Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুলিসের গাড়িতেই ধাক্কা দুষ্কৃতীদের, জখম এএসআই সহ ২, গ্রেপ্তার ৩

পুলিসকে দেখে গাড়িতে চড়ে দ্রুত গতিতে পালানোর চেষ্টা করেছিল দুষ্কৃতীরা। পুলিস গাড়ি নিয়ে তাদের পিছু ধাওয়া করে।

পুলিসের গাড়িতেই ধাক্কা দুষ্কৃতীদের, জখম এএসআই সহ ২, গ্রেপ্তার ৩
  • ২৯ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: পুলিসকে দেখে গাড়িতে চড়ে দ্রুত গতিতে পালানোর চেষ্টা করেছিল দুষ্কৃতীরা। পুলিস গাড়ি নিয়ে তাদের পিছু ধাওয়া করে। দুষ্কৃতীদের ধরতে লাগোয়া থানার সাহায্যে রাস্তার উপর গার্ডরেল ও গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখে। কিন্তু দুষ্কৃতীদের গাড়ি সেসব উড়িয়ে দিয়ে একটি গাছে গিয়ে ধাক্কা মারে। পরে সেখানে গাড়ি ফেলে চম্পট দেয় তারা। ঘটনায় জখম হন এক এএসআই এবং ওসির গাড়ির চালক। অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচেন ওসি। এটি কোনও সিনেমার গল্প নয়, বাস্তবে এমনই ঘটনা ঘটেছে তারাপীঠে। তবে পালিয়েও শেষরক্ষা হয়নি। হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে এসেই পুলিসের জালে ধরা পড়ে ওই তিন দুষ্কৃতী। 

Advertisement

শুক্রবার রাত তখন আড়াইটে। মাড়গ্রাম থানায় হাজমপাড়া থেকে একটি ফোন আসে। বলা হয়, ঘরের দরজা ভাঙছে কয়েকজন। তাদের সঙ্গে একটি বোলেরো গাড়ি আছে। সেইমতো পুলিসের টহলদারি ভ্যান সেখানে যেতেই তিন দুষ্কৃতী গাড়িতে চেপে দ্রুত গতিতে পালিয়ে যায়। পুলিসের গাড়িও পিছু ধাওয়া করে। খবর পেয়ে মাড়গ্রাম ওসি পাশের তারাপীঠ থানার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর ওসি জাহিদুল ইসলাম, তারাপীঠ থানার এএসআই চন্দন মণ্ডল ও অন্যান্য পুলিস কর্মীদের নিয়ে তারাপীঠের বেসিক মোড়ে একটি গার্ডরেল ও গাড়ি দাঁড় করিয়ে নাকাচেকিং শুরু করে। নাকাচেকিং দেখে দুষ্কৃতীদের গাড়ি আরও গতিবেগ বাড়িয়ে গার্ডরেলকে ধাক্কা মেরে উড়িয়ে দিয়ে চলে যায়। ছিটকে রাস্তায় পড়েন এএসআই। অন্যদিকে গার্ডরেলের ধাক্কায় পা ভেঙে যায় মাড়গ্রাম ওসির গাড়ির চালক রাজেশ শেখের। রাস্তার অন্যদিকে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণে বাঁচেন ওসি। এদিকে চালক যন্ত্রণায় রাস্তায় পড়ে কাতরাতে থাকেন।  এরই মধ্যে দুষ্কৃতীদের গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে একটি চায়ের দোকান ও পরে একটি গাছে ধাক্কা মারে। তড়িঘড়ি গাড়ি থেকে নেমে দৌড়ে রাতের অন্ধকারে মিশে যায় তিন দুষ্কৃতী। মাড়গ্রাম ওসি জখম এএসআই ও চালককে উদ্ধার করে নিজে গাড়ি চালিয়ে রামপুরহাট মেডিক্যালে নিয়ে আসেন।  চালক গুরুতর জখম হওয়ায় তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যালে রেফার করা হয়। যদিও পুলিসের পক্ষ থেকে তাঁকে রামপুরহাটের একটি নাসিংহোমে ভর্তি করা হয়েছে। 
পুলিস তখনই নিশ্চিত হয়েছিল যে, দুষ্কতীদের গাড়ি যেভাবে গাছে ধাক্কা মেরেছে তাতে তারাও জখম হয়ে থাকতে পারে। তারা চিকিৎসার জন্য আসলে যাতে পুলিসকে জানানো হয়। সেইমতো মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে রাখে। এরই ম঩ধ্যে ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ তিনজন মেডিক্যালে রক্তাক্ত অবস্থায় চিকিৎসার জন্য আসে। খবর পেয়ে পুলিস এসে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। 
পুলিসের দাবি, প্রথমে ওই তিনজন বলে টোটো ধাক্কা মেরেছে। বাড়ি মুরারইয়ের রাজগ্রামে। ঠিক তখনই হাজমপাড়া থেকে ওসিকে ফোন করে জানায়, তাঁদের মেয়ে রাজগ্রামের শ্বশুরবাড়ি থেকে চলে এসেছে। সেজন্য জামাই দুই বন্ধুকে নিয়ে মেয়েকে জোর করে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যেতে এসেছিল। রাজগ্রাম শুনে পুলিস ওই তিনজনকে জেরা শুরু করে। অবশেষে তারা ভেঙে পড়ে কুকীর্তি স্বীকার করে। এরপরই পুলিস তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। বাজেয়াপ্ত করা হয় গাড়িটি। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতরা হল, তামিম হোসেন, রবিউল শেখ ও সঞ্জয় রবিদাস। এরমধ্যে রবিউল গাড়ির চালক। 
এই ঘটনায় মাড়গ্রাম ওসি নিজে তারাপীঠ থানায় ওই তিনজনের নামে এফআইআর দায়ের করেন। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতদের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, সরকারি কাজে বাধা সহ একাধিক ধারা যুক্ত করে মামলা শুরু হয়েছে। ধৃতদের শনিবার আদালতে তোলা হয়। সরকারি আইনজীবী মনিরুল ইসলাম বলেন, বিচারক ৫ জুলাই পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ