Bartaman Logo
৩ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

মিরাকল! ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপে আট দিন আটকে থাকার পর জীবিত উদ্ধার নিরাপত্তারক্ষী

ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পের পর ৮ দিন ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা নিরাপত্তারক্ষীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এই মানবিক সাফল্যের খবরটি জানতে পড়ুন।

মিরাকল! ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপে আট দিন আটকে থাকার পর জীবিত উদ্ধার নিরাপত্তারক্ষী
  • ৩ জুলাই, ২০২৬ ১১:১১
Prefer us on Google

কারাকাস, ৩ জুলাই: ‘আমার স্ত্রীকে এখনই জানাবেন না যে আমি বেঁচে আছি, যদি শেষ পর্যন্ত আমাকে উদ্ধার করা না যায়?’ উদ্ধারকারীদের অবেগভরা কন্ঠস্বরে আর্জি এক ব্যাক্তির।  কথাতেই আছে ‘বিধাতার লিখন কেউ খণ্ডাতে পারেনা’ আর তারই এক চিত্র ধরা পরল ভেনেজুয়েলায়। ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর কেটে গিয়েছে প্রায় ৮ দিন। তার মধ্যেই ১৪০ টন কংক্রিটের ধ্বংসস্তূপের নিচে টানা আট দিন আটকে ছিলেন এক নিরাপত্তারক্ষী। অবশেষে জীবিতই উদ্ধার হলেন ৪৩ বছর বয়সি নিরাপত্তারক্ষী হার্নান আলবার্তো গিল ফ্লোরেস। এমনই এক বেনজির ঘটনায় হতবাক সবাই। শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর এই উদ্ধার অভিযানকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এক বিরল মানবিক সাফল্যের নজির। দীর্ঘ ১০০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা কঠিন উদ্ধার অভিযানের পর বৃহস্পতিবার তাঁকে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে নিরাপদে বের করে আনেন উদ্ধারকারীরা।

Advertisement

স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম সূত্রের খবর, মিকম্পে ধসে পড়া একটি শপিং মলের বেসমেন্টে আটকে ছিলেন তিনি। ধসে পড়া বিশাল কংক্রিটের স্তূপ, ভারী বৃষ্টিপাত এবং একের পর এক আফটারশকের মধ্যেও উদ্ধারকারীরা অভিযান চালিয়ে যান। অবশেষে বহু বাধা অতিক্রম করে তাঁকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। উদ্ধারের সময় গিল ফ্লোরেসকে ধুলোমাখা অবস্থায় স্ট্রেচারে করে বাইরে আনা হয়। তাঁর মুখে অক্সিজেন মাস্ক এবং শরীর একটি কমলা রঙের ত্রিপল দিয়ে ঢাকা ছিল। ঘটনাস্থলেই চিকিৎসাকর্মীরা তাঁর শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করেন, এরপর দ্রুত অ্যাম্বুল্যান্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। 

কোস্টা রিকার রেড ক্রসের এক উদ্ধারকর্মী জানান, তাঁকে যখন উদ্ধার করা হয় তখন উদ্ধারকর্মীদের একটি অনুরোধ করেছিলেন গিল। তিনি বলেছিলেন, ‘আমার স্ত্রীকে এখনই জানাবেন না যে আমি বেঁচে আছি, যদি শেষ পর্যন্ত আমাকে উদ্ধার করা না যায়?’ তবে উদ্ধারকারীরা তাঁকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে কোনও অবস্থাতেই তাঁকে ফেলে রেখে যাওয়া হবে না, ঠিক তাকা জীবিতভাবেই উদ্ধার করা হবে। 

জানা গিয়েছে, ভূমিকম্পের রাতে তিনি শপিং মলে নিরাপত্তারক্ষীর দায়িত্বে ছিলেন। প্রথম কম্পন অনুভূত হওয়ার পর মুহূর্তের মধ্যেই চারপাশের কংক্রিটের কাঠামো ভেঙে পড়ে। তবে সৌভাগ্যবশত, তিনি একটি ছোট ঘরে ছিলেন সেটি সম্পূর্ণ ধসে পড়েনি। বরং ওই ঘরটিই তাঁকে পড়ন্ত ধ্বংসাবশেষের আঘাত থেকে রক্ষা করে এবং ভেতরে সামান্য বাতাস চলাচলের জায়গা তৈরি হওয়ায় তিনি দীর্ঘ সময় জীবিত থাকতে সক্ষম হন। 

উল্লেখ্য, গত বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ছ’টায় মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে জোড়া ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে ভেনেজুয়েলা। প্রথমটির তীব্রতা ৭.২ মাত্রার। দ্বিতীয়টি আরও শক্তিশালী, রিখটার স্কেলে মাত্রা ৭.৫। পরপর এই দুই শক্তিশালী ভূমিকম্পে কার্যত লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় ভেনেজুয়েলার একাংশ। প্রথম কম্পনটির কেন্দ্র ছিল কারাকাস থেকে প্রায় ১৭০ কিমি দূরে ক্যারিবিয়ান উপকূলে অবস্থিত মোরনের পশ্চিমে, ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ২২ কিলোমিটার গভীরে। দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে কেন্দ্র ছিল মোরনের ১৬ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে, ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। দু’ক্ষেত্রেই ভূপৃষ্ঠের খুব কাছাকাছি কেন্দ্র হওয়ায় এটি ‘শ্যালো ভূমিকম্পে’র রূপ নেয়। ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। মৃতের সংখ্যা হাজারের গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ