সঞ্জয় সরকার, কলকাতা: সালটা ২০১৭। মিডফিল্ডারের খোঁজে ইস্ট বেঙ্গল ক্লাবের হয়ে কেরলে গিয়েছিলেন আলভিটো ডি’কুনহা ও ষষ্ঠী দুলে। সেখানে অফিস লিগের ম্যাচে জবি জাস্টিনকে চোখে পড়ে দুই লাল-হলুদ প্রাক্তনীর। ক্লাবের শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকারের সবুজ সংকেত মিলতেই তরুণ স্ট্রাইকার সহ গোলরক্ষক মিরশাদ মিচুকে সঙ্গে নিয়ে শহরে ফেরেন আলভিটোরা। লাল-হলুদ জার্সিতে অভিষেকেই গোল করে ভরসা জোগান জবি। তবে প্রথম একাদশে জায়গা পেতে আর এক কেরালাইট গোলরক্ষক উবেদ সিকের সঙ্গে চলে মিরশাদের সুস্থ প্রতিযোগিতা।
ইস্ট বেঙ্গল জার্সিতে প্রথম মরশুমে আই লিগে খুব একটা ভালো খেলতে পারেননি জবি। তাঁর নামের পাশে ছিল মাত্র দু’টি গোল। আসলে পরিবার ছেড়ে ভিন রাজ্যে এসে মানিয়ে নিতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছিল এই কেরলাইট স্ট্রাইকারের। তার উপর কেরল ইলেকট্রিসিটি বোর্ডের সরকারি চাকরি ছেড়ে ছেলে পেশাদার ফুটবলে নাম লেখানোয় খুশি ছিলেন না জবির বাবাও। যাবতীয় প্রতিকূলতা দূরে সরিয়ে ক্রমশ নিজেকে মেলে ধরেন তিনি। ২০১৮-১৯ মরশুমে আলেজান্দ্রোর প্রশিক্ষণে কলকাতা ময়দানে প্রতিষ্ঠা পান জবি। সেবার আই লিগে দু’টি ডার্বিতেই গোল ছিল তাঁর। আর লিগে মোট ন’বার প্রতিপক্ষের জাল কাঁপান। এই প্রসঙ্গে জবি বলেন, ‘সরকারি চাকরি ছেড়ে কলকাতায় খেলতে আসার সিদ্ধান্তটা সহজ ছিল না। তবে ওই সময় বিজয়ন স্যার খুব সাহায্য করেছিলেন। আর ইস্ট বেঙ্গলে যোগ দেওয়ার পর কখনও মানিয়ে নিতে সমস্যা হয়নি। সমর্থকরা ভালোবাসায় ভরিয়ে দিয়েছিলেন। আজও তা একইরকম রয়েছে।’
বুধবার জবির জয়সূচক গোলেই ডুরান্ড কাপে স্বপ্নভঙ্গ ঘটে ইস্ট বেঙ্গলের। পুরানো দলের বিরুদ্ধে জাল কাঁপিয়ে কোনওরকম সেলিব্রেশনের পথে হাঁটেননি তিনি। এই প্রসঙ্গে জবি বলেন, ‘এখন আমি ডায়মন্ডহারবার এফসি’র ফুটবলার। তবে আমার কেরিয়ারে ইস্ট বেঙ্গলের অবদান ভোলার নয়। তাই আগেই ঠিক করেছিলাম, গোল করলে কোনওরকম উচ্ছ্বাস দেখাব না।’
শনিবার ডুরান্ড কাপ ফাইনালে ডায়মন্ডহারবার এফসি প্রতিপক্ষ গতবারের চ্যাম্পিয়ন নর্থইস্ট ইউনাইটেড। গতবার পাহাড়ি দলটিতে ছিলেন মিরশাদ। তবে ফাইনালে দলে জায়গা হয়নি। এবার অবশ্য প্রাক্তন দলের বিরুদ্ধে জিতে ডায়মন্ডহারবারকে ট্রফি এনে দেওয়াই লক্ষ্য এই কেরালাইট গোলরক্ষকের। বললেন, ‘নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে দল এগচ্ছে। ইতিমধ্যেই আমরা আই লিগের মূলপর্বের যোগ্যতা অর্জন করেছি। তবে এখন শুধুই লক্ষ্য ডুরান্ড কাপ ট্রফি জেতা। সেই মতো সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপাব।’