নয়াদিল্লি: সম্ভাবনা অনেকেরই ছিল। স্বপ্ন দেখছিলেন কেউ কেউ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সবাইকে চমকে দিয়ে বিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন মিঠুন মানহাস। রবিবার তিনি মনোনয়ন জমা দিলেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারের তকমা জোটেনি মিঠুনের। খেলেছেন স্রেফ প্রথম শ্রেণির ম্যাচ। কিন্তু বোর্ড প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য যে যোগ্যতা নয়, দরকার বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের আশীর্বাদ। সেই অঙ্কেই বিসিসিআইয়ের সভাপতি হচ্ছেন মিঠুন।
লোধা নিয়মে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর বোর্ডের বার্ষিক সাধারণ সভা। সরকারিভাবে সেদিনই নতুন বোর্ড কমিটির পদাধিকারী এবং আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান সহ অন্যান্য সদস্যরা দায়িত্ব পাবেন। অনেকেই মনে করছিলেন, রাজীব শুক্লাকে এক বছরের জন্য বোর্ড সভাপতি করা হতে পারে। কারণ, রজার বিন্নির বয়স সত্তর হয়ে যাওয়ায় তিনি প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছিলেন। অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন রাজীব, কারণ তিনি ছিলেন ভাইস-প্রেসিডেন্ট।
ভারতীয় ক্রিকেটের সিংহাসনে পাকাপাকিভাবে বসার জন্য কংগ্রেস নেতা রাজীব শুক্লা চেষ্টার কসুর করেননি। বাড়িতে দিয়েছিলেন বিশাল পার্টি। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির একাধিক নেতা-মন্ত্রী। কিন্তু তাঁরা তো তালপাতার সেপাই। ভারতীয় ক্রিকেটের অঘোষিত ‘বস’ এখন একজনই— তিনি অমিত শাহ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাড়িতেই রবিবার রাতে বোর্ডের নতুন পদাধিকারীদের নাম চূড়ান্ত হয়। তবে এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কোনওদিন ব্যাট না ধরলেও তিনিই এখন ভারতীয় ক্রিকেটের শেষ কথা। সৌরভ গাঙ্গুলিকে বোর্ড সভাপতির পদ থেকে সরানো হয়েছিল তাঁর নির্দেশেই। তিনি যা চাইবেন, সেটাই হবে। মিঠুন মানহাসের বোর্ড সভাপতি হওয়া নিঃসন্দেহে বড় চমক। ভুললে চলবে না সৌরভ গাঙ্গুলি, হরভজন সিংয়ের মতো তারকারাও বোর্ডের এজিএমে প্রতিনিধিত্ব করবেন। কিন্তু তাঁরা তো আর ‘ইয়েস ম্যান’ নন! তাই গুজরাত টাইটান্সের সহকারী কোচ বিরাট পুরস্কার পাচ্ছেন।
ক্রিকেট কখনওই রাজনীতির ঊর্ধ্বে ছিল না। তবে গত এক দশকে তা আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। প্রবল গৈরীকিকরণ ঘটেছে বিসিসিআইয়ে। সৌরভকে দিয়ে বাংলা জয়ের স্বপ্ন অপূর্ণ থাকায় সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বোর্ড সভাপতির পদ থেকে। বসানো হয়েছিল রজার বিন্নিকে। তিনি তিরাশির বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য। কিন্তু মিঠুন মানহাস? নাম শুনে মুচকি হাসছেন বোর্ড সদস্যরা। যদিও সিবিআই, ইডির ভয়ে সবার মুখে কুলুপ। তবুও কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে, মিঠুন বোর্ড সভাপতি হচ্ছেন ঠিকই, রিমোট তো থাকবে অন্যের হাতে।