Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চুরির পর বেড়ে যায় ওজন, অষ্টধাতুর দুর্গামূর্তি পুকুরে ফেলে পালায় দুষ্কৃতীরা

কয়েক লক্ষ টাকার অষ্টধাতুর দুর্গামূর্তি চোরেরা চুরি করে নিয়ে পালায়। মাঝপথে মায়ের মূর্তি এতটাই ভারী হয়ে ওঠে যে, পুকুরে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় দুষ্কৃতীরা।

চুরির পর বেড়ে যায় ওজন, অষ্টধাতুর দুর্গামূর্তি পুকুরে ফেলে পালায় দুষ্কৃতীরা
  • ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: কয়েক লক্ষ টাকার অষ্টধাতুর দুর্গামূর্তি চোরেরা চুরি করে নিয়ে পালায়। মাঝপথে মায়ের মূর্তি এতটাই ভারী হয়ে ওঠে যে, পুকুরে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় দুষ্কৃতীরা। পরে পুকুর থেকে সেই মূর্তি উদ্ধার করে পুজো করা হয়। প্রায় সাড়ে চারশো বছরের পুরনো রঘুনাথগঞ্জ মির্জাপুরের অষ্টধাতুর মা দুর্গার এই মাহাত্ম্যের কথা লোকমুখে গোটা বাংলায় ছড়িয়ে পড়ে। এই দেবী রাজরাজেশ্বরী দুর্গা নামে খ্যাত। দীর্ঘকাল ধরে বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার এই পুজো চালিয়ে আসছে। আর্থিক অনটনের জেরে পুজোর জৌলুস কমলেও আচার ও রীতিতে কোনওরকম পরিবর্তন ঘটেনি। বছরের প্রতিটি দিন মায়ের নিত্যপুজো সম্পন্ন করেন বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার। 

Advertisement

দুর্গাপুজো উপলক্ষ্যে বিশেষ পুজোর পাশাপাশি বিশেষ ভোগেরও আয়োজন করা হয়। মহালয়ার রাতে মায়ের অঙ্গরাগ করানো হয়। মহালয়ার পরের দিন, অর্থাৎ প্রতিপদে ঘট ভরার পর শুরু হয়ে যায় মা রাজরাজেশ্বরী দুর্গার পুজো। প্রত্যেকদিনই মাকে অন্নভোগের সঙ্গে মাছের ভোগও দেওয়া হয়। অষ্টমীর দিন মায়ের ভোগে থাকে ফল, মিষ্টি, লুচি এবং নিরামিষ তরকারি, পাঁচ রকম ভাজা।
পরিবারের সদস্য সেবাইত শুভঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, পুজোর জৌলুস হারালেও নিয়ম-নিষ্ঠায় কোনও ত্রুটি হয় না। বিগত দিনে মা রঘুনাথগঞ্জের পাচনপাড়ায় বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের পুরনো ভিটেতেই পূজিতা হতেন। পরবর্তীতে নানা অসুবিধার কারণে সেখান থেকে মাকে মির্জাপুরে নিয়ে আসা হয়েছে। 
তিনি আরও বলেন, অষ্টধাতুর এই বৃহৎ প্রতিমার সুরক্ষার প্রতি প্রশাসনেরও নজর থাকে। বছর পঞ্চাশ আগের ঘটনা, শুনলে আজও গায়ে কাঁটা দেয়। মির্জাপুরে কয়েকজন অসাধু ব্যক্তি মন্দির থেকে মায়ের মূর্তি চুরি করে নিয়ে যায়। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। হঠাৎ করে মা ভীষণ ভারী হয়ে গিয়েছিলেন। উপায় না দেখে মাঝপথে গ্রামের সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি পুকুরেই মাকে ফেলে দিয়ে দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যায়। সকাল হতেই গ্রামে চুরির খবর ছড়িয়ে পড়ে। আমার বাবা ও পরিবারের একাধিক সদস্য থানায় অভিযোগ দায়ের করার কথা চিন্তাভাবনা করেন। হঠাৎ খবর আসে, মাঠে গোরু চরাতে গিয়ে কয়েকজন রাখাল যুবক ঠাকুরের ফুল, গয়না ও মায়ের হাতের শাঁখা পড়ে থাকতে দেখেন। সেই দেখে পাশের পুকুর থেকে সন্ধান করে মাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে এসে প্রতিষ্ঠা করা হয়। সেই থেকে মায়ের মাহাত্ম্য আরও ছড়িয়ে পড়ে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ