কিয়েভ: খড়কুটোর পাশাপাশি বাসা তৈরিতে ব্যবহার হয়েছে ফাইবার অপটিক কেবল। রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রের একাধিক এলাকায় পাখির বাসার নমুনা দেখে রীতিমতো চক্ষু চড়কগাছ বিজ্ঞানীদের। এধরনের দুটি পাখির বাসা গবেষণার জন্য নিয়ে আসা হয়েছে ইউক্রেনের ওয়ার মিউজিয়ামে। চলছে গবেষণা। ওয়াকিবহাল মহলের অনুমান, ৪ বছর ধরে চলা এই যুদ্ধের প্রভাব পশুপাখিদের উপরও পড়ছে। পাখিদের জীবনযাপনে এই পরিবর্তন থেকে এব্যাপারে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধে প্রচুর পরিমাণে ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতিপক্ষের জ্যামার যাতে ড্রোন নিষ্ক্রিয় করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে অভিনব উপায় অবলম্বন করেছে দু’পক্ষই। ওয়্যারলেস সিস্টেমের বদলে ড্রোনের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে সরু সুতোর মতো ফাইবার অপটিক কেবল। এই বিশেষ তারের সাহায্যেই ড্রোনগুলিকে নির্দেশ পাঠানো হচ্ছে। এই কেবলগুলি ২০ কিলোমিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে।
ধ্বংসাবশেষ হিসাবে যুদ্ধক্ষেত্রের ১২০০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে লক্ষ লক্ষ কিলোমিটার ফাইবার অপটিক কেবল। বাড়ির ছাদ, গাছ, পার্ক সর্বত্র ছড়িয়ে রয়েছে কাঁচের সুতোর মতো এই কেবলগুলি। পরিস্থিতি এমনই যে, রৌদ্রজ্জ্বল দিনে উপর থেকে দেখলে মনে হবে দানবাকৃতি কোনো মাকড়শার জালে ঢেকে গিয়েছে গোটা এলাকা। কিয়েভ ওয়ার মিউজিয়ামের গবেষক ইয়ানা হায়রানকো বলেছেন, এই অপটিক কেবলগুলি দিয়ে বাসা গড়েছে পাখিরা। ঘাস ও কেবল দিয়ে তৈরি এই বাসাগুলির অনেক বেশি মজবুত।
কৃত্রিম উপাদান দিয়ে বাসা তৈরির প্রবণতা সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ জীববিজ্ঞানী ইউক ফ্লোরিয়ান হেইমস্ট্রা রয়টার্সকে বলেছেন, ‘পাখির বাসার ডিএনএ টেস্ট হবে। এতে বোঝা যাবে কোন প্রজাতির পাখি এই বাসাগুলি তৈরি করেছে। পাখিদের অনেক ধরনের বাসা দেখেছি। কিন্তু ফাইবার অপটিক কেবল দিয়ে তৈরি বাসা এর আগে দেখিনি।’