়ে বিড়ি বাঁধাতে পারব না। এখন বেশি কিছু বললে বিড়ি বাঁধার কাজ হারাতে হতে পারে।
জঙ্গিপুরের বিড়ির কনট্রাক্টর জিয়াউর রহমান খান বলেন, বিড়ি বাঁধার মূল্য ২৪ টাকা বৃদ্ধি হয়েছে, বৃদ্ধির ২৪ টাকা ধরেই শ্রমিকদের মজুরি দিই। তবে ২০২ টাকা করে মজুরি দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সমস্যা রয়েছে। তারমধ্যে পিএফের টাকা, এলাকা ভিত্তিক শ্রমিকের মূল্য, বিড়ির চাহিদা সহ অভ্যন্তরীণ অনেক বিষয় রয়েছে।রঘুনাথগঞ্জের মিঠিপুরের বিড়ি শ্রমিক হামদুল বিবি বলেন, আমরা এক হাজার বিড়ি বেঁধে ২০২ টাকা করে মজুরি পাচ্ছি না। মুন্সিকে বললে তিনি বলছেন, এত টাকা মজুরি দিয়ে বিড়ি বাঁধাতে পারব না। এখন বেশি কিছু বললে বিড়ি বাঁধার কাজ হারাতে হতে পারে।
বিড়ি মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন সেক্রেটারি রাজকুমার জৈন বলেন, অভিযোগটি আমি শুনেছি। তবে অ্যাসোসিয়েশনের অন্তর্ভুক্ত বিড়ি মালিকরা সঠিক মজুরি না দিলে আমাদের বলার থাকে। বিড়ি কনট্রাক্টরা কে কোথায় কত রেট দিচ্ছেন, সেটা আমাদের দেখার কথা নয়। বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন এবিষয়ে দায়িত্ব নিয়েছিল। আমি তাদের সঙ্গে কথা বলব।



