Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বোলপুরের শিবমন্দির থেকে প্রণামির তিনটি বাক্স নিয়ে পালাল দুষ্কৃতীরা

বোলপুরের শিবমন্দির থেকে প্রণামির  তিনটি বাক্স নিয়ে পালাল দুষ্কৃতীরা
  • ৭ মার্চ, ২০২৫ ১০:০৩
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: বোলপুরের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শিবমন্দির সুরথেশ্বরতলায় ভয়াবহ চুরির ঘটনা ঘটল বৃহস্পতিবার। দুষ্কৃতীর দল মন্দিরের বেশ কয়েকটি প্রণামির বাক্স লুট করে চম্পট দেয়। প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা চুরি গিয়েছে বলে মন্দির কমিটির দাবি। দিন কয়েক আগেই ঘটা করে শিবরাত্রি উদযাপন হয় এই মন্দিরে। এই উপলক্ষ্যে সেখানে মহোৎসব ও মেলার আয়োজন করা হয়েছিল। তাতে হাজার হাজার ভক্তের সমাগম হয়েছিল। স্বভাবত মন্দিরে ভালোই প্রণামি ও দক্ষিণা পড়েছিল বলে দাবি মন্দিরের সেবায়তদের। সেই প্রণামির তিনটি বাক্স মন্দির থেকে চুরি যায়। বিষয়টি জানাজানি হতেই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ‌সুরথেশ্বর শিবমন্দির তত্ত্বাবধায়ক কমিটির অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বোলপুর থানার পুলিস।

Advertisement

প্রসঙ্গত, বোলপুর মহকুমায় যে ক’টি মন্দির রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম প্রাচীন শিবপুর মৌজার সুরথেশ্বরতলা। এই মন্দিরের অনেক প্রাচীন ইতিহাস রয়েছে। রাজা সুরথ এই মন্দিরে শিবের উপাসনা শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে ধুমধাম করে দুর্গাপুজোর আয়োজন করেন স্থানীয় রায়পুর ও সুপুর গ্রামের বাসিন্দারা। তবে, বর্তমানে সুরথেশ্বর শিবমন্দির তত্ত্বাবধায়ক কমিটির সদস্যরা মন্দিরকে সংস্কার করার পাশাপাশি শিবের আরাধনা নিয়মিত করে আসছেন। সেজন্য ফি বছর শিবরাত্রি ও শ্রাবণ মাস উপলক্ষ্যে মন্দিরটিতে হাজার হাজার পুণ্যার্থীর সমাগম হয়। ইতিহাস থেকে জানা গিয়েছে, বর্তমানে যে মন্দিরটি রয়েছে, তা আগে জৈনদের তীর্থস্থান ছিল। পরবর্তীতে তাদের প্রভাব কমলে একাদশ শতকে রাজা সুরথ সেখানে শিবমন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। ফলে এই মন্দিরের যথেষ্ট ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। তবে শহরে এক পাশে থাকলেও কোনও রকম পুলিসি নিরাপত্তা নেই বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। মন্দিরে একজন কেয়ারটেকার থাকলেও তিনি তন্দ্রাচ্ছন্ন ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এই সুযোগকেই কাজে লাগায় দুর্বৃত্তরা। রাতের অন্ধকার ও নির্জনতাকে সুযোগ লাগিয়ে দুষ্কৃতীরা কার্যত অবাধে লুটপাট চালায়। সকাল হতেই সেই চুরির খবর প্রকাশ্যে আসে। 
এই ঘটনায়, কমিটির সভাপতি দীনবন্ধু সিংহ বলেন, মন্দিরের লোহার গেট ভেঙে প্রধান প্রণামির বাক্স নিয়ে চম্পট দিয়েছে দুষ্কৃতীর দল। এছাড়া মন্দিরের ভিতরে থাকা অন্যান্য দান বাক্সগুলিকে ভেঙে টাকা লুট করা হয়েছে। তবে বাসনপত্র বা অন্যান্য কোনও সামগ্রী চুরি যায়নি। তার থেকে বোঝা যায়, টাকা চুরিই দুর্বৃত্তদের প্রধান লক্ষ্য ছিল। আনুমানিক ৫০-৬০ হাজার টাকা লুট করা হয়েছে। এই ঘটনায় মন্দিরে যাতায়াতকারী চেনাজানা লোকেরাই জড়িয়ে আছে বলে আমাদের অনুমান। প্রণামির যে বাক্সটি খোয়া গিয়েছে, তা অত্যন্ত ভারী ছিল। তাই কমপক্ষে দুই থেকে তিনজন এই চুরির সঙ্গে যুক্ত বলে আমাদের ধারণা। থানায় অভিযোগ জানানো হয়েছে। তার প্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিস।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ