সংবাদদাতা, নকশালবাড়ি: ফের এটিএমে হানা দুষ্কৃতীদের। এবার শহরের বাইরে গ্রামীণ এলাকাকে টার্গেট করল দুষ্কৃতীরা। স্বাধীনতা দিবসের দু’দিন আগে বুধবার গভীর রাতে শিলিগুড়ি মহকুমার খড়িবাড়ি ব্লকের ভাল্লুকগাড়ায় বেসরকারি এটিএম লুটের চেষ্টা করে দুষ্কৃতীরা। লোহার রড দিয়ে মেশিন ভাঙলেও টাকা নিয়ে যেতে পারেনি। প্রাথমিক তদন্তে বিহারের দুষ্কৃতী গ্যাং এর সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ পুলিসের।
খড়িবাড়ির উপর দিয়ে যাওয়া ৩২৭ নম্বর বাংলা-বিহার সড়ক ঘেঁষে রয়েছে একটি বেসরকারি সংস্থার এটিএম। প্রত্যক্ষদর্শী এক ডাম্পার চালক জানান, রাত ২টো নাগাদ বিহার নম্বরের একটি গাড়ি এটিএম কাউন্টারের সামনে এসে দাঁড়ায়। গাড়ি থেকে চার জন নামে। তাদের হাতে লোহার রড ছিল। সেটা দিয়ে এটিএম ভেঙে ফেলে। মিনিট ১৩ এটিএম কাউন্টারের ভিতরে দুষ্কৃতীরা টাকা লুটের চেষ্টা চালায়।
এরপর ডাম্পার চালক স্থানীয় চা পাতা ব্যবসায়ী তন্ময় মণ্ডলকে জানালে তিনি রাস্তায় বের হতেই দুষ্কৃতীরা গাড়িতে উঠে চম্পট দেয়। পরে তন্ময়ই খড়িবাড়ি থানায় খবর দিলে পুলিস কিছুক্ষণের মধ্যেই চলে আসে। তন্ময় বলেন, ডাম্পার চালক বিষয়টি আমাকে জানান। এরপর তিনি এবং আমি এটিএমের দিকে এগিয়ে যেতেই দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যায়। তবে পুলিস এসে এটিএম পরীক্ষা করে জানিয়েছে, দুষ্কৃতীরা মেশিনটি ভাঙলেও টাকা নিয়ে যেতে পারেনি।
ওই এটিএমের স্থানীয় ফ্র্যাঞ্চাইজির পক্ষে নিরঞ্জন মণ্ডল বলেন, বুধবার সন্ধ্যায় প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা এটিএমে রাখা হয়েছে। রাত দু’টো নাগাদ মেশিনটি ভাঙা হয়। দুষ্কৃতীরা এটিএমের ভল্ট খুলতে পারেনি। তাই কোনও টাকাও নিতে পারেনি। তবে, মেশিনটির মারাত্মক ক্ষতি করেছে। পুলিসকে সবটাই লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
এনিয়ে অতিরিক্ত পুলিস সুপার অভিষেক রায় বলেন, এটিএম লুটের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তবে সেটি নষ্ট করা হয়েছে। ওই রাতে এটিএমের সামনে আসা গাড়িটি চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে সাদা রঙের একটি গাড়ি শনাক্ত করা গিয়েছে। খবর পাওয়ার চার মিনিটের মধ্যে আমাদের টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। আশা করছি, দুষ্কৃতীরা দ্রুত ধরা পড়বে।
সম্প্রতি শিলিগুড়িতে পরপর দু’টি এটিএম লুট করে দুষ্কৃতীরা। একটি চম্পাসারি, অপরটি ইস্টার্ন বাইপাস এলাকায়। ওই দু’টি ঘটনার পর শহরের এটিএমে এবং রাতে পুলিসের টহল বাড়তেই সম্ভবত দুষ্কৃতীদের নজর পড়ে গ্রামীণ এলাকা। এমন অবস্থায় মহকুমার গ্রামাঞ্চলের ব্যবসায়ীরা পুলিসি নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। স্থানীয় এক মুদিখানা ব্যবসায়ী বিমলচন্দ্র বর্মন বলেন, পুলিসের টহলদারি গ্রামীণ এলাকায় বাড়ানো উচিত।
এএসপি জানিয়েছেন, ব্যাংক ও এটিএম ফ্র্যাঞ্চাইজিদের নিয়ে থানা ভিত্তিক বৈঠক করা হবে। এটিএমের সুরক্ষার জন্য নিরাপত্তারক্ষী রাখার আবেদন জানানো হবে।