নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: একে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক, তার উপর সেই যুবকের সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল হতেই ‘লজ্জা’য় অফিসে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন মহিলা পঞ্চায়েত প্রধান। যদিও ওই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি ‘বর্তমান’। প্রায় তিন সপ্তাহ হতে চলল পঞ্চায়েত অফিসে গরহাজির ওই প্রধান। ফলে তাঁর অনুপস্থিতিতে পঞ্চায়েতের কাজ কার্যত শিকেয় উঠে গিয়েছে। প্রতিদিনই কিছু না কিছু কাজ নিয়ে সাধারণ মানুষ পঞ্চায়েত অফিসে আসছেন, কিন্তু খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে তাঁদের। এই ঘটনা হাওড়ার জগৎবল্লভপুরের বড়গাছিয়া ১ নম্বর পঞ্চায়েতের। ইতিমধ্যেই প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে পোস্টার পড়েছে পঞ্চায়েত অফিসে। তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি জানিয়েছেন, বিষয়টি উচ্চতর নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে। প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে। এদিকে, পঞ্চায়েতের কাজ স্বাভাবিক করতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে জগৎবল্লভপুর পঞ্চায়েত সমিতি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এক যুবকের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে ওই মহিলা পঞ্চায়েত প্রধানের। সপ্তাহ তিনেক আগে ওই যুবকের সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায় তাঁর একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। স্বাভাবিকভাবেই ওই ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। ওই ঘটনার পর থেকেই আর পঞ্চায়েত অফিসমুখো হননি প্রধান। ফলে রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট, ওয়ারিশন সার্টিফিকেট, ইনকাম সার্টিফিকেটে প্রধানের সই, জমির খাজনা জমা করা সহ বিভিন্ন কাজের জন্য গিয়েও ফিরে আসতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। পঞ্চায়েতের অন্যান্য পরিষেবামূলক কাজকর্মও একপ্রকার বন্ধ। প্রায় তিন সপ্তাহ যাবত এই অচলাবস্থার জেরে রীতিমতো ক্ষুব্ধ স্থানীয় লোকজন। স্থানীয় বাসিন্দা নেপাল রায় বলেন, ‘ছেলের স্কুলের শিক্ষাশ্রী সার্টিফিকেটে পঞ্চায়েত প্রধানের সই প্রয়োজন। প্রতিদিন আসছি, অথচ খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে।’ দু’দিন আগেই পঞ্চায়েত প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে পঞ্চায়েত অফিসের দেওয়ালে কেউ বা কারা পোস্টার সেঁটে দিয়ে গিয়েছে। পোস্টারে লেখা— ‘পঞ্চায়েত প্রধান নীতিবিরুদ্ধ ও অসামাজিক কাজে লিপ্ত। প্রধানকে গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রবেশ করতে দেব না। অবিলম্বে এই চরিত্রহীন পঞ্চায়েত প্রধানের পদত্যাগ চাই।’
এ নিয়ে চরম অসন্তুষ্ট স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি জাফর মোল্লা বলেন, ‘পঞ্চায়েত প্রধান নোংরা কাজ করেছেন। সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ। বিষয়টি নেতৃত্বকে জানিয়েছি। প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে।’ পঞ্চায়েত প্রধানের এই ধরনের ভিডিও আগেও ভাইরাল হয়েছে বলে দাবি করেছেন এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদের বক্তব্য, এর আগেও প্রধানের বিভিন্ন কীর্তিকলাপের ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। এ নিয়ে পঞ্চায়েত প্রধানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর প্রতিক্রিয়া মেলেনি। জগৎবল্লভপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রঞ্জন কুণ্ডু বলেন, ‘পঞ্চায়েতে যাতে অচলাবস্থা তৈরি না হয়, জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা করা হবে। পঞ্চায়েতের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গেও কথা হয়েছে। প্রধানের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ শোনা যাচ্ছে, দল যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।’ নিজস্ব চিত্র