লখনউ: মনে হচ্ছিল, লড়াইটা ডেভিড ও গোলিয়াথের। আইপিএলের পয়েন্ট টেবিলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু এবং লখনউ সুপার জায়ান্টসের অবস্থান অন্তত সেই আভাসই দিচ্ছিল। গতবারের চ্যাম্পিয়ন কোহলিরা রয়েছেন একেবারে উপরের সারিতে। আর পন্থের এলএসজি সবার নীচে। তবে বৃহস্পতিবার দু’দলের লড়াই জমিয়ে দিলেন মিচেল মার্শ। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে লখনউয়ের জয়ের ভিত গড়ে দেন অজি তারকা। ১৯ ওভারের ম্যাচে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে এলএসজি ৩ উইকেটে তোলে ২০৯ রান। মার্শ ৫৬ বলে ১১১ করেন। জবাবে ৬ উইকেটে ২০৩ রানে আটকে যায় বেঙ্গালুরু। ডিএল মেথডে ৯ রানে হেরে শীর্ষস্থান দখলের সুযোগ হাতছাড়া করল গতবারের চ্যাম্পিয়নরা। অন্যদিকে, টানা ৬ ম্যাচে হারের ধাক্কা কাটিয়ে সাফল্যের খোঁজ পেল লখনউ।
একানা স্টেডিয়ামে টস জিতে ফিল্ডিং নিয়েছিলেন আরসিবি’র অধিনায়ক রজত পাটীদার। ম্যাচ শুরুর দু’ওভারের মধ্যে নামে বৃষ্টি। দীর্ঘক্ষণ পর ফের খেলা শুরু হলে রীতিমতো ঝড় তোলেন মিচেল মার্শ। ৪৯ বলে শতরানে পৌঁছান তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ৯টি বাউন্ডারি ও ৯টি ছক্কা। মার্শের সঙ্গে ওপেন করতে নেমে এদিন সুবিধা করতে পারেননি আরশিন কুলকার্নি (১৭)। তবে অফ-ফর্ম কাটিয়ে নিকোলাস পুরান দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করলেন (৩৮)। শেষদিকে ১০ বলে অপরাজিত ৩২ রানের ঝোড়ো ইনিংস উপহার দেন ক্যাপ্টেন ঋষভ পন্থ। সেই সুবাদে দুশো পেরিয়ে যায় লখনউয়ের স্কোর।
জবাবে ৯ রানের মধ্যে জেকব বেথেল (৪) ও বিরাট কোহলির উইকেট খুইয়ে চাপে পড়ে যায় আরসিবি। বিরাট তো খাতাই খুলতে পারেননি। তবে তৃতীয় উইকেটে বড়ো জুটি গড়ে আশা জাগিয়েছিলেন দেবদূত পাদিক্কাল (৩৪) ও রজত পাটীদার (৬১)। তাঁরা ফেরার পর আক্রমণাত্মক ব্যাট করেন টিম ডেভিড (১৭ বলে ৪০) ও ক্রণাল পান্ডিয়া (অপরাজিত ২৮)। মরিয়া চেষ্টা চালান রোমারিও শেফার্ডও (অপরাজিত ২৩)। কিন্তু তাতেও শেষরক্ষা হয়নি। লখনউয়ের বোলারদের মধ্যে প্রিন্স যাদব ৩টি ও শাহবাজ আহমেদ ২টি উইকেট নেন।
লখনউয়ের কাছে হেরে তৃতীয় স্থানেই রইল আরসিবি (১০ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট)। ১১ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে সবার উপরে হায়দরাবাদ। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পাঞ্জাব (১০ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট)।