Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কোন্নগরের তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য খুনে অধরা দুষ্কৃতীরা, তদন্তে পুলিস

কোন্নগরের কানাইপুর পঞ্চায়েতের তৃণমূল কংগ্রেস সদস্য খুনের ঘটনায় দুষ্কৃতীরা এখনও অধরা

কোন্নগরের তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য  খুনে অধরা দুষ্কৃতীরা, তদন্তে পুলিস
  • ১ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: কোন্নগরের কানাইপুর পঞ্চায়েতের তৃণমূল কংগ্রেস সদস্য খুনের ঘটনায় দুষ্কৃতীরা এখনও অধরা। একগুচ্ছ সূত্র পেলেও, চন্দননগর কমিশনারেটের পুলিস বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত ওই ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তবে পুলিসের তদন্তে বেশ কিছু তথ্য উঠে এসেছে। জানা গিয়েছে, দু’জন দুষ্কৃতী তৃণমূল নেতা পিন্টু চক্রবর্তী ওরফে মুন্নাকে খুন করতে এসেছিল। তাদেরই একজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করেছিল। রাতে খুন করা হলেও, দুপুর থেকেই এলাকায় ঘাঁটি গেড়েছিল দুষ্কৃতীরা। রীতিমতো রেকি করে ওই নেতার গতিবিধির সমস্ত তথ্য যাচাই করে তবে খুন করা হয়েছিল। অর্থাৎ তাৎক্ষণিক পরিকল্পনায় খুন হয়নি। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, দুষ্কৃতীরা ওই নেতার রান্নার গ্যাসের অফিসের কাছে অস্ত্র ছাড়াই এসে অপেক্ষা করছিল। প্রাণঘাতী আঘাত হানার ঠিক আগের মুহূর্তে ঘাতক অস্ত্রটি তৃতীয় কোনও ব্যক্তি সরবরাহ করে গিয়েছিল। দুষ্কৃতীদের এই সময় ধরে দুষ্কৃতীদের নিখুঁত পরিকল্পনা জেনে চমকে গিয়েছেন পুলিস কর্তারা। যদিও ঠিক কী কারণে পিন্টুবাবুকে খুন করা হল, তা নিয়ে পুলিস নিশ্চিত তথ্য পায়নি। তদন্তকারীদের একাংশের দাবি, প্রভাবশালী ওই নেতা সম্প্রতি জমি-বাড়ির প্রোমোটারির কাজ শুরু করেছিলেন। সেখানেই কোনও বিরোধের সূত্র আছে। একাধারে ব্যবসায়ী, শাসক দলের পঞ্চায়েত সদস্য প্রভাবশালী ওই নেতার মরদেহ বৃহস্পতিবার রাতে কানাইপুরে নিয়ে আসা হয়। সন্ধ্যে থেকে পুলিসি নিরাপত্তার চাদরে কানাইপুরকে মুড়ে দেওয়া হয়েছিল। মরদেহ আনার পরে রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী, হুগলি জেলা পরিষদের মেন্টর সুবীর মুখোপাধ্যায়, ব্লক সভাপতি নিখিল চক্রবর্তী সহ নেতৃত্বরা সেখানে গিয়েছিলেন।

Advertisement

স্নেহাশিসবাবু বলেন, মর্মান্তিক ঘটনা। দুষ্কৃতীরা দ্রুত ধরা পড়ুক, সেটাই চাইব। সুবীরবাবু বলেন, হুগলিতে দীর্ঘসময় রাজনৈতিক নেতার উপরে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেনি। ওই পঞ্চায়েত সদস্য পরোপকারী ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক কর্মী ছিলেন। খুনের কার্যকারণ সহ অপরাধীরা প্রকাশ্যে আসুক, সেটাই চাইব। চন্দননগর কমিশনারেটের পুলিস কমিশনার অমিত পি জাভালাগি বুধবার রাতে নিজেই তদন্তে এসেছিলেন। কমিশনারেটের আরেক পুলিস কর্তা অর্ণব বিশ্বাস বলেন, তদন্ত চলছে। আমরা কিছু সূত্র পেয়েছি। অপরাধীকে দ্রুত ধরা হবে।
প্রসঙ্গত, বুধবার রাতে নিজের এলপিজি গ্যাস সরবরাহের অফিসে ছিলেন পিন্টুবাবু। সেখান থেকে বাইক নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর উপরে ধারাল অস্ত্র নিয়ে হামলা করে দুষ্কৃতীরা। তাঁকে এলোপাথাড়ি কোপে রক্তাক্ত করে দেওয়া হয়। তাঁর একটি হাতও কেটে দেওয়া হয়েছিল। ওই নেতার উপর কারও আক্রোশ যে চরম আকার নিয়েছিল, আক্রমণের ধরনই তার প্রমাণ বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। রাতেই তাঁকে কলকাতার মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু তাঁকে বাঁচানো যায়নি। রাত ১০টা নাগাদ তিনি মারা যান। মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করে বৃহস্পতিবার রাতে তা কানাইপুরে ফিরিয়ে আনা হয়। দাপুটে, পরোপকারী নেতার মৃত্যুতে এলাকা শোকসন্তপ্ত হয়ে পড়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ